Published : 06 Feb 2026, 02:56 PM
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পর নয়া দিল্লি যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত চুক্তির দ্বারপ্রান্তে তখন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিসমৃদ্ধ ছয়টি দেশের সঙ্গেও ভারতের বাণিজ্য আলোচনা শুরুর খবর গণমাধ্যমে এসেছে।
এনডিটিভি লিখেছে, বাণিজ্য যুদ্ধ ও শুল্ক বাধা যখন বৈশ্বিক ব্যবসা-বিনিয়োগ যখন অনেকটাই স্থবির তখন উপগাসরের এ দেশগুলো ভারতের জন্য কৌশলগত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে হাজির হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার ছয়টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এখনই ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ব্লক। তাদের সাথে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনীতির মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ান এমনকী শীর্ষ দুই বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে নয়া দিল্লির বাণিজ্যের চেয়েও বেশি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের সঙ্গে হওয়া কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের (সিইপিএ) বদৌলতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিসিসির সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে। নয়া দিল্লি তাদের কাছ থেকে মূলত জ্বালানি কেনে, আর তাদের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে আছে রত্ন, ধাতু, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও রাসায়নিক।
নরেন্দ্র মোদীর সরকার এখন সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন—এই ছয় দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে বলে একাধিক ভারতীয় কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২২ সালের মে মাসেই একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করে রেখেছে। ওমানের সঙ্গেও নয়া দিল্লির সিইপিএ আছে, যেটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর মাস্কটে।
এখন জিসিসির সঙ্গে এফটিএ হলে উপসাগরীয় এ দেশগুলোতে শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধা কমে যাবে, বাড়বে ভারতের রপ্তানি। উপসাগরের এই দেশগুলো ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এমনিতেও গুরুত্বপূর্ণ, দেশগুলোতে প্রায় এক কোটি ভারতীয়ও থাকে।
নতুন বাণিজ্য চুক্তি কবে?
বৃহস্পতিবার ভারত ও জিসিসি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুতে ‘টার্মস অব রেফারেন্সে’ সই করেছে। এই টার্মস অব রেফারেন্সে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির পরিসর ও কাঠামো নির্ধারিত থাকে।
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীয়ুষ গয়াল জিসিসির সঙ্গে এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
“দুই বাণিজ্য অংশীদার নিজেদের মধ্যে ৫ হাজার বছরের বেশি সময় ধরে বাণিজ্য করে আসছে। এখন আরও শক্তিশালী ও কার্যকর একটি বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এতে পণ্য ও সেবার অবাধ প্রবাহ বাড়বে, নীতিতে ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা আসবে এবং বিনিয়োগ আরও উৎসাহিত হবে,” সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন তিনি।
জিসিসির এই ছয়টি দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও কম নয়। প্রায় সবগুলো দেশেই তাদের রপ্তানির পরিমাণ আমদানির চেয়ে কম। এফটিএ হলে এই ঘাটতি কমে আসবে বলেই আশা ভারতীয় কর্মকর্তাদের।
এফটিএ হলে ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমশ বর্ধনশীল জিসিসি বাজারে আরও ভালো সুযোগ পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগেও ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দফা আলোচনা করেছিল জিসিসি। ২০০৬ ও ২০০৮ সালের পর তৃতীয় রাউন্ডের আলোচনা আর আলোর মুখ দেখেনি। সেসময় জিসিসি সব দেশ ও অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গেই আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছিল।
অর্থনীতিবিদ, জাতিসংঘের উপদেষ্টা ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি স্যাকস মনে করেন, উপসাগরের দেশগুলোই ভারতের পরবর্তী বড় বাজার হতে যাচ্ছে।
“আপনাদের আশপাশেই বড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায়। চীনেও রয়েছে, এ কারণে চীন ও ভারতের একে অপরের সঙ্গে ব্যবসা করা উচিত। বড় প্রবৃদ্ধির সুযোগ আছে পশ্চিম এশিয়ায়। সেখানে উপসাগরের দেশগুলোতে বিপুল অর্থ রয়েছে। আফ্রিকাও দ্রুত বাড়বে। তাই ভারতের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল থাকাটা উচিত হবে না,” এনডিটিভিকে এমনটাই বলেছেন তিনি।