Published : 05 Oct 2025, 03:10 PM
নেপালে ভারি বৃষ্টির মধ্যে ভূমিধসে বহু রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে আর হড়কা বানে কয়েকটি সেতু ভেসে গেছে। এসব দুর্যোগে দেশটিতে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রোববার দেশটির আর্মড পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র কালিদাস ধাউবোজি জানিয়েছেন, ভারতের সীমান্তবর্তী পূর্বাঞ্চলীয় জেলা ইলামে বেশ কয়েকটি ভূমিধসের ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। উদয়পুর জেলায় হড়কা বানে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে আর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও অন্তত তিনজন হড়ক বানে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) মুখপাত্র শান্তি মাহাত রয়টার্সকে বলেছেন, “তাদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।”
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধসে বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, বন্যায় অনেকগুলো রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এতে শত শত যাত্রী বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছেন।
কাঠমাণ্ডু বিমানবন্দরের মুখপাত্র রিনজি শেরপা বলেছেন, “অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোর অধিকাংশের সূচি বিঘ্নিত হয়েছে কিন্তু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।”
সুনসারি জেলার গভর্নর ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, নেপালের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে কোশি নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি পানি বিপৎসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কোশি ব্যারেজের ৫৬টি স্লুইস গেটের সবগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই ব্যারেজের ১০ থেকে ১২টি স্লুইস গেট খোলা রাখা হয়।
কর্তৃপক্ষ কোশি নদীর সেতুতে ‘ভারি যানবাহন নিষিদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে’ বলে জানিয়েছেন মিশ্র।
বেশ কয়েকটি নদীতে বন্যা দেখা দেওয়ায় নেপালের পাহাড় ঘেরা রাজধানী কাঠমাণ্ডুর অনেক রাস্তা প্লাবিত হয়েছে আর বহু বাড়ি ডুবে গেছে। বন্যার কারণে কাঠমাণ্ডুর সঙ্গে দেশের বাকি অংশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
হিমালয় পবর্তের দেশ নেপালে প্রতি বছর বর্ষাকালে ভূমিধস ও হড়কা বানে কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হয়। বর্ষাকাল সাধারণ মধ্য জুন থেকে শুরু হয়ে মধ্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।