Published : 18 Apr 2026, 11:37 PM
দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর (ইউনিফিল) একটি টহল দলের ওপর ‘পরিকল্পিত’ হামলায় এক ফরাসি শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন শান্তিরক্ষী, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এই হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছেন। তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এই ঘটনার সঙ্গে তাদের ‘কোনো সম্পর্ক নেই’ বলে দাবি করেছে।
ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রী ক্যাথরিন ভাউট্রিন জানান, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ইউনিফিলের একটি অবস্থানের প্রবেশ পথ পুনরায় সচল করতে কাজ করছিল শান্তিরক্ষীদের দলটি।
এ সময় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী খুব কাছ থেকে তাদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালায়। সরাসরি গুলিতে ওই শান্তিরক্ষী ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা উদ্ধার করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ইউনিফিল জানিয়েছে, গান্দুরিয়াহ গ্রামে একটি রাস্তা থেকে বিস্ফোরক অপসারণের সময় তারা ‘অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ হামলার শিকার হয়। সংস্থাটি একে ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
হামলার পরপরই প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ বলেন, “সব তথ্য-প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই হামলার দায় হিজবুল্লাহর।”
ফ্রান্স দাবি জানাচ্ছে, লেবানন কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে এবং ইউনিফিলের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করে।”
পাল্টা বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ একে ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। গোষ্ঠীটি লেবাননের সেনাবাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষারোপ না করার এবং ‘তাড়াহুড়া করে দায় দেওয়া’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলার নিন্দা জানিয়ে মাক্রোঁকে ফোন করেছেন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।