১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চীন ও পাকিস্তানকে মোকাবেলার জন্য ২০০ যুদ্ধজাহাজের নৌবহর গড়ার লক্ষ্য ভারতের

ভারতের নৌবাহিনীর বর্তমান জাহাজ সংখ্যা প্রায় ১৫০টি। এরমধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজের মতো সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ।

চীন ও পাকিস্তানকে মোকাবেলার জন্য ২০০ যুদ্ধজাহাজের নৌবহর গড়ার লক্ষ্য ভারতের
চলতি মাসে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া নীলগিরি-শ্রেণির ষষ্ঠ স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করছে। ছবি: ভারতীয় নৌবাহিনী

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 03:25 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

চীন বিশ্বের বৃহত্তম নৌবহর সম্প্রসারণ করছে আর পাকিস্তান চীনের নির্মিত অত্যাধুনিক আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ নিজেদের বহরে যুক্ত করেছে, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভারত আগামী ১০ বছরের মধ্যে নৌবাহিনীর জাহাজের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়েছে।   

এতে ভারত মহাসাগর বিষয়ে নয়া দিল্লির উদ্বেগ বৃদ্ধির বিষয়টি লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠেছে, জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।  

ওই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভারত চলতি মাসে তার নৌবাহিনীতে স্টেলথ ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মহেন্দ্রগিরি ও ডুবোজাহাজ শিকারি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভানকে যুক্ত করেছে। এই দুটি যুদ্ধজাহাজই ভারতে তৈরি। এগুলোকে এই প্রমাণ হিসেবে হাজির করা হয়েছে যে নয়াদিল্লি বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করেও নিজেদের নৌবহর বৃদ্ধি করতে সক্ষম।  

মহেন্দ্রগিরির নকশা করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো আর মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স ৭৫ শতাংশ স্থানীয় উপকরণ দিয়ে একটি তৈরি করেছে। এটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিরক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলিতে আত্মরক্ষা অর্জনের প্রচেষ্টাকে তুলে ধরেছে। 

ভারতীয় নৌবাহিনীর ডুবোজাহাজ শিকারি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান। ছবি: ডিডি ইন্ডিয়া 

ভারতীয় নৌবাহিনীর ডুবোজাহাজ শিকারি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান

এটি নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়া ষষ্ঠ নীলগিরি শ্রেণির জাহাজ। এই শ্রেণির সর্বশেষ যুদ্ধজাহাজ বিন্ধ্যাগিরি নামের সপ্তমটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হবে। আরও সাত থেকে আটটি ‘পরবর্তী প্রজন্মের’ যুদ্ধজাহাজ (যেগুলোর সাংকেতিক নাম প্রজেক্ট-১৭ ব্রাভো) ইতোমধ্যে অপেক্ষমাণ সারিতে আছে।      

ভারতের নৌবাহিনীর বর্তমান জাহাজ সংখ্যা প্রায় ১৫০টি। এরমধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজের মতো সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ বলে ধারণা করা হয়। আরও প্রায় ৫০টি নির্মাণাধীন আছে। 

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও বর্তমান প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্র বলেন, “যেহেতু এর বহর মূলত দেশীয়ভাবে তৈরি জাহাজ দিয়ে গঠিত হবে, তাই ২০৩৫ সালের মধ্যে নৌবাহিনীর ২০০ জাহাজের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনযোগ্য। উপযুক্ত উদ্দীপনা পেলে আমরা এই সংখ্যাটিও ছাড়িয়ে যেতে পারি।” 

মিশ্র বলেন, বর্তমান কৌশলগত প্রেক্ষাপটে ভারতের এখন স্থায়ীভাবে প্রস্তুত রাখার জন্য অন্তত দুটি অত্যন্ত গতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহর প্রয়োজন। তবে এই অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে আরও বেশি ও সহায়ক জাহাজের প্রয়োজন হবে।  

ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী। ছবি: অবজারর্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন

ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী

পরিস্থিতির দাবি মেটাতে ভারতীয় নৌবাহিনী জাহাজ অন্তর্ভুক্তির গতি বাড়িয়ে প্রতি ছয় সপ্তাহে বা তার কিছু বেশি সময়ে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ বহরে যুক্ত করছে। শুধু গত দেড় মাসেই তারা দেশীয় উপকরণ ও প্রযুক্তিতে তৈরি পাঁচটি জাহাজকে পরিষেবায় নামিয়েছে।   

২০৪৭ সালের মধ্যে যন্ত্রাংশসহ জাহাজ নির্মাণে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। 

২০৪৭ সালের মধ্যে যন্ত্রাংশ নির্মাণসহ জাহাজ নির্মাণে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করাই ভারতের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য।

তবে সমালোচকরা এই লক্ষ্য অর্জনের পথে থাকা বেশ কিছু বাধার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ভারত বর্তমানে খুব বেশি আমদানি করা বিশেষায়িত ইস্পাত ও অন্যান্য উপাদানসমূহের উপর নির্ভরশীল। এর পাশাপাশি দেশটির বিশৃঙ্খল অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইন ও পুরনো শিপইয়ার্ড অবকাঠামো লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে আছে।