Published : 20 Aug 2025, 09:44 PM
ভারত ও চীন নিজেদের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঢেলে সাজাতে এটি প্রথম কোনো বড় পদক্ষেপ, বলছে এনডিটিভি।
দুই দিনের সফরে ভারতে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
মঙ্গলবার এসব নিয়ে এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশের মধ্যে দ্রুততম সময়ে সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং কৈলাস ও মানস সরোবরে ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে নয়া দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
দুই পক্ষ সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে লিপুলেখ পাস, শিপকী লা ও নাথুলা, এই তিন সীমান্তপথ দিয়ে বাণিজ্য শুরু হবে।
এসবের পাশাপাশি চীন ভারতে দুর্লভ খনিজ রপ্তানির বিধিনিষেধও তুলে নিচ্ছে, জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।
২০২০ সালের গালওয়ানে সংঘর্ষকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা যে উষ্ণতা ফিরেছে তা দেশদুটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের একের পর এক সফরে বোঝা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া শুল্কের তাপের মধ্যে বেইজিং-দিল্লির মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন আঞ্চলিক রাজনীতিতেও বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।
অজিত দোভাল ও ওয়াং ই দুজনেই সীমান্ত প্রশ্নে নিজ নিজ দেশের বিশেষ প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে এ নিয়ে ২৪তম বৈঠক হল।
“ভারত-চীন সীমান্ত বিষয়ে সমন্বয় ও আলোচনার কার্যপ্রক্রিয়ার (ডব্লিউএমসিসি) অধীনে একটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপ বানানো এবং সীমানা নির্ধারণে দ্রুত ফল নিয়ে আসতে দুই বিশেষ প্রতিনিধিই একমত হয়েছেন,” বিবৃতিতে বলেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সীমানা ‘ডিলিমিটেশন’ বা নির্ধারণ মানে হচ্ছে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে সীমানা ঠিক করা, তবে মাটিতে কোনো স্থায়ী চিহ্ন থাকবে না।
দোভাল-ই বৈঠকে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দেওযার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রবাহ বাড়াতে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই দেশ।
বৈঠকে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ব্রিকস সম্মেলনসহ আসন্ন কূটনৈতিক আয়োজনগুলোতে একে অপরকে সহযোগিতা করার কথাও হয়েছে, জানিয়েছে এনডিটিভি।