গণিত ও বিজ্ঞানের জটিল সমস্যার সমাধান দিল ওপেনএআই
গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিষয় গিটহাবে দুটি নতুন পান্ডুলিপি আকারে প্রকাশ করেছে ওপেনএআই। এটা যা যে কোনো গবেষক বা ব্যবহারকারী দেখতে পাবেন।
৩৭২টি জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান ও অগ্রগতি নিয়ে সাতশ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশের কয়েক সপ্তাহের মাথায় আরও নতুন কিছু বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধানের কথা জানাল মার্কিন এআই কোম্পানি ওপেনএআই।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, এবার কেবল গণিত নয়, কম্পিউটার সায়েন্স ও পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধানেও নতুন ফল পাওয়ার দাবি করেছে কোম্পানিটি।
সাম্প্রতিক তথ্য উন্মোচনে তিনটি ভিন্ন কৌশল নিয়েছে ওপেনএআই। গাণিতিক এসব ফলাফল সবার জন্য প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি, যাতে অন্য গবেষকরা তা পর্যালোচনা করে ব্যাখ্যা তৈরি করতে পারেন।
অন্যদিকে, কম্পিউটার সায়েন্স ও পদার্থবিজ্ঞানের ফলাফলের ক্ষেত্রে বাইরের বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে তারা।
কম্পিউটার সায়েন্সের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা নিজেদের ব্যাখ্যা ও সারসংক্ষেপ তৈরি করছেন, যার পাশাপাশি এআইয়ের তৈরি করা মূল আউটপুটও সবার জন্য উন্মুক্ত রেখেছে ওপেনএআই।
পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন তথ্য এখনই প্রকাশ না করে পর্যালোচনাকারী দলের হাতেই ছেড়ে দিয়েছে কোম্পানিটি। এ পুরো প্রক্রিয়াকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকরী করতে সব পক্ষ থেকে মতামত চেয়েছে তারা।
গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় কোডিং প্ল্যাটফর্ম গিটহাবে দুটি নতুন পান্ডুলিপি আকারে যোগ করেছে ওপেনএআই, যা যে কোনো গবেষক বা ব্যবহারকারী দেখতে পাবেন।
এর মধ্যে একটি লেখায় তরঙ্গের গতিবিধি বা আচরণ কীভাবে কাজ করে তা বোঝাতে একটি পুরনো ধারণা ছিল, যেটাকে বলে ‘সোগেস লোকাল স্মুথিং’। ওপেনএআইয়ের তৈরি এআই দেখিয়েছে, সব ধরনের স্থান বা মাত্রায় তরঙ্গের ক্ষেত্রে এ গাণিতিক ধারণা সত্যি।
অপর লেখায় রয়েছে কম্পিউটার সায়েন্সের বহুল আলোচিত ‘এক্সপোনেনশিয়াল টাইম হাইপোথিসিস’, যা কিছু জটিল গাণিতিক সমস্যার দ্রুত সমাধান পাওয়া অসম্ভব বলে ধরে নিত সেই ধারণাটিকে ভুল প্রমাণ করেছে।
ওপেনএআই বলেছে, কম্পিউটার সায়েন্সের ‘এক্সপোনেনশিয়াল টাইম হাইপোথিসিস’ বা ইটিএইচ’কে এতদিন সর্বজনীন সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া হত।
ডেটাবেইস, কম্পিউটেশনাল বায়োলজি ও জিওমেট্রি বা জ্যামিতির মতো বহুমুখী ক্ষেত্রের শত শত গবেষণাপত্র তৈরি হয়েছে এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে।
ধারণাটি ভুল প্রমাণ হলে তাত্ত্বিকভাবে এসব ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য আরও দ্রুত ও দক্ষ অ্যালগরিদম তৈরি করা সম্ভব হবে।
যেসব বিজ্ঞানী প্রথম এই ইটিএইচ তত্ত্ব প্রস্তাব করেছিলেন ওপেনএআইয়ের এআই মডেলের তৈরি এ নতুন ফলাফল পরীক্ষা ও ব্যাখ্যার জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ দলে তারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
অন্যদিকে, পদার্থবিজ্ঞানের এই গবেষণায় চার মাত্রায় গেজ ফিল্ড ও ফার্মিয়নযুক্ত পরস্পর ক্রিয়াশীল কোয়ান্টাম ফিল্ড তত্ত্বের গাণিতিক প্রমাণ রয়েছে।
যে দলটি পদার্থবিজ্ঞানের এসব ফল পরীক্ষা করে দেখছে তারা এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রকাশ করেনি। তবে কাজের বিষয়ে যে কোনো প্রশ্নের জন্য নিজেদের ইমেইল ঠিকানাটি প্রকাশ করেছে তারা।
কোম্পানিটি বলেছে, এআই মডেলগুলোর এসব বিজ্ঞানভিত্তিক সমস্যা সমাধানের জন্য তারা কোনো অ্যাকাডেমিক ক্রেডিট বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দাবি করবে না, বরং যেসব গবেষক ও বিশেষজ্ঞ এগুলো বিশ্লেষণ করে নথি তৈরি করছেন, পুরো কৃতিত্ব তাদেরই দেওয়া হবে।
পাশাপাশি, এআই মডেলগুলো যাতে অন্য গবেষকদের আগের বিভিন্ন উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও ধারণা যথাযথভাবে স্বীকার ও স্বত্ব নিশ্চিত করে তা তদারকির দায়িত্বও থাকছে এই বিশেষজ্ঞ দলগুলোর ওপর।
