১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সিডনির হারবার ব্রিজে ফিলিস্তিনপন্থি পদযাত্রায় লাখো মানুষ

পদযাত্রায় উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকেও দেখা গেছে।

সিডনির হারবার ব্রিজে ফিলিস্তিনপন্থি পদযাত্রায় লাখো মানুষ
সিডনিতে ফিলিস্তিনপন্থি পদযাত্রায় জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ছবি: গার্ডিয়ান

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2025, 01:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:30 PM

তুমুল বৃষ্টি ‍উপেক্ষা করে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ফিলিস্তিনপন্থি পদযাত্রায় অংশ নিয়ে লাখো মানুষ আইকনিক হারবার ব্রিজ পার হয়েছে। 

রোববারের এ পদযাত্রায় মানবিক সঙ্কটে বিপর্যস্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিতে আহ্বান জানানো হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ গাজার ৬০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। খাদ্যের ঘাটতির ফলে ভূখণ্ডটি বিস্তৃত দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক সরকার ও ত্রাণ সংস্থা এরই মধ্যে সতর্কও করেছে। 

গাজায় অনাহারের প্রতীক হিসেবে রোববার সিডনিতে ‘মার্চ ফর হিউম্যানিটিতে’ অংশ নেওয়া অনেকেই হাঁড়ি পাতিল নিয়ে হাজির হন। পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকেও দেখা গেছে।  

উইনিয়ার্ড স্টেশনের কাছে সিডনির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টের ল্যাং পার্ক থেকে দুপুর ১টার দিকে পদযাত্রা শুরু হয়। হারবার ব্রিজ পার হয়ে নর্থ সিডনির ব্র্যাডফিল্ড পার্কে বিকাল ৩টায় এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু পদযাত্রায় অংশ নেওয়াদের সিংহভাগ পরে নর্থ সিডনির ওয়াকার স্ট্রিট থেকে ইউ-টার্ন নিয়ে হারবার ব্রিজে ফিরে আসেন বলে জানিয়েছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড। 

এদিনের পদযাত্রায় এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা।

নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ ও রাজ্যটির প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন আগে পদযাত্রাটির হারবার ব্রিজ দিয়ে যাওয়া আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। ব্রিজটি শহরের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় পদযাত্রা হলে তা পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটাবে এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়াবে বলে যুক্তি ছিল তাদের। 

কিন্তু শনিবার রাজ্য সুপ্রিম কোর্ট পদযাত্রা হারবার ব্রিজের ওপর দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। 

এরপর নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ জানায়, তারা ব্রিজটির কাছে কয়েকশ পুলিশ মোতায়েন করছে। পদযাত্রাকারীদের শান্ত থাকার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

রোববার মেলবোর্নেও ফিলিস্তিনের সমর্থনে একইরকম একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে, সেখানেও বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি ছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং ত্রাণ সরবরাহে বিধিনিষেধ তুলতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।  

কয়েকদিন আগেই ফ্রান্স ও কানাডা বলেছে, তারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে। যুক্তরাজ্যও বলেছে, ইসরায়েল যদি গাজায় মানবিক সঙ্কট মোকাবেলায় ব্যবস্থা না নেয় এবং যুদ্ধবিরতিতে না পৌঁছায় তাহলে তারাও প্যারিস ও অটোয়ার পথ ধরবে।

মিত্রদের এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল। বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ হবে হামাসকে পুরস্কৃত করা।  

অস্ট্রেলিয়ার মধ্য-বাম অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, তিনি দুই রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে এবং ত্রাণ সরবারহে বাধা ও বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের ‘পক্ষে থাকা যায় না, কিংবা এড়িয়েও যাওয়া যায় না’।  

তবে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি জানানো নিয়ে কিছু বলেনি।