Published : 28 Jun 2025, 08:13 PM
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রবল বর্ষণের মধ্যে বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় চারদিনে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার আরও দুইজনের মৃত্যু নিয়ে বৃষ্টিজনিত ঘটনায় প্রদেশটিতে মৃতের মোট সংখ্যা ১৪ জনে দাঁড়ায় বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) ।
ডন জানিয়েছে, ওই অঞ্চলজুড়ে শুরু হওয়া মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ থেকে মুক্তি মিলেছে, এই বৃষ্টি কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির তীব্রতা বেড়েছে ও ঘন ঘন বৃষ্টি হচ্ছে।
পিডিএমএ’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার থেকে শনিবারের আগ পর্যন্ত প্রদেশজুড়ে ছাদ ও দেয়াল ধসে, বজ্রপাতে ও পানিতে ডুবে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে; যাদের মধ্যে আটজনই শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন।
শনিবার ভোররাতে লাহোরের শাহদারা টাউনের আব্বাস নগর এলাকায় একটি মাটির ঘরের ছাদ ধসে পড়ে আরও দুজনের মৃত্যু হলে চার দিনের প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪-তে। আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পিডিএমএ জানিয়েছে, গত চার দিনে ২৮টি বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনা রেকর্ড হয়েছে, যার মধ্যে ছাদ ও দেয়াল ধসে প্রাণ গেছে ৯ জনের।
প্রদেশটির কাসুরে ছাদ ধসে দুই শিশু এবং দেয়াল ধসে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। ওকারা, বাহাওয়ালনগর ও ফয়সালাবাদে ছাদ ধসে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ওয়াজিরাবাদে দেয়াল ধসে এক ব্যক্তি ও এক শিশুর মৃত্যু হয়, আহত হন এক নারী ও এক শিশু। ঝিলামে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট নালায় ডুবে মারা যান দুইজন পুরুষ; তাদের বহনকারী একটি লোডার রিক্সা রাস্তা থেকে নালায় পড়ে যাওয়ার পর ঘটনাটি ঘটে। খানেওয়ালে বজ্রপাতে প্রাণ হারান আরও একজন।
এছাড়া, মান্ডি বাহাউদ্দিন, সাহিওয়াল, চিনিওট, মুলতান, শেখুপুড়া ও নানকানা সাহেব থেকেও দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
পিডিএমএ’র মহাপরিচালক ইরফান আলি কাথিয়া নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ও আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছেন।
পিডিএমএ জানিয়েছে, পাঞ্জাবে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে এবং এই দফায় বৃষ্টি চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত। এবার প্রদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।