বিশাল আপডেট এলো এক সময়ের সেরা অডিও প্লেয়ার উইনঅ্যাম্পে

উইনঅ্যাম্প এক সময় নতুন সফটওয়্যার এবং ব্যবসায়িক মডেলের কাছে পিছিয়ে পড়েছিল, সবাই একে ভুলেও গিয়েছিল। তবে, আক্ষরিক অর্থে কখনই মরেনি অ্যাপটি।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 August 2022, 10:03 AM
Updated : 6 August 2022, 10:03 AM

‘আইপড’ এবং ‘আইটিউনস মিউজিক স্টোর’পূর্ব যুগে নব্বই দশকের শেষ থেকে একুশ শতকের শুরুতে ব্যপক জনপ্রিয় একটি মিউজিক প্লেইং অ্যাপ ছিল উইনঅ্যাম্প। প্রায় চার বছর পর একসময়ের জনপ্রিয়তম এই অ্যাপের আপডেট এনেছে অ্যাপটির বর্তমান মালিক কম্পানি রেডিওনমি।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট আর্স টেকনিকা বলছে, ৩০ বছরের বেশি বয়সীরা একটি ‘প্রিমিয়ার মিউজিক প্লেয়ার’ হিসাবে মনে রাখবেন উইনঅ্যাম্পকে। কথাটি মিথ্যা নয়। ওই আমলে ডেস্কটপ কম্পিউটারে ‘ন্যাপস্টার’, ‘লাইমওয়্যার’ আর ‘কাজা’র মতো সাইট থেকে পাইরেট করা এমপি৩ ডাউনলোড করে সেগুলো উইনঅ্যাম্পে বাজাতেন ব্যবহারকারীরা।

কম বয়সীদের বুঝিয়ে বলতে চাইলে বলা চলে, অ্যাপটি অনেকটা স্পটিফাইয়ের মতোই, তবে এতে প্রতিটি গানই আলাদাভাবে সংগ্রহ করে নিজ হাতে উইনঅ্যাম্প প্লেলিস্টে যোগ করতে হয়।

যুগের পরিক্রমায় উইন্ডোজ ৯৫-যুগের অনেক প্রভাবশালী সফটওয়্যার হারিয়ে গেছে। উইনঅ্যাম্পও নতুন সফটওয়্যার এবং ব্যবসায়িক মডেলের কাছে পিছিয়ে পড়েছিল ও সবাই একে ভুলেও গিয়েছিল। তবে, আক্ষরিক অর্থে কখনই মরেনি অ্যাপটি।

বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনার পর ২০১৩ সালের শেষে উইনাম্পের মূল সংস্করণটি বন্ধ করে দিয়েছিল এর সে সময়ের মালিক আমেরিকা অনলাইন বা ‘এওএল’।

২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে ‘এওএল’-এর কাছ থেকে অ্যাপের অবশিষ্ট অংশ কিনে নিয়েছিল ‘রেডিওনমি’ নামে একটি কোম্পানি। ২০১৬ সালে অ্যাপের একটি আপডেট এনেওছিল তারা।

২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপের একটি সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করে রেডিওনমি। এ ছাড়া, ২০১৯ সালে অ্যাপটির ‘৬.০’ সংস্করণের আপডেট আনার পরিকল্পনা জানিয়েছিল তারা।

ওই সময় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত না হলেও গত সপ্তাহে, বিগত চার বছরে প্রথমবারের মতো উইনঅ্যাম্পের নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেছে রেডিওনমি।

‘উইনঅ্যাম্প ৫.৯ আরসি১ বিল্ড ১৯৯৯’ নামে পরিচিত নতুন এই সংস্করণের রিলিজ নোট বলছে, চার বছরে দুটি আলাদা নির্মাতা দলের কাজের ফল রয়েছে এই আপডেটে, যেটি পিছিয়ে পড়েছিল কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে।

এই আপডেটের বেশিরভাগ কাজ হয়েছে পর্দার পেছনের বিষয়য়াদি নিয়ে, এর ফলে আধুনিক হয়েছে অ্যাপটির ‘কোডবেইজ’। এর মানে হচ্ছে, এখনও সেই ২০০০ সালের মতোই কাজ করে অ্যাপটি।

এই পুরো প্রকল্প ‘মাইক্রোসফট ভিজুয়াল স্টুডিও ২০০৮’ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ‘ভিজুয়াল স্টুডিও ২০১৯’-তে এসেছে। এ ছাড়া, বিস্তৃত পরিসরে বিভিন্ন ‘অডিও কোডেক’ তুলনামূলক আধুনিক সংস্করণে আনার পাশাপাশি ‘উইন্ডোজ ১১’ ও ‘এইচটিটিপিএস’ দুটো স্ট্রিমই সমর্থনের ব্যবস্থাকে উন্নত করেছে নির্মাতা।

উইনঅ্যাম্পের প্রকাশিত সর্বশেষ ‘৫.৯’ সংস্করণের কয়েকটি ফিচার ‘৫.৯.১’ সংস্করণ বা ‘এর পরবর্তী সংস্করণে’ প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে নির্মাতা কোম্পানিটি। অন্যদিকে, ‘উইন্ডোজ ৭’ অথবা এর চেয়ে নতুন অপারেটিং সিস্টেমে চললেও ‘উইন্ডোজ এক্সপি’-তে সমর্থন করবে না অ্যাপটি।

আর্স টেকনিকা অ্যাপটি যাচাই করে বলছে, উইনঅ্যাম্প অনেক ক্ষেত্রে এখনও পুরনো অ্যাপের মতোই আছে কারণ ‘হাই-রেজুলিউশন’ এবং ‘হাই-ডেনসিটি ডিসপ্লে’র যুগের কথা বিবেচনা করে অ্যাপটি তৈরি করেনি নির্মাতা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক