Published : 24 Dec 2025, 10:52 PM
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি সেন্সর বা দমনের চেষ্টার অভিযোগে পাঁচ ইউরোপীয় নাগরিকের ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এর নিন্দা জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ফ্রান্স ও জার্মানি।
নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া পাঁচ ইউরোপীয়র মধ্যে ইইউ-র ডিজিটাল পরিষেবা আইনের অন্যতম স্থপতি ফরাসি ইইউ কমিশনার থেরি বোতোঁ রয়েছেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “পররাষ্ট্র দপ্তর পাঁচজনকে ভিসা নিষেধাজ্ঞার নিশানা করেছে, যারা মার্কিন প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির সুসংগঠিত প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। উদ্দেশ্য হল, তাদের (৫ ব্যক্তি) অপছন্দের আমেরিকান মতাদর্শ দমন করা।
এই ব্যক্তিরা মার্কিন বক্তা ও কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে ‘সেন্সরশিপ’ এগিয়ে নিয়েছেন, বাকস্বাধীনতা সেন্সরে কাজ করছেন কিংবা অন্যায়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্টগুলোকে নিশানা করেছেন বলে অভিযোগ করেন রুবিও।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা কড়া ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই। বাক স্বাধীনতা ইউরোপ এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রেরও মৌলিক অধিকার।”
ভিসা নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের বাড়তে থাকা বিভেদের মাত্রা আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাকস্বাধীনতা, প্রতিরক্ষা, অভিবাসন, কট্টর-ডান রাজনীতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বিভেদ আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রে ‘ইউরোপের সভ্যতা বিলুপ্তির মুখে’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র থাকতে হলে ইউরোপকে পথ বদলাতে হবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই ইউরোপীয়দের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা এল।
এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ফ্রান্সের নাগরিক বোতোঁ ছাড়াও আছেন, সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেটের ব্রিটিশ প্রধান নির্বাহী ইমরান আহমেদ; জার্মান অলাভজনক সংস্থা ‘হেটএইড’ এর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব জোসেফাইন ব্যালন ও আনা-লেনা ভন হোডেনবার্গ এবং ‘গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইনডেক্স’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্লেয়ার মেলফোর্ড।
কূটনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেট সারাহ রজার্স নামের এই তালিকা প্রকাশ করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপ ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন’ এবং ‘জবরদস্তি’র শামিল, যার লক্ষ্য ইউরোপের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করা।
ওদিকে, জার্মানির আইনমন্ত্রণালয় বলেছে, পাঁচ ইউরোপীয়র ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়া যায় না। নিষেধাজ্ঞার শিকার দুই জার্মান কর্মীর পাশে আছে সরকার।
হেটএইড অবৈধ ডিজিটাল ঘৃণা বক্তব্য থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেয় উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “কেউ এটাকে সেন্সরশিপ বলে বর্ণনা করলে তা আমাদের সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে ভূলভাবে উপস্থাপন করা হবে।”