Published : 02 Sep 2026, 06:16 PM
জন্মাধিকার সূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছেন।
এর অংশ হিসেবে, শিশুদের পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে মা-বাবাকে তাদের নিজেদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার প্রমাণ সরবরাহ করার নিয়ম প্রস্তাব করেছে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর।
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা খসড়া নির্দেশনায় ট্রাম্পের গত ৬ আগস্টের নির্বাহী আদেশ কীভাবে প্রয়োগ করা হতে পারে, তার প্রথম বিস্তারিত চিত্র সামনে এসেছে।
এই আদেশে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম-পর্যটনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ব্যতিক্রমগুলোর পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ রয়টার্সের প্রশ্নগুলো পররাষ্ট্রদপ্তরের কাছে পাঠায়। দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তার প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করবেন। আর এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়ায় সেই মানদণ্ডের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করা।”
অভিবাসন সংক্রান্ত ব্যাপক কড়াকড়ির ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা প্রেসিডেন্টের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার।
এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া একটি প্রাথমিক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, কেবল এমন শিশুরাই জন্মের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে যাদের মা-বাবার অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা।
কিন্তু ৬-৩ বিচারপতির ব্যবধানের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এই আদেশকে বেআইনি হিসেবে বিবেচনা করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের মতে, এটি সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ধারা লঙ্ঘন করেছে।
ট্রাম্পের ৬ অগাস্টের নতুন আদেশটি আগের চেয়ে কিছুটা সীমিত পরিসরের, যা মূলত “বার্থ ট্যুরিজম”-কে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। এর অধীনে কোনো কোনো নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন যাতে তাদের সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেতে পারে। অবশ্য আদালতে আদেশটি এখনও আটকে যেতে পারে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব শিশুর মা-বাবা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি সরকারের অধীনে চাকরি করেন, নাগরিকত্ব অর্জনে জালিয়াতি বা বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত অথবা ‘এলিয়েন এনিমি’ (শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি) হিসেবে চিহ্নিত, তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।
নির্বাহী আদেশ ১৪৪১৮ উল্লেখ করে স্টেট ডিপার্টমেন্টের খসড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “আবেদনকারী নির্বাহী আদেশের আওতাভুক্ত কি না তা নির্ধারণের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র দপ্তর মা-বাবার তথ্য এবং তাদের নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ দাবি করবে।”
এটি বাস্তবায়িত হলে শিশুদের পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার সময় মা-বাবা বা আইনি অভিভাবকদের নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ (যেমন বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন সনদ) কিংবা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ (যেমন আই-৯৪ ফর্ম বা স্থায়ী বসবাসের কার্ড) জমা দিতে হবে।
নতুন আদেশের আওতায় শিশুটি নাগরিকত্বের যোগ্য কি না, তা সরকারের মূল্যায়নে এসব তথ্য ব্যবহার করা হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের পাসপোর্টের জন্য মা-বাবাকে শুধু তাদের অভিভাবকত্বের প্রমাণ এবং ছবিসহ পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। আবেদন ফরমে তারা মার্কিন নাগরিক কি না তা চিহ্নিত করার ঘর থাকলেও এর জন্য কোনও নথি জমা দিতে হয় না।
ট্রাম্পের প্রাথমিক আদেশের কারণে যেসব শিশু নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে, তাদের পক্ষে মামলাকারী আইনজীবীরা দুইজন ভিন্ন ফেডারেল বিচারকের কাছে নতুন এই আদেশ কার্যকরে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন।
এর মধ্যে একটি মামলা সাবেক ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিযুক্ত মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেবোরা বোরডম্যানের আদালতে রয়েছে। গত শুক্রবার মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিচারক বোরডম্যান ট্রাম্পের এই আদেশকে ‘অভূতপূর্ব’ আখ্যা দিয়ে এটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এবং মামলাটি পর্যালোচনা করার সুযোগ দিতে বাদীপক্ষকে তাদের আবেদন সংশোধন করার অনুমতি দেন।
তবে বিচার বিভাগের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অনুপযুক্ত হবে এবং আইনি চ্যালেঞ্জটি অপরিণত, কারণ এখনও প্রেসিডেন্ট আদেশের বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো কোনও প্রকাশ্য নির্দেশিকা জারি করেনি।