১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালিতে কার প্রভাব বেশি, ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্রের?

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো মূলত ইরানকেই বেশি সমীহ করে চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষা থাকলেও হামলার ঝুঁকি এড়াতে তেহরানের অনুমিত রুট মেনে কিংবা গোপনে চলছে বেশিরভাগ জাহাজ।

হরমুজ প্রণালিতে কার প্রভাব বেশি, ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্রের?
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 09:39 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:34 PM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলছেন, তার সামরিক বাহিনী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

এমনকি গত সপ্তাহে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত এই ভূখণ্ডের প্রশাসনিক বা সামরিক নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে নিতে পারে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেন, সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে। অথচ এর ঠিক বিপরীতে ইরান সাফ জানিয়ে রেখেছে, তাদের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই নৌপথে প্রবেশ করতে পারবে না। 

আবার একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরান-সংশ্লিষ্ট সব জাহাজের ওপর নিজেদের নৌ-অবরোধ বহাল রেখেছে। একইসঙ্গে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ ওমানকে বোমাবর্ষণের হুমকিও দিয়েছেন। 

হরমুজ প্রণালিটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমার মধ্যে অবস্থিত। তেহরানের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রণালি পরিচালনার কোনও চুক্তিতে যেন ওমান সম্মত না হয়, সেই চাপ সৃষ্টি করতেই ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারি।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, বর্তমানে আসলে হরমুজ প্রণালির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কে?

উভয় পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যে এই জলপথ অতিক্রমকারী জাহাজ চলাচলের আসল উপাত্তই এর উত্তর দিয়ে দিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির প্রধান দুই রুট

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালিকে একটি একক ও উন্মুক্ত জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হত। তখন "ইরানি" বা "ওমানি" রুটের মধ্যে কোনো আলাদা বিভাজন ছিল না।

জাহাজগুলো প্রণালির কেন্দ্রীয় অংশ দিয়ে আন্তর্জাতিক ট্রাফিক নীতি মেনে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করত এবং বের হত।সামরিক পরিণতি বা হামলার ভীতি নয়, বরং নির্দিষ্ট বন্দরে পৌঁছানোর দূরত্ব, চুক্তি এবং নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে নাবিকরা রুট নির্ধারণ করতেন।

তবে ইরান যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে এই জলপথটি এখন দুটি প্রধান রুটে বিভক্ত হয়ে পড়েছে:

উত্তরের ইরানি রুট: লারাক দ্বীপ ও কেশম দ্বীপের কোল ঘেঁষে ইরানের উপকূল বরাবর প্রসারিত এই পথটি সরাসরি দেশটির বন্দর ও অফশোর টার্মিনালগুলোর সঙ্গে যুক্ত।

দক্ষিণের ওমানি রুট: ওমান উপকূলের কাছাকাছি এবং ইরানের তীর থেকে দূরবর্তী এই রুটটি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষা নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো মূলত এই পথে চলাচল করে।

তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের গতিপথ

সামুদ্রিক তথ্য সংস্থা 'কেপলার'-এর তথ্যানুযায়ী, গত ১ থেকে ১৯ আগস্টের মধ্যে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এবং এলএনজিবাহী (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) মোট ১১২টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে।

এই ট্যাঙ্কার ও বাহকগুলোর মধ্যে মাত্র ২১টি জাহাজ খোলাখুলিভাবে সমুদ্রের উত্তরের 'ইরানি রুট' ব্যবহার করেছে। আর আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ দিকের 'ওমানি রুট' ব্যবহার করেছে মাত্র ২টি জাহাজ।

বাকি ৮৯টি জাহাজ, যা এই নির্দিষ্ট সময়ে প্রণালি পার হওয়া মোট জ্বালানিবাহী জাহাজের ৮০ শতাংশেরও বেশি, কোনও ধরনের ট্র্যাকিং না রেখে সম্পূর্ণ 'ডার্ক' বা অস্পষ্ট রুট দিয়ে চলে গেছে। 

কোনও জাহাজ যখন তাদের 'অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম' (এআইএস) ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখে, কিংবা তাদের এআইএস ডেটা কেপলারের নির্ধারিত ইরানি বা ওমানি করিডোরের সঙ্গে মেলে না, তখন তাদেরকে ট্র্যাকিংয়ের বাইরে ধরে নেওয়া হয়। ফলে এসব জাহাজ ঠিক কোন পথ দিয়ে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায় না।

কেপলারের সামুদ্রিক ও পণ্য বিষয়ক কাস্টমার সাকসেস ম্যানেজার মোহামেদ রফিক হালিতিম এ বিষয়ে বলেন, "প্রণালি পার হওয়ার পর জাহাজগুলোর ট্র্যাকার পুনরায় চালু হলে তাদের পারাপার পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হলেও, ডার্ক রুটিংয়ের কারণে ঠিক কত শতাংশ

জাহাজ ওমানি রুট ব্যবহার করেছে বা তাদের সুনির্দিষ্ট পথ কোনটি ছিল, তা বিদ্যমান উপাত্ত থেকে নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন।"

সাধারণ কার্গো ও কেমিক্যালবাহী জাহাজ

শুধু তেল-গ্যাস নয়, শুকনা কার্গো ও কেমিক্যালবাহী জাহাজ অন্তর্ভুক্ত করলে দেখা যায়, আগস্টের ১ থেকে ১৯ তারিখের মধ্যে মোট ২৩৬টি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে।

এর মধ্যে ৮৩টি জাহাজ (মোট পারাপারের ৩৫ শতাংশ) খোলাখুলিভাবে তেহরানের অনুমোদিত ইরানি রুট ব্যবহার করেছে। মাত্র ৩টি জাহাজ প্রকাশ্যে ওমানি রুট নিয়েছে এবং যুদ্ধের আগের পুরনো কেন্দ্রীয় পথ ব্যবহার করেছে মাত্র ২টি জাহাজ।

তবে বিশাল একটি অংশ, ১৪৮টি জাহাজ (যা মোট পারাপারের ৬০ শতাংশের বেশি বা প্রতি ১০টি জাহাজের ৬টিরও বেশি), কোনও পরিচয় না দিয়ে ডার্ক বা অজানা রুট বেছে নিয়েছে।

পরিসংখ্যানটি তুলে ধরে যে, মোট জাহাজ পারাপারের প্রায় ৩৫ শতাংশ প্রকাশ্যে তেহরানের নিয়ম মেনে তাদের উপকূলীয় পথ নিয়েছে, যেখানে ওয়াশিংটন সমর্থিত ওমানি পথ খোলাখুলি ব্যবহার করার সাহস দেখিয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজ।

কেন ট্র্যাকার বন্ধ রাখছে জাহাজগুলো?

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, উভয় পক্ষই শুধু হুমকি দিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, বরং প্রতিপক্ষের নিয়ম লঙ্ঘন করার অভিযোগে জাহাজগুলোতে সরাসরি বোমাবর্ষণ করেছে। এর ফলে সামরিক বাহিনী যেন ডিজিটাল সনাক্তকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজে নিশানা বানাতে না পারে, সেজন্য জাহাজগুলো নিজেদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক চ্যাটাম হাউজের পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির গবেষক নীল কুইলিয়াম বলেন, "ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখলে জাহাজের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য গোপন থাকে, যদিও এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার জন্য উদ্বেগ তৈরি করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ কিছু জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানি মনে করে যে, এর বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তাজনিত সুবিধা ঝুঁকির চেয়ে অনেক বেশি।"

হামলার ঘটনাগুলো এর ভয়াবহতা স্পষ্ট করে:

গত ৮ অগাস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ তোলে যে, তাদের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

তবে এডিএনওসি এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাদের ১৫টি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে, যাতে ১ জন কর্মী নিহত ও ২০ জন আহত হন; বিবৃতিতে কোনো পক্ষকেই সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়নি।

অন্যদিকে গত মাসে, ইরানের খার্ক দ্বীপের দিকে যাওয়া একটি তেল ট্যাঙ্কারে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পর হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী।

১১ অগাস্ট মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, ওমান উপসাগরে তাদের অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করায় পানামার পতাকাবাহী 'ভেলা নোভা' নামের একটি কার্গো জাহাজে তাদের হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে।

ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখার আরেকটি বড় কারণ হল, সমুদ্রের মাঝপথে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে (শিপ-টু-শিপ বা এসটিএস) গোপনে মালামাল স্থানান্তর করা।

জ্বালানি নীতি গবেষক মার্ক আইয়ুব জানান, "সাম্প্রতিক উপাত্ত ও সূত্র অনুযায়ী, সৌদি আরব, ইরাক এবং কুয়েতের মতো কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ তাদের জাহাজের ট্র্যাকিং বন্ধ রেখে ওমানি রুট দিয়ে পণ্য পাঠাচ্ছে এবং সমুদ্রের মাঝে শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার করছে।"

সহজ কথায়, যে জাহাজটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা এড়াতে চায়, সেটি ওমানি রুট দিয়ে ট্র্যাকার বন্ধ করে যাত্রা করে। এরপর প্রণালির বাইরে গিয়ে অন্য একটি জাহাজে নিজের পণ্য নামিয়ে দেয়, যা পণ্যটিকে চূড়ান্ত গন্তব্যে নিয়ে যায়। মূল 'ডার্ক' জাহাজটি এরপর অলক্ষ্যে নিজের বন্দরে ফিরে আসে।

একইভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ এড়াতে অনেক ইরানি জাহাজও এই কৌশলে ওমানি রুট ব্যবহার করছে। তারা ওমানে মালামাল নামিয়ে সেটির নথিপত্র এমনভাবে পরিবর্তন করছে, যেন মনে হয় পণ্যটি ওমান থেকেই রফতানি করা হয়েছে; তারপর তা আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

কাকে বেশি ভয় পাচ্ছে শিপিং কোম্পানিগুলো?

প্রণালি পার হওয়া অধিকাংশ জাহাজ ট্র্যাকার বন্ধ রাখায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয় যে আসলে কতটি জাহাজ ইরানি বা কতটি ওমানি রুট ব্যবহার করছে। ফলে বর্তমানে সামরিকভাবে প্রণালির 'প্রকৃত মালিক' কে, ইরান না যুক্তরাষ্ট্র? তা শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন।

তবে প্রাপ্ত উপাত্ত অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার করে যে, দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো কার নির্দেশ অমান্য করতে বেশি সাহসী এবং কাকে চটানোর ভয় তাদের বেশি।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনীর পাহারা ও মার্কিন অবরোধের পরও, মোট জ্বালানিবাহী জাহাজের পাঁচভাগের একভাগ (২০ শতাংশ) প্রকাশ্যেই ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য করে ইরানি রুট দিয়ে পার হয়েছে। আর সব ধরনের সাধারণ কার্গো হিসাব করলে এই হার দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে।

এর বিপরীতে, ট্রাম্পের অনুমোদিত ওমানি রুট প্রকাশ্যে ব্যবহার করেছে মাত্র ২টি তেল-গ্যাসের জাহাজ এবং সব মিলিয়ে মাত্র ৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ।

বিশ্লেষণের মূল সিদ্ধান্ত হল: ডনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির চেয়ে তেহরানকে চটানোর ভয়টাই আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে।

ইরান কি হরমুজের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগত এই প্রণালিতে সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার মতো শক্তিশালী সক্ষমতা এখনও ইরানের হাতে রয়েছে।

মার্ক আইয়ুব বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান মোটেই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে না।" তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদে এই অবস্থা বিশ্ব তেলের বাজারের জন্য টেকসই হতে পারে না।

নীল কুইলিয়াম মনে করেন, "হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যাহত করার এবং সামরিক হুমকি বজায় রাখার যথেষ্ট ক্ষমতা এখনও তেহরানের রয়েছে। তবে বিকল্প লজিস্টিকস ব্যবস্থা, শিপ-টু-শিপ স্থানান্তর এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক সুরক্ষার কারণে প্রণালির ওপর ইরানের একচ্ছত্র প্রভাব কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।"

তিনি আরও বলেন, "যদি মনে হয় যে জাহাজ চলাচলের ওপর তেহরানের প্রভাব কমছে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষিতে ইরানের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক শক্তিকে কিছুটা দুর্বল করে দিতে পারে।"

কেন হরমুজ প্রণালি এত গুরুত্বপূর্ণ?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবাহিত হতো। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি জাহাজ এই পথ পার হত, যেখানে ২০২৬ সালের অগাস্টের প্রথম ১৯ দিনে সব মিলিয়ে পার হয়েছে মাত্র ২৩৬টি জাহাজ।

মার্চের শুরুতে ইরান প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে এবং কেবল 'বন্ধুপ্রতীম' দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়। গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি 'সমঝোতা স্মারক' স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, বর্তমানে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই হরমুজের নিয়ন্ত্রণ।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালি ও এর আশেপাশের ইরানি বন্দরগুলোতে নিজস্ব নৌ-অবরোধ বহাল রেখেছে।

এই চরম অচলাবস্থা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে এবং তেলের বাজারে আগুন জ্বালিয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৬ ডলার। যুদ্ধের ধাক্কায় তা একাধিকবার ১০০ ডলার অতিক্রম করে; মার্চে তা সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে পৌঁছায় এবং ২৩ জুলাই আবারও ১০০ ডলার ছাড়ায়।

এপ্রিলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও জুনে দুইদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও, সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে থাকায় দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৯ ডলারে উঠে এসেছে।