১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গিনিতে ল্যান্ডফিলে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৩০

এক সপ্তাহও হয়নি সরকার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা এই বর্জ্যাগারটি বন্ধ করে দিয়ে আবর্জনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

গিনিতে ল্যান্ডফিলে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৩০
গিনির কোনাক্রির দার এস সালাম এলাকায় ভারি বর্ষণের পর আবর্জনার স্তূপ ধসে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনাস্থলে একটি অ্যাম্বুলেন্সের কাছে মানুষের জটলা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2026, 10:51 AM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে বর্জ্যাগারে আবর্জনার স্তূপ ধসে ৩০ জন নিহত হয়েছে।

রোববার দেশটির সরকার জানিয়েছে, রাতে ভারি বৃষ্টির মধ্যে আবর্জনার বিশাল এক স্তূপ ধসে নিকটবর্তী তাঁবু ও ঝুপড়িগুলোকে চাপা দেয়। 

এক সপ্তাহও হয়নি সরকার বিশেষভাবে বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা এই বর্জ্যাগারটি বন্ধ করে দিয়ে আবর্জনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতি বছর বর্ষাকালে পশ্চিম আফ্রিকার এই অংশের অনুন্নত, জনাকীর্ণ শহরগুলোতে বর্ষাকালে ভূমিধস ও প্রাণসংহারি বন্যার ঘটনা ঘটে। 

এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানিয়েছে, রোববার রাত প্রায় ২টার দিকে কোনাক্রির গ্বেসিয়া কমিউনে আর্বজনার স্তূপ ধসে পড়ার এই ঘটনাটি ঘটে। এতে ৩০ জন নিহত, ছয়জন গুরুতর আহত ও আরও ১৬ জন সামান্য আহত হন।

উদ্ধারকারীরা খননযন্ত্র ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ধসে পড়া আবর্জনার স্তূপটি এতোটাই বিশাল ছিল যে এর নিচের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ আরও অনেক বসতবাড়ি চাপা পড়ে যেতে পারতো। 

ঘটনাস্থলে সির দিয়ালো নামে এক নারী জানান, তিনি তার পাঁচ সন্তানকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি আমার সব সন্তানকে হারিয়েছি। এখন আমি যা করতে পারি তা হল খোদার ওপর বিশ্বাস রাখা।”

গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ রোববার বর্জ্যাগারটিতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি প্রত্যক্ষ করেছেন।

গিনির স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জেনাব তুরে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছিলেন যে সরকার এই বর্জ্যাগারটি বন্ধ করে দিচ্ছে কারণ এটি অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। আবর্জনা কোনাক্রির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।  

গিনিতে বিশ্বের বৃহত্তম বক্সাইটের মজুদ আছে। দেশটির সিমান্দুতে সমৃদ্ধ লৌহ আকরিকের ভাণ্ডার রয়েছে। নভেম্বরে এখানে একটি ব্যাপক খনি প্রকল্প শুরু করা হয়েছে।

কিন্তু পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির অবকাঠামো দুর্বল, রয়েছে ব্যাপক দারিদ্র। দেশটির এক কোটি ৫১ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৩৭ লাখের দৈনিক আয় মাত্র ৫০০ টাকার মতো বলে জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।