Published : 24 Nov 2025, 11:10 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনে শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক ও উদ্যোক্তা বিবেক রামাস্বামীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি' (ডিওজিই) বা সরকারি দক্ষতা বিভাগ মেয়াদ শেষের আট মাস বাকি থাকতেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
সরকারের আকার কমিয়ে অর্থ সাশ্রয় করার ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসাবে মহা আড়ম্বরে যে বিভাগ প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল সেটি বিলুপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই উদ্যোগের অবসান হল। সমালোচকরা বলছেন, সরকারের এই বিভাগ খুব কমই অর্থ সাশ্রয় করতে পেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের প্রধান স্কট কুপার এমাসের শুরুতেই রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, এই বিভাগটি ‘আর বিদ্যমান নেই’।
বিভাগটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জানুয়ারিতে। ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী এই বিভাগের মেয়াদ নির্ধারিত চিল ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত। ট্রাম্পের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে ইলন মাস্ক অনেক আগেই ডিওজিই-র দায়িত্ব ছেড়ে চলে গেছেন। এখন বিভাগটিও ভেঙে দেওয়া হল।
প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কয়েক মাসে দ্রুত ফেডারেল এজেন্সিগুলোকে সংকুচিত করা, বাজেট কাটছাঁট বা ট্রাম্পের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কাজগুলো করার চেষ্টা চালিয়েছে এই বিভাগ।
এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের মানবসম্পদ কার্যালয় (ওপিএম) সরকারি দক্ষতা বিভাগ ডিওজিই-এর অনেক কাজ পরিচালনা করছে।
ডিওজিই-এর অন্তত দুইজন প্রাক্তন কর্মকর্তা এখন ন্যাশনাল ডিজাইন স্টুডিওতে কাজ করছেন, যা আগস্টে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর চেহারা সুন্দর করতে কাজ করছেন তারা।
ডিওজিই শুরুতে মাস্কের নেতৃত্বে কাজ করেছে। মাস্ক এক সময় সরকারি চাকরি কমানোর প্রচার হিসেবে নিজের হাতে চেইন করাত ধরেছিলেন এবং বলেছিলেন, “এটা হল ব্যুরোক্রেসির জন্য চেইন করাত।”
ডিওজিই দাবি করেছিল, তারা শত শত কোটি ডলারের অর্থ ব্যয় কমিয়েছে, কিন্তু আর্থিক বিশেষজ্ঞরা তা যাচাই করতে পারেননি। কারণ ডিওজিই এর কোনও বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
ডিওজিই-এর বিলুপ্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরাসরি কিছু বলেননি, তবে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে এর বিলুপ্তির সংকেত আগেই মিলেছিল।
ডিওজিই-এর প্রাক্তন কর্মীরা এখন নতুন ভূমিকা নিয়েছেন। জেরেমি লিউইন, যিনি ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট বিলুপ্ত করতে সাহায্য করেছিলেন, এখন তিনি স্বরাষ্ট্রদপ্তরে বিদেশি সহায়তার তত্ত্বাবধান করছেন।
মাস্ক নির্বাচন পরবর্তীকালে বলেছিলেন, তার ম্যান্ডেট ছিল সরকারি নিয়মবিধির ‘পর্বত মুছে ফেলা’ এবং এআই ব্যবহার করে সরকার পুনর্গঠন করা। ডিওজিই-এর মূল নীতি ছিল সরকারি নিয়মবিধি কমানো এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি কমানো।
বর্তমানে প্রশাসন এখনও নিয়মবিধি হ্রাস করার দিকে কাজ করছে। হোয়াইট হাউজের বাজেট অফিস ডিওজিই-এর প্রাক্তন প্রতিনিধি স্কট ল্যাংম্যাককে নিয়োগ দিয়েছে বিশেষ এআই প্রয়োগ তৈরি করার জন্য, যা নিয়মবিধিগুলো বিশ্লেষণ করে কোনগুলো বাতিল করা যায় তা নির্ধারণ করবে।
এদিকে, মাস্ক আবারও ওয়াশিংটনে উপস্থিত হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্মানে হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন।