১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মার্কিন সেনা হত্যা বা আটকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের

মার্কিন সেনাদের ধরতে বা মারতে পুরস্কার ঘোষণার জন্য ‘বিপুল সংখ্যক মানুষের অনুরোধ’ আসার পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি।

মার্কিন সেনা হত্যা বা আটকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের
মেজর জেনারেল আমির হাতামি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 05:26 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

কোনও মার্কিন সেনা সদস্যকে হত্যা বা আটক করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। 

এই কাজ কোনও নারী করতে পারলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, ইরানের সেনাপ্রধা মেজর জেনারেল আমির হাতামি রোববার এই ঘোষণা দিয়েছেন। 

মার্কিন সেনাদের ধরতে বা মারতে পুরস্কার ঘোষণার জন্য ‘বিপুল সংখ্যক মানুষের অনুরোধ’ আসার পরই এ পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাতামি। যদিও চলমান সংঘাতে ইরানের ভেতরে মার্কিন স্থলবাহিনীর কোনও ধরনের মোতায়েন বা উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি। 

কোথায় বা কখন মার্কিন সেনাদের হত্যা বা আটক করা যেতে পারে সে বিষয়ে সেনাপ্রধান হাতামি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

তিনি কেবল বলেন, “আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনও সদস্যকে হত্যা বা আটক করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারলে তাকে ৩০ হাজার ডলার বা ৫ বিলিয়ন তোমান (ইরানি রিয়ালের অনানুষ্ঠানিক একক) পুরস্কার দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, "আমাদের যেসব সাহসী নারী এই কাজ করতে পারবেন, তারা দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন।"

পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান হাতামি বলেন, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করার কোনও সুযোগ আর মার্কিন বাহিনীর নেই।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিনের লড়াই শেষে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি শান্তি আলোচনার রূপরেখা তৈরি হলেও পরবর্তী সময়ে তা ভেস্তে যায়।

চলমান পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে এপ্রিলে ভূপাতিত এক মার্কিন বিমানসেনাকে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা ছাড়া ইরানের মাটিতে মার্কিন পদাতিক বাহিনীর সরাসরি কোনো উপস্থিতি ছিল না।

মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তাকে (ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার) ইরানি বাহিনীর হাত থেকে বাঁচাতে প্রায় ২০০ সেনা ও ১৭০টির বেশি বিমান নিয়ে বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র।                                                       

এর কয়েক দিন আগেই ছোট এক হেলিকপ্টার অভিযানে ওই বিমানের মূল পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

উদ্ধার অভিযান চলাকালে ইরানি বাহিনীর আঘাতে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেটি মিত্র ভূখণ্ডে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। এছাড়া একটি সি-১৩০ পরিবহন বিমানসহ অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি উড়োজাহাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্র।

সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সবশেষ নিহতের ঘটনা ঘটে জুলাই মাসে। এদের সবাই ইরানের ভূখণ্ডের বাইরে, জর্ডান ও ইরাকসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রাণ হারিয়েছেন।

বর্তমানে দক্ষিণ ইরান এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ বজায় থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।