১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নেপালের টানেলে ৯ দিন পর উদ্ধার, ‘অন্যদের বাঁচাতে’ থেকে গিয়েছিলেন সঞ্জয়

তিনি বলেন, "সবার জীবন বাঁচানো আমার দায়িত্ব ছিল। এত বড় একটা দুর্ঘটনার সময় আমার পালিয়ে যাওয়াটা ঠিক হত না।"

নেপালের টানেলে ৯ দিন পর উদ্ধার, ‘অন্যদের বাঁচাতে’ থেকে গিয়েছিলেন সঞ্জয়
নয় দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার পাওয়া সঞ্জয় শাহ। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Sep 2026, 05:17 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

পাহাড় ধসে যখন নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির ওপর জল-কাদা-পথরের স্রোত আছড়ে পড়ে, তখন সঞ্জয় শাহের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল— হয় নিজের জীবন বাঁচাতে পালানো, নয়ত থেকে যাওয়া। তিনি থেকে গিয়ে অন্যদের সাহায্য করার পথটিই বেছে নিয়েছিলেন।

রয়টার্স লিখেছে, বরফ, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া আপার ত্রিশূলি থ্রি-এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপত্যকা থেকে গত শুক্রবার মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয়কে জীবিত উদ্ধার করা হয়। 

তার সঙ্গে কবির মহার্জন নামের আরেক সুপারভাইজারকেও উদ্ধার করা হয়েছে। নজিরবিহীন এই বিপর্যয়ে নিখোঁজ হওয়া হাজারো মানুষের সন্ধানে তল্লাশি অভিযানের মধ্যে এই ঘটনা কিছুটা হলেও আশার আলো জাগিয়েছে।

নয় দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার পাওয়া কবির মহার্জন। ছবি: রয়টার্স

নয় দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার পাওয়া কবির মহার্জন

নেপালি কর্তৃপক্ষের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্ট্রেচারে শুয়ে থাকা ৩০ বছর বয়সী সঞ্জয়ের মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরানো। সেখান থেকেই সেনাসদস্যদের তিনি বলেন, "আমি সুড়ঙ্গের কন্ট্রোল রুমে ছিলাম। সেখানে সাধারণত ৪ থেকে ৬ জন থাকে, তবে ওই দিন ৪০ থেকে ৪৫ জনের মত ছিল।"

তিনি বলেন, "সবার জীবন বাঁচানো আমার দায়িত্ব ছিল। এত বড় একটা দুর্ঘটনার সময় আমার পালিয়ে যাওয়াটা ঠিক হত না।"

সঞ্জয় জানান, উজানে বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অন্যদের সতর্ক করেন এবং দ্রুত সরে যেতে বলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজে আর বের হতে পারেননি। তিনি যখন পালানোর জন্য ঘোরেন, তখন আর সময় ছিল না।

টানা ৯ দিন ধরে সুড়ঙ্গের ঘোর অন্ধকারে আটকে ছিলেন সঞ্জয়। বেঁচে থাকার আশা ধরে রাখতে তিনি কেবল মন্ত্র জপতেন। 

সুড়ঙ্গের কোনো এক জায়গায় আটকে পড়া আরও তিন-চারজন কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পেরেছিলেন তিনি। তার ধারণা, পাহাড়ের আরও গভীরে অনেকেই আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

নেপালি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কাদা-মাখা মুখে সঞ্জয়কে আরেক কর্মীর পিঠে চড়িয়ে বের করে আনা হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের ধারণা, ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন সুড়ঙ্গে অন্তত ৯০০ মানুষ এখনো আটকা পড়ে আছেন। 

সঞ্জয় ও কবির মহার্জনই প্রথম দুই কর্মী, যাদের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হল।

এর আগে ধসের কয়েক ঘণ্টা পর অন্য একটি সুড়ঙ্গ থেকে ছোট একটি দল কোনোক্রমে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল।

উদ্ধার হওয়া দুজনকে কাঠমান্ডুর একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তারা এখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

গত ২৬ অগাস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে বরফ, কাদা ও পাথরের যে বিধ্বংসী ঢল নেমেছিল, তাতে নেপালেই অন্তত ১ হাজার ২৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৩ জন নিখোঁজ এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

অন্যদিকে, এ ঘটনায় তিব্বতে ২১ জনের মৃত্যু এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে চীন।