Published : 26 Nov 2023, 08:07 PM
কেবল পরিবেশ নয়, সম্ভবত আমাদের স্বাস্থ্যের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে প্লাস্টিক। পার্কিনসন’সসহ স্মৃতিভ্রংশ রোগের নির্দিষ্ট ধরনের সঙ্গে ন্যানোপ্লাস্টিকের সম্পর্ক পেয়েছেন গবেষকরা।
গবেষকরা বলছেন, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই প্লাস্টিক কণার সঙ্গে প্রোটিনের গঠন পরিবর্তনের যোগসূত্র রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় পলিস্টাইরেন থেকে সৃষ্ট ন্যানোপ্লাস্টিকের সঙ্গে আলফা-সিনিউক্লেইন প্রোটিনের সম্পর্ক মিলেছে।
অতীতে পার্কিনসন’স রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক গঠনের এই প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন বিজ্ঞানীরা।
“পার্কিনসন’সকে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল স্নায়বিক রোগ বলা হয়,” বলেন ডিউক ইউনিভার্সিটির স্নায়ু-জীববিজ্ঞানী এবং দলটির জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যান্ড্রু ওয়েস্ট।
“পার্কিনসন’স রোগের পেছনে একাধিক প্রাকৃতিক উপাদানের ভূমিকা রয়েছে, –এ বিষয়ে গবেষণায় প্রাপ্ত অসংখ্য ডেটা এমন ইঙ্গিত করলেও সেসব উপাদানের অধিকাংশই এখনও শনাক্ত করা যায়নি।”
বিভিন্ন দ্রবণে, পরীক্ষাগারে উৎপাদিত কোষে এবং পার্কিনসন’সের উপসর্গ যুক্ত জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সৃষ্ট ইঁদুর; এই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে পরীক্ষা চালিয়ে দলটি দেখতে পেয়েছে প্লাস্টিকের উপস্থিতিতে অস্বাভাবিক বড় আকারের আলফা-সিনিউক্লেইন গঠিত হয়।
কোষের লাইসোমে পলিস্টাইরেন থেকে উদ্ভুত ন্যানোপ্লাস্টিকের সঙ্গে সিনিউক্লেইন প্লাস্টিকের মধ্যে শক্তিশালী রাসায়নিক বন্ধনের উপস্থিতি শনাক্ত করে দলটি। সাধারণত লাইসোমে কোষের বর্জ্য নিষ্কাশন ঘটে।
স্নায়ুকোষের প্রাকৃতিক বর্জ্য নিষ্কাশনে প্লাস্টিক বাধার সৃষ্টি করে, এমন প্রমাণ পেয়েছেন দলটি, যা পার্কিনসন’সের দিকে ইঙ্গিত করছে বলে মন্তব্য করেছে সায়েন্স একটি প্রতিবেদনে।
তবে এগুলো প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত ফলাফল এবং এখন পর্যন্ত মানব শরীরে পরীক্ষাটি প্রয়োগ করে দেখা যায়নি। ন্যানোপ্লাস্টিক এবং আলফা-সিনিউক্লেইন মধ্যে সম্পর্ক এবং আলফা-সিনিউক্লেইন সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশের সম্পর্ক এখনও স্পষ্ট নয়।
পরীক্ষটিতে প্রোটিনের আকৃতির সঙ্গে ন্যানোপাস্টিকের সম্পর্ক উঠে এসেছে। আরো বিষদভাবে জানতে হলে আণবিক্ষণিক পর্যায়ে প্লাস্টিকের রাসায়নিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজন, লিখেছে সায়ন্স এলার্টের প্রতিবেদনটিতে।
প্রায় সবার রক্তেই এখন ক্ষুদ্র প্লাস্টিক উপাদান বিদ্যমান, এমন প্রমাণ মিলছে বিগত বছরগুলোর বিভিন্ন গবেষণায়। এই উপস্থিতি কীভাবে আমাদের শরীরের ওপর প্রভাব ফেলছে সেটি সামনের বছরগুলির গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
“যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ন্যানোপ্লাস্টিক উপাদানের সঙ্গে অটোইমিউন রোগের সম্পর্ক রয়েছে,” ওসেস্ট বলেন “সেখানে আমাদের পরীক্ষায় প্রাপ্ত সম্পর্ক ইঙ্গিত করছে ন্যানোপ্লাস্টিক দূষণের সঙ্গে পার্কিনসনসসহ অন্যান্য স্মৃতিভ্রংশ রোগের সম্পর্ক নিয়ে আরও পরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন।”
অটোইমিউন রোগ বলতে এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বাভাবিক কোষ এবং জীবাণুর পার্থক্য ধরতে পারে না। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বাভাবিক কোষকেই ভুল করে আক্রমণ করে বসে।
মূল গবেষণাপত্রটি সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।