১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ আলোচনায় ছিল: এনডিটিভিকে আনোয়ার ইব্রাহিম

“আমরা মনে করছি, উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষায় বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা উচিত,” বলেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Sep 2026, 08:04 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:59 AM

ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে ভারতে সফরে থাকা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, নয়া দিল্লিতে আলোচনার সময় ‘পলাতক’ ইসলামি বক্তা জাকির নায়েককে ভারতের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও উঠেছিল।

শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করা ইব্রাহিম ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, “ব্যক্তিগত আলোচনায় অবশ্যই, এসব বিষয় নিয়ে কথা চলতে থাকে।”

তিনি এও বলেন, “আমরা মনে করছি, উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষায় বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা উচিত। তবে দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে আমরা অবশ্যই এটিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছি।”

জাকির নায়েকের ভারতে প্রত্যর্পণের বিষয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়াকে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। 

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে (প্রত্যর্পণের দাবি) আমাদের কিছুটা বোঝাপড়া রয়েছে, কিন্তু আমাদের এটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। আইনের শাসন এবং এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বকে সম্মান করতে হবে।”

এনডিটিভি লিখেছে, আলোচিত ভারতীয় ইসলামি বক্তা জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন। আর ভারতে অর্থপাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগে ফেরারি আসামি হিসেবে তার খোঁজে রয়েছেন সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জাকির নায়েক এবং ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন, পিস টিভিসহ তার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার পর ২০১৬ সালে এ ব্তা মালয়েশিয়ায় চলে যান। পরে সেখানে তাকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে মালয়েশিয়া বলে আসছে, সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তারা সহযোগিতা করবে। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবের কথা জানিয়ে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

এনডিটিভি লিখেছে, জাকির নায়েক মালয়েশিয়ার জন্য ‘বিব্রতকর পরিস্থিতির’ কারণ হয়েছেন। ২০১৯ সালে জাতিগতভাবে সংবেদনশীল মন্তব্যের পর মালয়েশিয়ায় ব্যাপক জনরোষ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন তিনি।

তার ওই মন্তব্যে দেশটির জাতিগত চীনা ও ভারতীয় সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গ ছিল। পরে ওই মন্তব্যের জন্য তিনি মালয়েশীয়দের কাছে ক্ষমা চান এবং মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কয়েকটি রাজ্যে তাকে জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।