১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতে প্রার্থনাসভায় পদদলনে মৃত্যু বেড়ে ১২১

এই অনুষ্ঠানের জন্য ৮০ হাজার মানুষের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু উপস্থিত হয়েছিল আড়াই লাখেরও বেশি পুণ্যার্থী।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2024, 12:41 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:54 AM

ভারতের উত্তর প্রদেশের হাথরস জেলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে হুড়োহুড়ির মধ্যে পদদলনের ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে ১২১ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে শতাধিক নারী ও সাতটি শিশু রয়েছে বলে খবর। 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকালে হাথরসের ফুলরাই গ্রামে ‘সৎসঙ্গ’ (প্রার্থনাসভা) নামে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এর ডাক দিয়েছিলেন ভোলে বাবা ওরফে নারায়ণ সাকার হরি ওরফে বিশ্ব হরি, যারা আসল নাম সুরজ পাল। সেই অনুষ্ঠানে সমবেত হয়েছিল কয়েক হাজার মানুষ। 

এনডিটিভি জানিয়েছে মানুষের ভিড়ের তুলনায় অনুষ্ঠানস্থলটি ছোট ছিল। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এক নারী বলেন, স্থানীয় এক গুরুর সম্মানে ওই প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল। লোকজন বিদায় নেওয়ার সময়েই ঘটে পদপিষ্টের ঘটনা।

কর্মকর্তারা জানান, ‘সৎসঙ্গ’ শেষ হওয়ার পর পুণ্যার্থীরা ওই স্ব-ঘোষিত গুরুর পা ছুঁতে ভিড় করে, এতে অল্প জায়গায় বহু লোকের সমাগম ঘটে। 

আনন্দবাজারা অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একটি অংশ দাবি করেছেন, প্রার্থনাসভা যে মাঠে হয়েছিল তার চারদিক প্যান্ডেল দিয়ে ঘেরা ছিল, আসা-যাওয়ার পথ ছিল সংকীর্ণ আর গরমের মধ্যে ভেতরে ফ্যানের ব্যবস্থাও করা হয়নি। গরমের মধ্যে প্রচুর লোকের ভিড়ে দমবন্ধ অবস্থা তৈরি হয়েছিল, এ কারণে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ বের হওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেছিল। 

এ হুড়োহুড়িতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। অনেকে মাটিতে পড়ে যান আর অন্যরা তাদের পদপিষ্ট করে দিয়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করে। এতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়।  

হাথরসের ‘সৎসঙ্গের আয়োজকদের’ বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।  

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানের জন্য ৮০ হাজার মানুষের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু উপস্থিত হয়েছিল আড়াই লাখেরও বেশি পুণ্যার্থী। 

“নিয়ন্ত্রণহীন জনতা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার চেষ্টায় যারা মাটিতে বসেছিল তাদের পদদলিত করে। রাস্তার অপর পাশে লোকজন দৌঁড়ে পানি ও কাদাময় খেত পার হওয়ার চেষ্টা করলে আয়োজক কমিটির লোকজন লাঠি হাতে তাদের বাধা দেয়, এতে ভিড় আরও বেড়ে যায় এবং নারী, শিশু ও পুরুষ পদপিষ্ট হয়,” মামলার বিবরণে এমনটি বলা হয়েছে। 

এতে আরও বলা হয়েছে, “ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সামলাতে সব ধরনের চেষ্টাই করেছিলেন। ঘটনার পর তারা আহতদের আশপাশে যেসব যানবাহন পেয়েছেন তাতে করেই হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন কিন্তু আয়োজকরা কোনো সহযোগিতা করেনি।” 

প্রার্থনাসভায় যোগ দেওয়া মানুষদের বেশিরভাগই ছিলেন নারী এবং তারা উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো থেকেও এসেছিলেন। 

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগ্রা পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও আলিগড়ের কমিশনার এর নেতৃত্ব দেবেন। 

স্ব-ঘোষিত ধর্ম গুরু ভোলে বাবা ওরফে নারায়ণ সাকার হরি ওরফে বিশ্ব হরি, তবে তার আসল নাম সুরজ পাল। 

স্ব-ঘোষিত ধর্ম গুরু ভোলে বাবা ওরফে নারায়ণ সাকার হরি ওরফে বিশ্ব হরি, তবে তার আসল নাম সুরজ পাল।

বুধবার সকালে হাসরথের ঘটনাস্থলে বহু ঊধ্র্বতন পুলিশ কমকর্তা গিয়েছেন বলে জানা গেছে। আরও অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ফুলরাই গ্রাম থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে ভোলে বাবা সুরুজ পালের ‘আশ্রম’ মৈনপুরিতে গিয়েছেন। ভোলে বাবাকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হতে পারে, তবে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।  

এই স্ব-ঘোষিত গুরু ভারতের গোয়েন্দা ব্যুরোর হয়ে কাজ করতেন বলে প্রায়ই দাবি করেছেন। তিনি তার অনুসারীদের বলেছেন, চাকরিতে থাকাকালীনও তিনি অধ্যাত্মিকতার দিকে ঝোঁক অনুভব করতেন তাই ১৯৯০ এর দশকে আধ্যাত্মিক পথ অনুসরণ করতে চাকরি ছেড়ে দেন। 

পুরনো খবর:

ভারতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদচাপায় নিহত ১১৬