Published : 02 Sep 2025, 01:26 PM
বাণিজ্যিক এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে সিরিয়া তাদের তারতুস বন্দর থেকে ৬ লাখ ব্যারেল ভারী অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানি সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
১৪ বছর পর এটাই সরকারিভাবে সিরিয়ার প্রথম তেল রপ্তানি; নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সময়ের মধ্যে তারা কোনো তেল রপ্তানি করেছিল বলে খবর পাওয়া যায়নি, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২০১০ সালেও সিরিয়া প্রতিদিন ৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করতো। পরের বছর দেশটির ক্ষমতায় থাকা বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং তার পরবর্তীতে ১৪ বছরের যুদ্ধ সিরিয়ার অর্থনীতি এবং অপরিশোধিত তেল উত্তোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অবকাঠামো প্রায় ধ্বংস করে দেয়।
গত বছরের ডিসেম্বরে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হলে তার জায়গায় বসা ইসলামি গোষ্ঠী নেতৃত্বাধীন সরকার সিরিয়ার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অঙ্গীকার করে।
সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তেল ও গ্যাস বিষয়ক সহকারী পরিচালক রিয়াদ আল-জুবাসি রয়টার্সকে জানান, তারা তাদের ভারী অপরিশোধিত তেল বি সার্ভ এনার্জির কাছে বিক্রি করেছেন।
এই বি সার্ভ মূলত বৈশ্বিক তেল কেনাবেচাকারী প্রতিষ্ঠান বিবি এনার্জির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সিরিয়ার তেল নিয়ে রয়টার্স তাদের কাছে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পায়নি।
এক লিখিত বিবৃতিতে সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নিসোস ক্রিস্টিয়ানা ট্যাংকারে করে তেল রপ্তানি করেছে।
রপ্তানি করা তেল সিরিয়ার একাধিক ক্ষেত্র থেকে উত্তোলন করা হয়েছে বলে জুবাসি জানালেও তেলক্ষেত্রগুলোর নাম বলেননি তিনি।
দেশটির বেশিরভাগ তেলক্ষেত্রের অবস্থান উত্তরপূর্বে, ওই এলাকাটি কুর্দি নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে। ওই গোষ্ঠীগুলো ফেব্রুয়ারিতে দামেস্কের সরকারকে তেল সরবরাহ শুরু করেছিল। কিন্তু এরপর থেকে অন্তর্বর্তীমূলক শাসন ও কুর্দিরাসহ সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে শঙ্কা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে।
সিরিয়ায় যুদ্ধের সময় তেলক্ষেত্রগুলো একাধিকবার হাতবদল হয়েছে। মার্কিন ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞাও বৈধভাবে তেল আমদানি-রপ্তানি জটিল করে তুলেছিল।
আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই কয়েক মাসেও সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়নি। যে কারণে সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের জন্য জ্বালানি আমদানি এখনও বেশ কঠিন।
তবে জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে সিরিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে ‘মাস্টার প্ল্যান’ বানানোর কাজ শুরু করে।
সিরিয়ার নতুন সরকার তারতুস বন্দরে একটি বহুমুখী টার্মিনাল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ৮০ কোটি ডলারের একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষর করেছে। বাশার আল-আসাদের আমলে ওই টার্মিনালটি রাশিয়ার একটি কোম্পানি চালাতো, যে চুক্তি সিরিয়ার নতুন সরকার বাতিল করেছে।