Published : 23 Sep 2025, 03:31 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবার একটি নির্বাহী আদেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী অ্যান্টিফা আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেছেন।
হোয়াইট হাউজের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প সোমবার এই নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।
ডানপন্থি রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ধারাবাহিকতায় এবার ফ্যাসিবাদবিরোধী অ্যান্টিফা আন্দোলনকে নিশানা বানালেন তিনি।
গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ৩১ বছর বয়সী কার্ক। সে সময় দূর থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।
এই ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক টেকনিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থী হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও পুলিশ এখনো হত্যার মোটিভ নিশ্চিত করতে পারেনি এবং কোনো সংগঠিত গোষ্ঠীর সঙ্গে অভিযুক্তের সম্পর্ক আছে বলে জানায়নি।
রয়টার্স লিখেছে, তবু ট্রাম্প প্রশাসন এ হত্যাকাণ্ডকে অজুহাত হিসেবে নিয়ে বামপন্থি সংগঠনগুলোকে লক্ষ্যস্থল করার বহুদিনের পরিকল্পনা ফের সামনে এনেছে, যাদেরকে তারা রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গীর প্রতি শত্রুভাবাপন্ন বলে বিবেচনা করে।
আদেশের বিষয়বস্তু
ট্রাম্পের ৩৭০ শব্দের এই আদেশ অনুযায়ী, সব ফেডারেল সংস্থা ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অ্যান্টিফার ‘সব অবৈধ কর্মকাণ্ড তদন্ত, বাধা দেওয়া ও ধ্বংস করার জন্য।’
হোয়াইট হাউজের ভাষ্যমতে, অ্যান্টিফার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়ানো এবং বৈধ রাজনৈতিক বক্তব্য দমন করার চেষ্টা করছে।
‘অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট’এর সংক্ষিপ্ত হল অ্যান্টিফা। এটি একটি বিকেন্দ্রীভূত, নেতৃত্বহীন আন্দোলন, যা বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ও ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন এন্টি-ডিফামেশন লিগের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টিফার নামে কিছু চরমপন্থী ব্যক্তি সহিংসতা বা ভাঙচুর করলেও এটি আন্দোলনের মূলধারা নয়।
মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এতদিন ঘৃণামূলক গোষ্ঠী কিংবা মতাদর্শভিত্তিক সহিংস কর্মকাণ্ড নিয়েই তদন্ত করেছে। তবে কেবল অভ্যন্তরীণ কোনো গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণার নজির দেশটিতে নেই—সংবিধানগত সুরক্ষার কারণেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি আগে।
বিষয়টি নিয়ে এক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই আদেশ তদন্ত ও নজরদারির ব্যাপক নতুন ক্ষমতা এনে দেবে। তার মতে, এ ঘোষণার মাধ্যমে মার্কিন সরকার নাগরিকদের আর্থিক লেনদেন ও চলাচল আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং প্রশাসনের চোখে ‘অ্যান্টিফা-ঘেঁষা’ বলে বিবেচিত বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ও অলাভজনক সংস্থার বিদেশি যোগাযোগ খুঁজে দেখা হবে।
বিদেশি অর্থায়নে জোর
বিচার বিভাগের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এফবিআইয়ের কাউন্টার টেররিজম ও কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বিভাগ ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি অর্থের উৎস খুঁজে দেখা হবে এবং অ্যান্টিফার নেতৃত্ব শনাক্তের চেষ্টা চলবে। মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে এফবিআইয়ের নজরদারিতে বিভিন্ন বাধানিষেধ থাকলেও এই ঘোষণায় সেসব শিথিল হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “মূল লক্ষ্য হচ্ছে মার্কিন রাজনীতিতে বিদেশি অর্থ ঢোকার পথ খুঁজে বের করা এবং বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের যোগসূত্র পাওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “অ্যান্টিফাকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার ফলে আমরা ব্যাংকে সমন জারি করতে পারব, টাকা লেনদেন খতিয়ে দেখতে পারব, দেশি-বিদেশি অর্থের উৎস অনুসন্ধান করতে পারব।”
তবে কারা এ তদন্তের আওতায় আসবেন, তা স্পষ্ট নয়।
সমালোচনা ও শঙ্কা
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র কোনো মতাদর্শে বিশ্বাস করাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা যুক্তরাষ্ট্রের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় আঘাত আসবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী গোষ্ঠীর হামলাই সবচেয়ে বড় সহিংসতার উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কিন্তু ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবারই কার্কের হত্যাকাণ্ডের জন্য বাম ঘরানার গোষ্ঠীগুলোকে দায় দিচ্ছেন। বলছেন, ওই গোষ্ঠীগুলো রক্ষণশীলদের বিষয়ে এমন বৈরি পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল, যার ফলশ্রুতিতে কার্ককে প্রাণ দিতে হয়েছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময়ও অ্যান্টিফাকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার অন্তত দুটি প্রচেষ্টা হয়েছিল বলে অভ্যন্তরীণ মার্কিন নথি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে রয়টার্স, যদিও সে প্রচেষ্টা তখন সফল হয়নি।