১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

হিমবাহ ধসে সৃষ্ট হ্রদ উপচে নেপালে ফের বন্যার ঝুঁকি কমছে

নেপাল-চীন সীমান্তের দুই নদীর সঙ্গমস্থলে তৈরি হওয়া ওই হ্রদের ওপর নজর রাখছে চীন।

হিমবাহ ধসে সৃষ্ট হ্রদ উপচে নেপালে ফের বন্যার ঝুঁকি কমছে
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Aug 2026, 05:09 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:01 PM

নেপাল-চীন সীমান্তে হিমালয়ের যে অঞ্চলে আকস্মিক বানে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে, সেখানে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট হ্রদ উপচে ফের বন্যার ঝুঁকি কমার তথ্য দিয়েছে চীন। 

শনিবার চীনা কর্তৃপক্ষ বলেছে, সীমান্তের দুটি নদীর সঙ্গমস্থলে তৈরি হওয়া ওই হ্রদের পানি ধীরে ধীরে বেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে জলাধারটির পানি ক্রমেই কমছে।

রয়টার্স লিখেছে, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি দেখে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ তথ্য দিয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, হিমবাহ ধসে পিউরেপুর সাংপো নদীতে তৈরি হওয়া হ্রদটির ওপরের অংশের স্যাটেলাইট চিত্রে শনিবার ভোরে এর আয়তন ৯৯ হাজার বর্গমিটার দেখা গেছে, যা প্রায় ১৪টি ফুটবল মাঠের সমান। বৃহস্পতিবার যে চিত্র পাওয়া গেছে, তার থেকে হ্রদটির আয়তন ২১ হাজার বর্গমিটার কমেছে।

বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছাকাছি রসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যা দেখা দেয়।

পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীর তীরবর্তী জনপদ তছনছ করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। পরে সেই পানির স্রোত ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে।

বন্যার প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও স্থাপনা ভেসে যায়। নদীর স্রোতে মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ মূল বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বহু দূরে ভাটির বিভিন্ন জেলায় পৌঁছায়।

এদিন সকাল পর্যন্ত ৬২৬ জন নিহত ও ২৪২৬ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।

আর চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দেশটির তিব্বত সীমান্ত এলাকায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এখনও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সিনহুয়া জানিয়েছে, ওই এলাকার প্রায় ৫০০ গ্রামবাসী ও নির্মাণশ্রমিক এবং সেখানে থাকা ৫৫৫ জন পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রধান দুর্যোগকবলিত এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতির পাশাপাশি সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চীনের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

চীনের সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে প্রতিকূল বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার মধ্যেও ৫০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী পাথর ও কাদার ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান। তারা জীবিত কারও সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করেন।

শুক্রবার বিকেলে উদ্ধারকারীদের প্রথম একটি দল ও একটি অনুসন্ধানী কুকুর গিরং সীমান্ত পারাপার কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছায়। তারা জানায়, সেখানে ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছেন, উপত্যকাটিতে দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে হিমবাহের ধ্বংসাবশেষে সৃষ্ট এই হ্রদ থেকে নতুন করে পানি নেমে এসে ভাটির দিকে চলমান উদ্ধার কার্যক্রমকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রকৌশল ও উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান চায়না আনেং বৃহস্পতিবার থেকে হ্রদটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটি ১৫ সদস্যের একটি দল পাঠিয়েছে। হ্রদটির বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহে দলটির সঙ্গে ছিল অনুসন্ধানী ড্রোন, বহনযোগ্য স্যাটেলাইট স্টেশন ও মোবাইল নজরদারি ক্যামেরা।

শুক্রবার হ্রদটির পানি উপচে পড়ায় সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আরও মূল্যায়নের পর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে করা হলে উদ্ধারকাজ আবার চালানোর সুযোগ তৈরি হয়।

কর্তৃপক্ষ হিমবাহ ধসের নিচের অংশে আরও বড় একটি জলাধারের অস্তিত্বের কথাও জানিয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ কারিগরি নির্দেশনা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী চেন হংছি বলেন, “আমাদের ধারণা, এর আয়তন ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটারের বেশি। তবে এর গভীরতা এখনো জানা যায়নি।”

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা বলেছেন, দুই হ্রদের পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থেকেই যাবে।