কাবুলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১৯

কাবুলের পশ্চিমাংশের শিয়া হাজারা গোষ্ঠীর অধ্যুষিত এলাকায় হামলাটি চালানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউ।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Sept 2022, 07:20 AM
Updated : 30 Sept 2022, 07:20 AM

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত ও বহু আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শুক্রবার কাবুলের পশ্চিমাংশের শিয়া হাজারা গোষ্ঠীর অধ্যুষিত এলাকায় হামলাটি চালানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউ।

এর আগে বিভিন্ন সময় ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠী কাবুলের এই হাজারা এলাকায় অনেকগুলো প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল।

কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জারদান জানিয়েছেন, সরকারি হিসাবে ১৯ জনের মৃত্যু ও ২৭ জন আহত হয়েছেন।

তিনি জানান, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলাটি চালানো হয়েছে, সেখানে তখন প্রবেশিকা পরীক্ষা চলছিল।

আফগানিস্তানে সাধারণত শুক্রবার স্কুল বন্ধ থাকে।

কারা হামলাটি চালিয়ে থাকতে পারে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু না জানিয়ে জারদান বলেন, “বেসামরিক লক্ষ্যে হামলা চালিয়ে শত্রুরা তাদের অমানুষিক নিষ্ঠুরতার এবং নৈতিক মানদণ্ডের অভাব প্রমাণ করেছে।”

নিহতের সরকারি হিসাব বাড়ার জোর সম্ভবনা আছে; কারণ এক হাসাপতালের একজন কর্মকর্তা ৩২ জন নিহত হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

আর এক তালেবান কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ৩৩ জন নিহত হয়েছে এবং হতাহতদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীও আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা গুলাম সাদিক জানিয়েছেন, বিকট শব্দ শুনে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে এসে দেখেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি থেকে ধোঁয়া উঠছে, তখন তিনি ও প্রতিবেশীরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান।

“আমি ও আমার বন্ধুরা বিস্ফোরণস্থল থেকে ৯টি মৃতদেহ ও ১৫ জন আহতকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। অন্যান্য মৃতদেহগুলো ক্লাসরুমের চেয়ার ও টেবিলের নিচে পড়ে আছে,” বলেন তিনি।

গত বছরের অগাস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে তালেবান বলে আসছে, ২০ বছর ধরে যুদ্ধ চলার পর তারা দেশে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে; কিন্তু সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে আফগানিস্তানে মসজিদ ও বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় একের পর এক প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে চলেছে।

২০২০ সালে কাবুলে এই পশ্চিম অংশের আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালানো হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস। ওই হামলায় কিশোর শিক্ষার্থীসহ ২৪ জন নিহত হয়েছিল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক