১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ভূপাতিত’ পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের মডেলের নাম জানাল ভারত

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি পাকিস্তান।

‘ভূপাতিত’ পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের মডেলের নাম জানাল ভারত
ভারতের বিমান বাহিনী প্রধান অমর প্রীত সিং।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Oct 2025, 04:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:24 PM

মাস পাঁচেক আগে ভারত ও পাকিস্তান যে চরম উত্তেজনাকর সংঘাতে জড়িয়েছিল, তাতে এফ-১৬ ও জেএফ-১৭ মডেলের পাঁচটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল বলে দাবি করেছে ভারত।

রয়টার্স লিখেছে, ভারতের বিমান বাহিনী দিবসে উপলক্ষে শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন বাহিনী প্রধান অমর প্রীত সিং। তিনি এর আগেও পাঁচটি যুদ্ধবিমান এবং একটি সামরিক বিমান ধ্বংসের কথা বলেছিলেন। তবে এবারই প্রথম মডেলের নাম প্রকাশ করলেন।

অমর প্রীত সিং বলেন, “আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে, আমাদের কাছে একটি দূরপাল্লার হামলার প্রমাণ রয়েছে...পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তির এফ-১৬ ও জেএফ-১৭ ক্লাসের পাঁচটি যুদ্ধবিমান (ভূপাতিত করার) তথ্য আমাদের সিস্টেম দিচ্ছে।”

এফ-১৬ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি যুদ্ধবিমান, আর চীনের সহায়তায় জেএফ-১৭ তৈরি করেছে পাকিস্তান।

অমর প্রীতের দাবির বিষয়ে রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

সংঘাতের পর পাকিস্তান দাবি করেছিল, সংঘর্ষ চলাকালে তারা ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে, যার মধ্যে ফরাসি রাফালও রয়েছে। ভারত কিছু ক্ষতির কথা স্বীকার করলেও ছয়টি বিমান হারানোর দাবি অস্বীকার করে।

পাকিস্তানের দাবির বিষয়ে অমর প্রীত শুক্রবার কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারতে সাধারণ নাগরিকদের ওপর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় হামলা।

ওই হামলার ঘটনায় পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ভারতের দাবি, তারা যে চারজনকে পেহেলগাম হামলায় সন্দেহ করছে, তাদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানের নাগরিক।

উত্তেজনার মধ্যে ৭ মে ভারতীয় জঙ্গিবিমান পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালায়, আর সেই সব নিশানাকে ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ বলে বর্ণনা করে নয়া দিল্লি। 

এর জেরে জঙ্গিবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও কামান দিয়ে দুই দেশ পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়ায়, ১০ মে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত বহু প্রাণহানি ঘটে।

ভারত গত জুলাইয়ে বলেছে, হামলায় জড়িত তিন ‘সন্ত্রাসীকে’ মেরে ফেলা হয়েছে এবং তারা যে পাকিস্তানি তার ‘বিশদ প্রমাণ’ রয়েছে।

ভারতের এ বর্ণনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘বানোয়াট’ বলে মন্তব্য করে।

প্রতিবেশী দেশ দুটি তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটিই লড়েছে কাশ্মীর নিয়ে দ্বন্দ্বে। এসব যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাণিজ্য, ভ্রমণ থেকে শুরু করে খেলাধুলার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

সবশেষ সংঘাতের ঘটনায় ভারত একটি পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রেখেছে, যাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ বলে মনে করছে পাকিস্তান।