১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন সেপ্টেম্বরে

আগামী ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- বলেছেন, সিরিয়ার গণপরিষদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চকমিটির চেয়ারম্যান।

আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন সেপ্টেম্বরে
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ছবি: রয়টার্স।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2025, 07:36 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:28 PM

প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সেপ্টেম্বরে।

সিরিয়ার গণপরিষদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চকমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাহা আল-আহমাদ রোববার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা-কে জানিয়েছেন,আগামী ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত বছর ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের ঝড়ো অভিযানে পতন হয় সিরিয়ার সেই সময়কার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর সিরিয়ায় নতুন শাসকদের অধীনে এটিই হতে চলেছে প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন।

 নবগঠিত ২১০ আসনের পার্লামেন্টের এক-তৃতীয়াংশ আসনে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সরাসরি নিয়োগ দেবেন। বাকি আসনগুলোতে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিটির আরেক সদস্য হাসান আল-দাঘিম সম্প্রতি এরেম নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রতিটি প্রদেশে একটি করে ইলেকটোরাল কলেজ গঠন করা হবে,যারা নির্বাচিত আসনগুলোতে ভোট দেবেন।

বিভক্তি বাড়ছে:

এবছর মার্চে আহমদ আল-শারার সই করা অন্তর্বর্তী সংবিধানে একটি ‘পিপলস কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়, যা একটি স্থায়ী সংবিধান গৃহীত হওয়া এবং সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী পার্লামেন্ট হিসাবে কাজ করবে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, সিরিয়ায় এমন সময় নির্বাচনের ঘোষণা এল, যখন দামেস্কের নতুন শাসকদের নিয়ে দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে বিভক্তি বাড়ছে। বিশেষ করে এ মাসের শুরুতে সুইদা প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

সুইদা প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পর সিরিয়ায় নাজুক উত্তেরণ প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ার হুমকিতে আছে।

সুইদায় সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল সশস্ত্র বেদুইন গোষ্ঠী ও দ্রুজ ধর্মীয় সংখ্যালঘু যোদ্ধাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পরে সরকারি বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলে এই সংঘর্ষে হস্তক্ষেপ করে।

তবে বাস্তবে তারা বেদুইন গোষ্ঠীর পক্ষ নিয়েছিল। সরকারি সেনাদের কেউ কেউ সাধারণ দ্রুজ নাগরিকদের হত্যা করে এবং বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি লুটপাটও চালায়।

ওই সময় দ্রুজদের রক্ষা করার কথা বলে ইসরায়েল সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনে বিমান হামলা চালায়।