১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজার নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় চার সাংবাদিকসহ নিহত ১৯

যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা খবর পাঠাতে হাসপাতালের এই পরিষেবাগুলো ব্যবহার করে আসছেন।

গাজার নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় চার সাংবাদিকসহ নিহত ১৯
গাজার নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত চার সাংবাদিক। ছবি: আল জাজিরা

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2025, 04:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:11 PM

গাজার দক্ষিণাঞ্চলে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি সাংবাদিকসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন, জানিয়েছে ফিলিস্তিনি ছিটমহলটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। 

আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবারের এ হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন সাংবাদিক আছেন বলে নিশ্চিত করেছে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর।  

দপ্তরটি থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নাসের হাসপাতালে আরও চারজন সাংবাদিক নিহত হওয়ায় গাজায় শহীদ সাংবাদিকের সংখ্যা ২৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

“ওই সাংবাদিকরা শহীদ হন যখন ইসরায়েলি দখলদাররা খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করে। ওই সময় সেখানে একদল সাংবাদিক একটি প্রেস কভারেজ মিশনে ছিলেন। ইসরায়েলের এই ভয়ঙ্কর অপরাধে আরও অনেকে শহীদ হয়েছেন।

“আমরা ইসরায়েলি দখলদারদের, মার্কিন প্রশাসন এবং যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো যেসব দেশ এই গণহত্যার অপরাধে অংশ নিচ্ছে তাদের এই জঘন্য অপরাধগুলো সংঘটনের জন্য পুরোপুরি দায়ী বলে মনে করছি।”

নাসের হাসপাতালে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক সাংবাদিক আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের কারণে তারা বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত, তাই ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা খবর পাঠাতে হাসপাতালের এই পরিষেবাগুলো ব্যবহার করে আসছেন।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতাল। ছবি: রয়টার্স

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতাল

তিনি বলেন, “আমরা সবসময় আহত ফিলিস্তিনিদের অনুসরণ করছি। জানাজা, দাফন থেকে শুরু করে অপুষ্টির ঘটনাগুলোও হাসপাতাল থেকেই জানতে পারছি ও প্রতিবেদন করছি আমরা।”  

এই কারণেই ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা গাজার হাসপাতালগুলোকে তাদের শিবিরে পরিণত করেছিলেন। সেখানেই তাদের ওপর হামলা চালানো হল।  

ইসরায়েলি বাহিনী প্রথমে বিস্ফোরক ভর্তি একটি আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। ড্রোনটি নাসের হাসপাতালের ছাদে আঘাত হানে। এতে এক সাংবাদিক নিহত ও কয়েকজন আহত হন। 

গাজার দমকল বাহিনী নিহতের মৃতদেহ ও আহতদের উদ্ধার করা শুরু করে আর অন্য সাংবাদিকরাও খবর সংগ্রহে সেখানে ভিড় করেন। সেখানে বেসামরিকরাও ছিল। এ সময় ইসরায়েলি বাহিনী একই জায়গায় আবার আঘাত হানে, সেখানে আরেকটি ড্রোন হামলা চালায় তারা। 

এতে প্রথম হামলার ঘটনা কাভার করতে থাকা সাংবাদিকদের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে রত দমকল কর্মীরাও নিহত হন। নিহতদের মধ্যে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) জন্য কাজ করা এক সাংবাদিকও আছেন বলে বার্তা সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে একজন তাদের চুক্তিভুক্ত ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন বলে নিশ্চিত করেছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের চুক্তিভুক্ত ফটো সাংবাদিক হুসাম আল মাসরি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। ছবি: রয়টার্স

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের চুক্তিভুক্ত ফটো সাংবাদিক হুসাম আল মাসরি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন

নিহত অন্য দুই সাংবাদিকের মধ্যে একজন আল জাজিরার জন্য এবং অপরজন এনবিসি নেটওয়ার্কের জন্য কাজ করতেন বলে জানা গেছে। 

আহতদের মধ্যে রয়টার্সের আরেকজন সাংবাদিক আছেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। 

নাসের হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ সাবের আল-আসমার বলেছেন, “অপ্রতুল উপকরণ নিয়েই আমরা হাসপাতালের ভেতরে আমাদের কাজ করছিলাম। সবাই যখন কাজে ব্যস্ত তখনই ভয়াবহ হামলাটি চালানো হয়।”  

তিনি জানান, এই হামলার কারণে হাসপাতালটিতে থাকা রোগীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। 

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই জোড়া হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার সাংবাদিক ও একজন দমকল কর্মী রয়েছেন। 

এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বা দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কোনো মন্তব্য করেনি।