১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘ভুয়া’ পোস্ট ভারতীয় হ্যান্ডেলে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলে তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে পরমাণবিক অস্ত্র থাকলে, ইরানও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা ছাড়বে না- সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডলে এমনটাই দাবি করা হয়। এর জেরে তোলাপাড় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘ভুয়া’ পোস্ট ভারতীয় হ্যান্ডেলে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলে তোলপাড়
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 07:04 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা এখনই বন্ধ করছে না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এমন এক ভুয়া দাবি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহল এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারত থেকে পরিচালিত এক বেনামি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এই ‘ভুয়া’ দাবি ছড়ানো হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ অগাস্ট সকালে ১ লাখ ৭৫ হাজার ফলোয়ার থাকা একটি বেনামি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম পোস্টটি করা হয়। 

এতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদিকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা পর্যন্ত ইরানও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা ছাড়বে না। 

পোস্টটিতে ওই জেনারেলের একটি ছবির শেয়ার করে এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি ছবি যুক্ত করা হয়। নিমেষে তা ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলে।

ইন্টারনেটের একটি কম পরিচিত উৎস থেকে ছড়ানো এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি। তারপরও পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ইসরায়েলি কিছু অ্যাকাউন্টে ওই উক্তি আসার পর তা লুফে নেয় দেশটির এক টিভি চ্যানেল। তারা প্রচার শুরু করে, ইরান যে পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে, এটি তাদের প্রথম প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি।

সেদিন সন্ধ্যায় খোদ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখেও শোনা যায় একই কথা। এর আঁচ লাগে যুক্তরাষ্ট্রেও।

জাতিসংঘে নিযুক্ত  ট্রাম্প প্রশাসনের দূত মাইক ওয়াল্টজ সেই উদ্ধৃতি রিপোস্ট করেন।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কটও পরে একই দাবি করেন। ফক্স নিউজও এই দাবি প্রচার করে। তাদের সংবাদ সঞ্চালক ও অতিথিরা একে ইরানের 'দ্বিমুখী চরিত্র ও প্রতারণার' অকাট্য প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, জেনারেল ওয়াহিদিকে উদ্ধৃত করে বেনামি অ্যাকাউন্ট থেকে এই পোস্টটি কে করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৮২ হাজার ফলোয়ার থাকা অপর একটি ভারতীয় অ্যাকাউন্ট থেকে এর হিন্দি অনুবাদ প্রকাশ করা হয়।

পরবর্তীতে 'মোসাদ কমেন্টারি' নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকেও একই দাবি শেয়ার করা হয়। অ্যাকাউন্টটির নামের সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নাম যুক্ত থাকলেও সংস্থাটির সঙ্গে এর কোনও দাপ্তরিক সম্পর্ক নেই।

ইসরায়েলের 'চ্যানেল ১৪' পোস্টটি সম্প্রচার করে একে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির ‘প্রথম প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি’ বলে দাবি করে। 

এরপরই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু এটি শেয়ার করেন। এর তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে জেরুজালেমের মাউন্ট হার্জেলে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু খবরটি উল্লেখ করেন।

বিষয়টি এমন ভাবে প্রচার করা হয়েছিল যা গোটা বিশ্বে রাজনৈতিক মহল এবং বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছিল।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এসব পোস্টকে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার আখ্যা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করে বলেন, এই মিথ্যাচারের নেপথ্যে ইসরায়েলের হাত থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর সামরিক অভিযানের অজুহাত তৈরি করতে গত দুই দশক ধরে একই ধরনের ভুয়া দাবি ব্যবহার করা হচ্ছে।

যাচাই না করা ভুয়া তথ্য কীভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, এই ঘটনাটিকে তারই একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।