সাজার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আকুতি ঝাও’র

“বেশিরভাগ ঘটনাতেই দেখা গেছে, কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা ধনকুবেররা এমন দেশে আশ্রয় নিয়ে থাকেন, যেখান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের হস্তান্তর করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।”

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 Nov 2023, 07:47 AM
Updated : 26 Nov 2023, 07:47 AM

আর্থিক জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাজা পাওয়ার আগেই সাবেক বাইন্যান্স সিইও চ্যাংপেং ঝাও’কে নিজ মাতৃভূমি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফেরার সুযোগ দিতে মার্কিন আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তার আইনজীবিরা।

বৃহস্পতিবার আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ঝাও’র আইনজীবিরা সিয়াটলের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক রিচার্ড জোনসের কাছে আবেদন জানান, তিনি যেন মঙ্গলবার মেজিস্ট্রেট বিচারকের দেওয়া জামিনের শর্ত পাল্টে না দেন। এর ফলে তিনি সাজা ঘোষণার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সুযোগ পাবেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কোম্পানি বাইন্যান্সের জালিয়াতি বিরোধী প্রকল্পে ব্যর্থতার অভিযোগে গেল মঙ্গলবার কোম্পানির সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক ঝাও।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বাইন্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক জালিয়াতি বিরোধী আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন এমন সংগঠনের সঙ্গে এক লাখের বেশি সন্দেহজনক লেনদেন চালিয়েছে, যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গি সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। এর মধ্যে রয়েছে হামাস, আল কায়েদা এবং ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

এ অভিযোগের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৩০ কোটি ডলারের বেশি আর্থিক জরিমানা দিতে রাজি হয়েছে বাইন্যান্স। এ ছাড়া, মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সিএফটিসি’কে ১৫ কোটি ডলার জরিমানা দিতে রাজি হয়েছেন ঝাও নিজেও।

বুধবার আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বাদিপক্ষের আইনজীবিরা উল্লেখ করেন, এ অপরাধের জন্য ঝাও’র কারাদণ্ড হতে পারে ১৮ মাস পর্যন্ত।

সোমবার জোনসকে ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক ব্রায়ান সুচিদা’র রায় পরিবর্তনের আবেদন জানায় মার্কিন বিচার বিভাগ, যা তাকে ২৩ ফেব্রুয়ারি সাজার রায় ঘোষণার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সুযোগ দেবে। এর জন্য সাড়ে ১৭ কোটি ডলারের জরিমানা বন্ডেও স্বাক্ষর করেন ঝাও।

মার্কিন সরকার বলছে, ঝাও সাজা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসবেন কি না, তার নিশ্চয়তা নেই এ রায়ে। কারণ আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তিও নেই। আর সেখানে শত শত কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে ঝাও’র।

তবে, ঝাও’র আইনজীবিরা যুক্তি দেখিয়েছেন, ঝাও এই ‘বড় জরিমানার’ জামিন নিতে বাধ্য ছিলেন না। বরং তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসেছেন।

তারা আরও বলেন, ঝাও আরব আমিরাতে ফেরার পর তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের সঙ্গে সময় কাটিয়ে সাজার প্রস্তুতি নেবেন।

শুক্রবার বিচার বিভাগ এক ব্রিফিংয়ে বলেছে, রায়ের আগে ঝাও’কে মুক্তভাবে চলাফেরার সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি ‘অস্বাভাবিক’। তাদের বিশ্বাস, ঝাও’র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মাধ্যমেই এ ঝুঁকি ‘সামলানো’ যাবে।

“বেশিরভাগ ঘটনাতেই দেখা গেছে, কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা ধনকুবেররা এমন দেশে আশ্রয় নিয়ে থাকেন, যেখান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের হস্তান্তর করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।” --বলেন বিচার বিভাগের আইনজীবিরা।