Published : 29 Mar 2026, 12:25 AM
ইসরায়েলের তেল আবিব এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত একজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেডে ক্লাস্টার বোমা থাকায় সেটি বিস্তৃত একটি এলাকাজুড়ে আঘাত হেনেছে আর তাতে আরও অনেকে আহত হয়েছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় রাতে চালানো এ হামলাটি সেদিনের ষষ্ঠতম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল জানিয়েছেন টাইমস অব ইসরায়েল।
তেল আবিবে নিহত ব্যক্তি একজন নিরাপত্তা রক্ষী আর তার বয়স ৫২ বছর। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার সময় তিনি বোম্ব শেল্টারে ছিলেন না। যুদ্ধের প্রথমদিন তেল আবিবের এই একই এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৩২ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি নারী নিহত হয়েছিল।
প্রথমদিনের ওই হামলার পর তেল আবিবের ক্ষতিগ্রস্ত এই এলাকাটি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার নিহত নিরাপত্তা রক্ষী ওই বাসিন্দাদের খালি ভবনগুলো পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন।
ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার সময় ওই এলাকায় একমাত্র এই নিরাপত্তা রক্ষীই বোম্ব শেল্টারের বাইরে ছিলেন। ২০ মিটার দূরে পড়া বোমার একটি শার্পনেলের আঘাতে তিনি নিহত হন।
ইরান ইসরায়েল ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত হানতে তাদের অবশিষ্ট ড্রোন ও মিসাইলগুলো ব্যবহার করছে
আগের হামলার কারণে আগে থেকেই ওই এলাকাটি খালি থাকায় নতুন করে কোনো বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার দরকার হয়নি বলে জানিয়েছেন তেল আবিবের ডেপুটি মেয়র আসফ জামির।
ইসরায়েলের দমকল পরিষেবা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেড থেকে ছুড়ে আসা বোমা মোট ছয়টি এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
এর আগে একইদিন সন্ধ্যার দিকে দক্ষিণ ইসরায়েলের কুসেইফে বাধা দিয়ে ধ্বংস করা একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দুই ইসরায়েলি আহত হয়।
এরপর মধ্যারাতের পর থেকে শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল পর্যন্ত ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে আরও প্রায় ছয়বার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। মধ্যরাতের পরপর প্রথম হামলাটি চালানো হয় বিয়ারশিবা অঞ্চল লক্ষ্য করে। এরপর কয়েকটি ঘণ্টার মধ্যে দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে আরও অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
এগুলোর মধ্যে শনিবার বিকালে জেরুজালেম জেলার শহর এশতাওলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে প্রচলিত ওয়ারহেড ছিল আর সেটিতে কয়েকশ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক ছিল বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্রটিকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। কেন এমন হল তা তদন্ত করে দেখছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। উদ্ধারকারী বাহিনীগুলো জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির আঘাতে প্রায় ১৫০ মিটার ব্যাসার্ধের একটি এলাকার মধ্যে থাকা ভবন, ঘরবাড়ি ও পার্কিং লট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ও শনিবার রাতভর দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের সেনাদের লড়াই হয়েছে। এ লড়াইয়ে ৯ ইসরায়েলি সেনা আহত হয়। তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা গুরুতর।
শুক্রবার হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে প্রায় ২৫০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে বলে আইডিএফ জানিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। তারপর থেকে এক মাসের যুদ্ধে ইরান ইসরায়েল লক্ষ্য করে ৪৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে আইডিএফ জানিয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৯২ শতাংশ বাধা দিয়ে ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলের এয়ার ডিফেন্স।
এদিকে শনিবার ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বাহিনী ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে একধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কয়েকটি ঘণ্টা পর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আবার হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলায় কেউ হতাহত বা কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কোনো খবর হয়নি।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধে যোগ দিল হুতিরা, ইসরায়েলের দিকে ছুড়ল ক্ষেপণাস্ত্র