১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কাতালুনিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে লকডাউনে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ

রেকর্ড রাখা শুরু করার পর দেশটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুন দেখার পর দাবানলের কারণে স্পেনের বড় একটি অংশ এখন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

কাতালুনিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে লকডাউনে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ
হেলিকপ্টার থেকে পানি ফেলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2025, 12:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:20 PM

প্রায় তিন হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়িয়ে ফেলা একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় স্পেনের কর্তৃপক্ষ কয়েক ডজন মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মঙ্গলবার উত্তরপূর্বের তারাগোনা প্রদেশের ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে ঘরের ভেতর থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

রেকর্ড রাখা শুরু করার পর দেশটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুন দেখার পর দাবানলের কারণে স্পেনের বড় একটি অংশ এখন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  

দাবানলে গত ১ জুলাই কাতালুনিয়া অঞ্চলে দুইজনের মৃত্যু হয়েছিল। তারাগোনা কাতালুনিয়াতেই অবস্থিত।

সোমবার ভোরের দিকে সর্বশেষ আগুন পাউলস গ্রামের কাছে একটি দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে; পাহাড়ি এলাকা ও তীব্র বাতাস সেখানে দমকলকর্মীদের কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ওই এলাকায় কর্মরত ৩০০ দমকলকর্মীর পাশাপাশি মঙ্গলবার ভোরের আগে সেখানে জরুরি এক সামরিক ইউনিটও মোতায়েন করা হয়েছে।

“বাতাসের ঝাপটা কখনো কখনো ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে এমন পরিস্থিতিতেও মধ্যরাত থেকে দমকলকর্মীরা অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে লড়ছেন,” জানিয়েছে কাতালুনিয়ার আঞ্চলিক দমকল পরিষেবা।

ঠাণ্ডা প্রবল ঝড়ো বাতাস মঙ্গলবার বিকালের মধ্যে কমে আসবে বলেও আশা করছে তারা। 

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ফায়ার ইঞ্জিনগুলো আগুনে ঘেরা পাউলস পাহাড়ের বাঁকানো পথ ধরে দ্রুত ছুটে চলেছে; দমকলকর্মীরা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনারও প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। 

আগুন বাড়ি পৌঁছে যেতে পারে এই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন পার্শ্ববর্তী গ্রাম শেরতা ও আলডোভেরের বাসিন্দারা।  

“তুমুল আতঙ্ক ও ব্যাপক কান্নাকাটি হয়েছে, কেননা আমরা আগুনের একদম কিনারে আছি। আগুন ও ধোঁয়া উসকে দেওয়া বাতাসের কারণে গতরাতে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারিনি। ভয়াবহ, এমনটা আগে কখনো দেখিনি,” রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন ৭৬ বছর বয়সী রোজা ভেলেডা।  

কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা আগুন এব্রো নদীর ওপারে ছড়িয়ে পড়া আটকাতে পেরেছেন, তা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়তো। 

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৩০%-ই পড়েছে পোর্টস নেচারাল পার্কের ভেতর। কর্মকর্তারা এখন আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা নিয়ে তদন্তে নেমেছেন।