১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘মারাত্মক আহত হয়েছেন, মুখ বিকৃত হয়ে গেছে’

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মুজতবা খামেনি একটি পা হারিয়েছেন বলে বিশ্বাস তাদের।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘মারাত্মক আহত হয়েছেন, মুখ বিকৃত হয়ে গেছে’
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Apr 2026, 08:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:23 PM

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি বিমান হামলায় পায়ে ও মুখে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন আর ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ চক্রের তিন সদস্য। 

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এ দিন সকালে তেহরানে মার্কিন, ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় মুজতবার বাবা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনি, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও দেশটির সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন কমান্ডার নিহত হন। একই হামলায় মুজতবা খামেনিও আহত হয়েছিলেন।  

ওই তিন ব্যক্তি জানান, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সর্বোচ্চ নেতার বাড়িতে চালানো ওই হামলায় মুজতবার মুখে আঘাত লাগে আর তাতে তার মুখ বিকৃত হয়ে গেছে, পাশাপাশি তার এক পা বা উভয় পা মারাত্মক জখম হয়েছে। 

তারা জানান, তারপরও ৫৬ বছর বয়সী মুজতবা সুস্থ হয়ে উঠছেন আর মানসিকভাবেও তীক্ষ্ণ আছেন। তিনি অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঊধ্র্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন এবং যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। 

বিষয়গুলো সংবেদনশীল হওয়ায় নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। 

শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মুজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা তাকে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি পরিচালনার জন্য উপযুক্ত রেখেছে কি না, এ প্রশ্ন সামনে এসেছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই নেতার ঘনিষ্ঠজনরা তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা সরবরাহ করছিলেন, কিন্তু রয়টার্স সেগুলো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।  

ওই বিমান হামলার পর ৮ মার্চ মুজতবা খামেনিকে ইরানোর সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে তার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করা হয়নি। তাই তিনি কোথায় আছেন, তার শারীরিক অবস্থা ও তিনি শাসন করার সক্ষমতা রাখেন কি না, তা নিয়ে রহস্য রয়েই গেছে। 

২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় মুজতবা খামেনির স্ত্রী, তার এক শ্যালক ও শ্যালিকাও নিহত হন। ওই হামলায় তার আহত মা পারে মারা যান। 

মুজতবা খামেনির আহত হওয়ার বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দিয়ে কিছু জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়ে অবগত এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মুজতবা একটি পা হারিয়েছেন বলে বিশ্বাস তাদের।