২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই খাতের লাগাম টানতে কঠোর নজরদারির পক্ষে বিল গেটস

এপস্টেইনের সঙ্গে কেলেঙ্কারির ঘটনার পর জনসম্মুখে বিল গেটসের বড় ধরনের কোনো উপস্থিতির মধ্যে অগাস্ট মাসের প্রবন্ধ ও রোববারের সাক্ষাৎকারটি ছিল অন্যতম।

এআই খাতের লাগাম টানতে কঠোর নজরদারির পক্ষে বিল গেটস

গেটস বলেছেন, খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলে বর্তমানের আধুনিক বিভিন্ন এআই টুলের মতো এত শক্তিশালী অস্ত্র মানব ইতিহাসে আর কখনও দেখা যায়নি। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 02:34 PM

Updated : 28 Sep 2026, 02:34 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও দানশীল বিল গেটস।

এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ক্রিস্টেন ওয়াকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন আইনপ্রণেতা ও আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থাকে অবিলম্বে এআই খাতের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিল গেটস বলেছেন, সঠিক নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এ প্রযুক্তি উন্মুক্ত রাখা হলে তা ‘একশ কোটি মানুষের মৃত্যু’র মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-রেগুলেশন যে যথেষ্ট নয়, তা সবাই বুঝতে পারছে।

“সুরক্ষা ব্যবস্থা ও নজরদারি কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে আইনপ্রণেতা ও রাজনীতিবিদদের অবশ্যই আলোচনার টেবিলে আসতে হবে এবং এটা বাধ্যতামূলক বিষয় হওয়া উচিত।”

শিল্প খাতের ভাষায় বিষয়টিকে ব্যবসার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত খরচ বা ‘ওভারহেড’ হিসেবে বর্ণনা করে গেটস বলেছেন, “এটা শিল্পের জন্য সামান্য কিছু খরচ বাড়াবে। তবে তাদের কাজের গতি নাটকীয়ভাবে ধীর করে দেবে না।”

গেটস বলেছেন, খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে বর্তমানের আধুনিক বিভিন্ন এআই টুলের মতো এত শক্তিশালী অস্ত্র মানব ইতিহাসে আর কখনও দেখা যায়নি।

অগাস্ট মাসের শেষদিকেই বিল গেটস এআইয়ের সম্ভাব্য মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ৬ হাজার শব্দের দীর্ঘ নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর, মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হিসেবে পরিচিত তিনি এমন সতর্কবার্তা দিলেন।

স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি জগতের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও বিল গেটসের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এআইয়ের অপব্যবহারের ফলে জৈব অস্ত্র ও পারমাণবিক যুদ্ধের মতো বিভিন্ন উপায়ে মানবজাতির ব্যাপক ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে বলে কিছু বিশেষজ্ঞ তাত্ত্বিক মত প্রকাশ করেছেন।

এরইমধ্যে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধেও এআইকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ভীতিকর উদ্বেগের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার গার্ডিয়ানে প্রকাশ পাওয়া এক নিবন্ধে ‘নো অ্যাজিউর ফর আপারথাইড’ নামের সংগঠনের মোহাম্মদ হুসেন ও গ্রানাতে কিম বলেছেন, মাইক্রোসফটের কর্মী ও কর্মীরা এমন প্রচারণা চালিয়েছেন, যেন কোম্পানিটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ও মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ইরানে মানুষ হত্যার কাজে এআই টুল ব্যবহার করেছে।

নিবন্ধের লেখকরা সতর্ক করে বলেছেন, এআইয়ের মাধ্যমে সংঘটিত ‘ভয়াবহতা’ যুক্তরাষ্ট্রেও দেখা যাচ্ছে। যেমন, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসীদের সার্বক্ষণিক নজরদারি, গ্রেপ্তার ও নির্বাসনের মতো কাজে মাইক্রোসফটের অ্যাজিউরের মতো এআই টুল ব্যবহার করেছে।

জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে কেলেঙ্কারির ঘটনার পর জনসম্মুখে বিল গেটসের বড় ধরনের কোনো উপস্থিতির মধ্যে অগাস্ট মাসের প্রবন্ধটি ও রোববারের সাক্ষাৎকারটি ছিল অন্যতম।

২০০৮ সালে নাবালিকাদের যৌনপেশার জন্য সংগ্রহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এপস্টেইন। এর ১১ বছর পর কারাবন্দী থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন তিনি।

গেটসের দাতব্য সংগঠনের উদ্যোগে পরিচালিত ও জুলাইয়ে প্রকাশ পাওয়া এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এপস্টেইনের সঙ্গে প্রায় ৩০টি বৈঠকে অংশ নেওয়া সংগঠনটির কর্মকর্তা ও নেতাদের মধ্যে গেটসও ছিলেন।

এপস্টেইনের স্বীকারোক্তি বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ গেটসের বিরুদ্ধে ওঠেনি। তবে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো ‘প্রতিটি মুহূর্তের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ’ করেছেন। তিনি এখনও ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকার রসিকতার ছলে গেটসকে প্রশ্ন করেন, “পেশাগত বা ব্যক্তিগত জীবনে এমন কি কোনো ক্ষেত্র আছে যেখানে আপনি এআই এড়িয়ে চলেন বা বলেন যে, ‘আমি এই ক্ষেত্রে এআইয়ের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করব না’?”

হাসি ও কৌতুকমিশ্রিত কণ্ঠে বিল গেটস বলেছেন, “আচ্ছা, আমি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করছি না। আমি এমন কেউ নই যে এআইকে বলছি, ‘তুমি কি আমাকে পছন্দ করো? বা আমি কি একজন ভালো মানুষ?’

“আমি কখনই সেই পথে যাইনি। কারণ পরিবার, বন্ধু ও সবকিছুর দিক থেকে আমি সৌভাগ্যবান। আমি এআইয়ের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলিনি। এআই জানে, আমি একজন গম্ভীর মানুষ।”