ইউক্রেইন-রাশিয়ার ‘অপ্রত্যাশিত’ বন্দি বিনিময়

রাশিয়া নিজেদের ৫৫ জন বন্দির মুক্তির বিনিময়ে ২১৫ ইউক্রেইনীয় বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে।

রয়টার্স
Published : 22 Sept 2022, 01:50 PM
Updated : 22 Sept 2022, 01:50 PM

অপ্রত্যাশিতভাবেই বুধবার প্রায় তিনশ বন্দি বিনিময় করেছে ইউক্রেইন ও রাশিয়া। ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এত বেশি সংখ্যায় বন্দি বিনিময়ের ঘটনা এই প্রথম।

যে বন্দিদের বিনিময় করা হয়েছে তাদের মধ্যে ১০ জন বিদেশি। এছাড়াও ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পরপর মারিউপোলে রুশ বাহিনীকে দীর্ঘসময় প্রতিরোধ করে রাখা ইউক্রেইনীয় বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন কমান্ডারও রয়েছেন।

যে বিদেশিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের দুইজন এবং মরক্কোর এক নাগরিককে গত জুনে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

মুক্তি পাওয়াদের তালিকায় যুক্তরাজ্যের আরো তিন জন, আমেরিকার দুইজন, ক্রোয়েশিয়া ও সুইডেনের একজন করে নাগরিকও রয়েছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। বুধবার দিনের শুরুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেইনে আরও সেনা পাঠাতে দেশটির তিন লাখ রিজার্ভ সেনাকে ডেকে পাঠিছেন। যে খবর যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

তাছাড়া, গত মাসে ইউক্রেইনে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বলেছিল, মারিউপোলে রুশ বাহিনীর হাতে ধরা পড়া ইউক্রেইনীয় কমান্ডারদের বিচার করা হবে।

তুরস্ক এবং সৌদি আরবের সহায়তায় দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি এবং তীব্র দর কষাকষির ফল বুধবার বন্দি বিনিময় হয়েছে বলে জানান ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

রাশিয়া এই বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে ২১৫ জন ইউক্রেইনীয়কে মুক্তি দিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই মারিউপোল পতনের পর ধরা পড়েছিল।

বিনিময়ে ইউক্রেইন ৫৫ জন রুশ, রুশপন্থি ইউক্রেইনীয় এবং ভিক্তর মেদভেদচাককে মুক্তি দিয়েছে। মেদভেদচাক ইউক্রেইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত রুশপন্থি একটি দলের প্রধান।

এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘‘এটা পরিষ্কারভাবেই আমাদের দেশের জন্য, আমাদের পুরো সমাজের জন্য একটি বিজয়। এবং মূল বিষয় হচ্ছে ২১৫টি পরিবার তাদের প্রিয়জনকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে দেখবে।

‘‘আমরা আমাদের সব নাগরিককে মনে রাখি এবং ইউক্রেইনের প্রতিটি মানুষকে বাঁচাতে চেষ্টা করি। এটাই ইউক্রেইন, এটাই আমাদের সারবস্তু, এটাই শত্রুদের থেকে আমাদের পার্থক্য।”

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানকে তার সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে জেলনস্কি বলেন, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেইনের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার তুরস্কে থাকবেন।

কিইভ ওই পাঁচজনের মুক্তি নিশ্চিত করতে দীর্ঘ এবং কঠিন লড়াই করেছে বলেও জানান তিনি।

ওই পাঁচজনের মধ্যে আছেন, আজভ ব্যাটেলিয়ানের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডেনিস প্রোকোপেঙ্কো, তার ডেপুটি এসভিয়াতোস্লাভ পালামার এবং ৩৬তম মেরিন ব্রিগেডের কমান্ডার সেরহি ভলিনস্কি।

এই তিনজনের নেতৃত্বে মারিউপোলের আজোভস্তাল স্টিলওয়ার্কসের ভেতরের বাঙ্কার ও টানেলের দখল নেয়ার যুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ ধরে রুশ বাহিনীকে প্রতিরোধ করে রেখেছিল ইউক্রেইনের সেনারা। পরে গত মে মাসের শুরুর দিকে আজোভস্তালের প্রতিরোধ যোদ্ধারা আত্মসমর্পণ করে।

বিচারের মুখোমুখি হবে বলার পরও কেনো ইউক্রেইনের কমান্ডারদের ছেড়ে দেয়া হল সে বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বিদেশিদের মুক্তিতে মূলত ভূমিকা রেখেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি আরবের মধ্যস্থতাতেই ওই ১০ বিদেশি মুক্তি পান। তাদের সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সৌদি যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা বজায় রেখে চলেন।

মুক্তি পাওয়া দুই মার্কিন নাগরিক হলেন আলেক্সান্ডার ড্রুয়েক (৩৯) এবং অ্যান্ডি হাইন (২৭)। আলাবামার এই দুই বাসিন্দা পূর্ব ইউক্রেইনে যুদ্ধ করতে গিয়ে রুশ বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই ব্রিটিশ অ্যাইডেন অ্যাসলিন ও শন পিনার এবং মরোক্কান ব্রাহিম সাদউনের বিচার হয়েছিল নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করা দেনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের একটি আদালতে।

ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর নানা দেশ থেকে অনেক বিদেশি সেখানে যুদ্ধ করতে গেছেন।

এ মাসের শুরুতে ইউক্রেইনে জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের প্রধান বলেছিলেন, রাশিয়া তাদেরকে যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে দেখা বা যোগাযোগ করতে দিচ্ছে না।

রাশিয়া যুদ্ধবন্দিদের নির্যাতন করছে বলে তাদের হাতে প্রমাণ আছে, এমন দাবিও করেন তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক