Published : 29 Mar 2026, 02:24 PM
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণকারীরা ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা চালিয়েছে, এর ফলে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্য) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের বৈধ লক্ষ্যস্থলে পরিণত হয়েছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ অভিযানের ৫০তম ঘোষণায় বলেছে, “আক্রমণকারী আমেরিকান-জায়নবাদী বাহিনী তেহরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার মাধ্যমে ফের ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যস্থল করলো।
“হোয়াইট হাউজের জ্ঞানহীন শাসকদের জানা উচিত যে এখন থেকে দখলদার ইসরায়েলিদের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকানদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের বৈধ লক্ষ্যস্থল হবে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিশোধ হিসেবে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আঘাত না হানা পর্যন্ত এ আক্রমণ চলবে।
“আমরা এই অঞ্চলের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও কর্মীদের আর পাশাপাশি ওই এলাকার বাসিন্দাদের তাদের জীবন রক্ষায় উল্লেখিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
“যদি মার্কিন প্রশাসন চায় যে এই অঞ্চলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিশোধমূলক হামলার ওই দুই লক্ষ্যস্থলের মধ্যে না থাকুক তাহলে তেহরানের স্থানীয় সময় ৩০ মার্চ, সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে অবশ্যই দাপ্তরিক বিবৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বোমাবর্ষণের নিন্দা জানাতে হবে।
“আর তারা যদি চায় এই অঞ্চলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরবর্তীতেও হামলা না হোক, তাহলে তাদের অবশ্যই তাদের বর্বর মিত্র বাহিনীকে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখতে হবে। এই হুমকি বৈধ থাকবে আর এটি বাস্তবায়ন করা হবে।”
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কাতারে টেক্সাস এএন্ডএম বিশ্ববিদ্যালয় ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস আছে।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে শনিবার রাতভর রাজধানী তেহরানের উত্তরপূর্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়, এতে অনেকগুলো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হয়নি।