Published : 11 Aug 2025, 08:39 PM
দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপিন্সের একটি জাহাজ তাড়া করার সময় চীনের যুদ্ধজাহাজ ধাক্কা খেয়েছে নিজেদের কোস্টগার্ডের জাহাজে—এমনটাই দাবি করেছে ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলা।
ফিলিপিন্স কোস্টগার্ডের মুখপাত্র কমোডর জে তারিয়েলা জানান, সোমবার বিতর্কিত স্কারবরো শোলে ফিলিপিনো কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জেলেদের মধ্যে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার সময় চীনা কোস্টগার্ড জাহাজ এক ‘ঝুঁকিপূর্ণ কসরত’ করে।
এর ফলে চীনের যুদ্ধজাহাজের সামনের ডেকে গুরুতর ক্ষতি হয়। চীন ঘটনাস্থলে সংঘর্ষ হওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানালেও ফিলিপিন্সের বিরুদ্ধে চীনা জলসীমায় ‘জোর করে প্রবেশের’ অভিযোগ করেছে। কিন্তু নিজেদের যুদ্ধজাহাজে ধাক্কা লাগার কথা চীন উল্লেখ করেনি।
দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে চীন, ফিলিপিন্সসহ কয়েকটি দেশের মধ্যে বহুদিন ধরে বিরোধ চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং ও ম্যানিলার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে; এমনকি সমুদ্রে তলোয়ার, বর্শা, ছুরির মতো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
ত্রিভুজাকার প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে গঠনের স্কারবরো শোল ২০১২ সালে চীন দখলে নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে তা উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।
ফিলিপিন্সের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তাদের কোস্টগার্ডের জাহাজকে তাড়া করতে গিয়ে চীনা কোস্টগার্ড জলকামান ছোড়ে। এরপর হঠাৎ ঘুরে গিয়ে সেটি বড় আকারের একটি চীনা যুদ্ধজাহাজে ধাক্কা খায় এবং প্রচণ্ড শব্দ হয়।
ফিলিপিন্স কোস্টগার্ডের মুখপাত্র তারিয়েলা দাবি করেন, এই সংঘর্ষের পর যুদ্ধজাহাজটি ‘চলাচলের অযোগ্য’ হয়ে পড়েছে। ধাক্কার ঘটনায় কেউ আহত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফিলিপিন্স কোস্টগার্ড বলছে, তারা সবসময় চীনকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষায়, “এ ধরনের বেপরোয়া আচরণ শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”
অন্যদিকে চীনের কোস্টগার্ড বলেছে, তারা ‘আইন মেনে’ কাজ করেছে এবং ফিলিপিন্সের জাহাজগুলোকে তাড়াতে ‘সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ নিয়েছে।
এটি দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটতে থাকা একাধিক বিপজ্জনক ঘটনার সর্বশেষ উদাহরণ। গত ডিসেম্বরেও স্কারবরো শোলের কাছে ফিলিপিন্সের একটি সরকারি জাহাজে জলকামান ছোড়া এবং ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে চীনের কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের জুনে ফিলিপিন্সের সেনারা ‘খালি হাতে’ চীনা কোস্টগার্ডকে প্রতিহত করে; তখন চীনারা তলোয়ার, বর্শা ও ছুরি হাতে ছিল। ওই সংঘর্ষে এক ফিলিপিন্স সেনার আঙুল কেটে যায়।