Published : 15 Feb 2026, 08:53 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুল্ক নীতি এবং গ্রিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইউরোপের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে যুক্তরাষ্ট্রের।
এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় নেতাদের আশ্বস্ত করছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ডেমোক্র্যাটরা। তারা বলছেন, তিন বছরের মধ্যেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত শুক্রবার জার্মানিতে মিউনিখের নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বিশ্ব নেতাদেরকে ট্রাম্পবিহীন ভবিষ্যতের কথা ভাবার ডাক দেন।
সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অন্যান্য রিপাবিলিকানদের বিপরীতে উচ্চপদস্থ ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নিউসম ছাড়াও উপস্থিতি ছিলেন নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য অ্যালেক্সান্দ্রিয়া-ওকাসিও-কর্টেজ।
সম্মেলনের মঞ্চে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্য ছিল মনোযোগের কেন্দ্রে। তবে তার কথায় ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলোর উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি।
ট্রাম্পের আমলে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল থাকলেও তা ভেঙে পড়ব না- এমন একটি পুনরাশ্বাস রুবিও দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে ডেমোক্র্যাট নেতারা পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আগামী দিনগুলোর একটি চিত্র তুলে ধরে ইউরোপীয়দের আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, “ডনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক সময়ের জন্য আছেন। তিন বছরের মধ্যে তিনি চলে যাবেন।”
ওদিকে, জনবাদের উত্থান নিয়ে এক বক্তব্যে অ্যালেক্সান্দ্রিয়া-ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, “আমরা পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুত। আর তা বিশ্বের বিচ্ছিন্নতার দিকে যাওয়া নয়, বরং আমাদের অংশীদারিত্ব নিবিড় করার দিকে যাওয়া।”
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে নামতে পারেন এমন প্রায় অর্ধডজন ডেমোক্র্যাট মিউনিখের এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের বেশিরভাগই ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জিন শাহীন বলেন, “আমরা এখানে এসেছি এই আশ্বাস দিতে যে, ইউরোপীয় মিত্ররা আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আমরা বুঝি।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট গত বছর মিউনিখ সম্মেলনে গিয়ে ইউরোপকে আক্রমণ করে কথা বলার পর এবার ডেমোক্র্যাটরা এই সম্মেলনে যোগ দিতে মিউনিখে গেছেন। তাদের অনেকেই ইউরোপীয় নেতাদেরকে তাদের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে আশ্বাস্ত করার চেষ্টা করেছেন।