টেক্সাসে ক্ষমতার পালাবদলে কী ঘটছে মাস্কের কপালে?
করোনাভাইরাস মহামারীর সময় ক্যালিফোর্নিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধের পর ২০২০ সালে টেক্সাসে চলে যান মাস্ক। থিতু হন অঙ্গরাজ্যটির অস্টিন শহরের ঠিক বাইরে।
টেক্সাসকে নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের কেন্দ্র বানাতে কম চেষ্টা করেননি ইলন মাস্ক। রাজনৈতিক মিত্র জুটিয়েছেন, কারখানা বানিয়েছেন, মহাকাশযান তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। এমনকি স্পেসএক্সের সদর দপ্তরও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সরিয়ে এনেছেন সেখানে।
কিন্তু এত আয়োজনের পর অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল ঘটেছে। রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে ধাক্কা দিয়ে জিতেছেন ডেমোক্র্যাটরা।
আর এই নির্বাচনি ধাক্কা শুধু টেক্সাসের রাজনীতিকদের জন্য নয়, মাস্কের জন্যও বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে।
করোনাভাইরাস মহামারীর সময় ক্যালিফোর্নিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধের পর ২০২০ সালে টেক্সাসে চলে যান মাস্ক। থিতু হন অঙ্গরাজ্যটির অস্টিন শহরের ঠিক বাইরে।
এরপর ছয় বছরে অঙ্গরাজ্যটিতে নিজের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়িয়েছেন তিনি।
২০২১ সালে দক্ষিণ টেক্সাসে স্পেসএক্সের স্টারশিপ কর্মসূচিতে আরও মনোযোগ দেন মাস্ক। কোম্পানির কর্মীদের সেখানে চলে গিয়ে ভবিষ্যতের মহাকাশযান তৈরির কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। একই বছরের মার্চে রিও গ্রান্দে নদীর কাছে উৎপাদন ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটির নাম দেন ‘স্টারবেইস’।
২০২৩ সালে অস্টিনের পূর্ব দিকে স্টারলিংক কর্মসূচির গ্রাহক টার্মিনাল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরির জন্য বিশাল কারখানা গড়ে তোলেন তিনি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঘোষণা দেন, স্পেসএক্সের কর্পোরেট সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়ার হথর্ন থেকে টেক্সাসের স্টারবেইসে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ হিসেবে দেখান ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ।
এরপর টেক্সাসে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় আরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা আসে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে স্পেসএক্স বলে, গ্রাইমস কাউন্টিতে তৈরি হবে ‘টেরাফ্যাব’। কোম্পানিটির ভাষায়, এটি হবে চিপ তৈরিতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ’।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে ১০ কোটি বর্গফুটের বেশি উৎপাদন এলাকা নিয়ে একটি সমন্বিত কারখানা গড়ে তোলা হবে। আয়তনের হিসাবে যা যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৭০০টি ফুটবল মাঠ, ১৫টি পেন্টাগন কিংবা তিনটি সেন্ট্রাল পার্কের সমান।
টেক্সাসে সবকিছুই বড় করে করার একটা প্রবণতা আছে। মাস্কের ব্যবসায়িক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর রাজনীতিকদের সঙ্গে তার সখ্যও তার ব্যতিক্রম ছিল না। অঙ্গরাজ্যটির রাজনৈতিক পরিবেশ, ব্যবসার নিয়মকানুন এবং রিপাবলিকান নেতাদের প্রতি ভালোবাসার কথা বারবার জপেছেন তিনি। রাজনীতিকরাও কম ভালোবাসা দেখাননি।
গত জুলাইয়ে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট মাস্ককে ‘আমাদের সময়ের শীর্ষ দূরদর্শী’ বলে প্রশংসা করেন। শন হ্যানিটির অনুষ্ঠান পরিচালনার সময় তিনি বলেন, ‘টমাস এডিসনের মতো। হয়তো তার চেয়েও বড়।’
তবে, রাজনীতির মঞ্চে প্রশংসা আর ভোটের বাক্সের হিসাব যে এক নয়, তা এবার বেশ ভালোভাবেই বোঝা গেল।
নির্বাচনে প্রায় ৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, তবু রক্ষা হলো না
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রায় ৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন মাস্ক। নিজের আমেরিকা পিএসি এবং অন্যান্য সংগঠনের মাধ্যমে এই অর্থ নির্বাচনি প্রচারে ঢালেন তিনি। এর প্রায় অর্ধেকই খরচ হয় টেক্সাসের প্রার্থীদের পেছনে।
এত অর্থ বিনিয়োগের পরও মঙ্গলবার টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয় ঠেকানো যায়নি। একসময় রিপাবলিকানদের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যটিতে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। মাস্কের ঘনিষ্ঠ অনেক রিপাবলিকান রাজনীতিকও শিগগিরই ক্ষমতা হারাতে যাচ্ছেন।
তাহলে এখন কী করবেন মাস্ক? টেক্সাসের সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতোই রাখবেন, নাকি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে কৌশল বদলাবেন?
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আর্স টেকনিকার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এর উত্তর এখনই জানা না গেলেও মাস্কের পরবর্তী পদক্ষেপ বোঝার জন্য কয়েকটি বিষয় নজরে রাখা জরুরি।
প্রথম সূত্র মিলতে পারে তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করতে যার বিশেষ কোনো উপলক্ষ লাগে না, সেই মাস্কই মঙ্গলবার রাতে ছিলেন অস্বাভাবিক নীরব। রিপাবলিকানদের পরাজয় যখন স্পষ্ট হয়ে উঠছিল, তখনও তার কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।
টেক্সাসে রাত ১২টা পেরোনোর ১২ মিনিট পর প্রথম মন্তব্য করেন তিনি। লেখেন, ‘মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ধারণাটি এখন বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।’
পরে কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করলেও আবার নিজের কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রক এবং স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার প্রচারে ফিরে যান মাস্ক।
নির্বাচনের ফল নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও তার ওই মন্তব্যের সময়টা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। টেক্সাসের রাজনৈতিক হাওয়া বদলানোর পর মাটির নিচে বা মাটির ওপরে নয়, এবার যেন তার আগ্রহ আরও বেশি মহাকাশে।
রাজনীতির রং আবার বদলাবেন মাস্ক?
মাস্কের রাজনৈতিক অবস্থান বদলানোর ইতিহাস নতুন নয়। একসময় বারাক ওবামার নির্বাচনি প্রচারে অর্থ সংগ্রহ করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনকেও সমর্থন দিয়েছিলেন।
এরপর ডানপন্থি রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে পরিচিত ও বড় আর্থিক সমর্থকে পরিণত হন।
এখন তার সামনে দুটি পথ।
প্রথমত, রিপাবলিকান ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারেন তিনি। দলটির ভেতরে এখনো তার মিত্র রয়েছেন। এমনকি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী বাছাইয়েও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা নমনীয় করতে পারেন। অতীতে অবস্থান বদলের অভিজ্ঞতা থাকায় এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে প্রশ্ন হলো, ডেমোক্র্যাটরা এখন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কতটা আগ্রহী হবেন?
ডনাল্ড ট্রাম্পের পর গত কয়েক বছরে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সবচেয়ে সোচ্চার প্রতিপক্ষদের একজন হয়ে উঠেছেন মাস্ক। তার কটাক্ষ, রাজনৈতিক মন্তব্য ও রিপাবলিকানদের প্রতি আর্থিক সমর্থন দলটির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছে।
অথচ মজার বিষয় হলো, ডেমোক্র্যাটরা গত এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে যেসব উদ্যোগের কথা বলে আসছেন, মাস্ক সেগুলোর কয়েকটিতেই বিপুল বিনিয়োগ করছেন। দেশের ভেতরে উৎপাদন বাড়ানো, চিপ তৈরির কারখানা নির্মাণ এবং হাজার হাজার শিল্পকর্মসংস্থান সৃষ্টি তার ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অংশ।
এসব কর্মসংস্থানের অনেকগুলোই এমন এলাকায় তৈরি হচ্ছে, যেগুলোতে এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছেন।
তাই ডেমোক্র্যাটরা মাস্ককে তদন্তের মুখে ফেলবেন, নাকি তার সঙ্গে দরকষাকষিতে বসবেন, আগামী দুই বছরে সেটিই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
আর্স টেকনিকার বিশ্লেষণ বলছে, মাস্কের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা সম্ভবত ক্ষমতা। তবে প্রচলিত অর্থে রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়, বরং নিজের কল্পনার ভবিষ্যৎকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষমতা।
সেই ভবিষ্যতের কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এআই এজেন্ট, রোবট, স্বচালিত গাড়ি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি চালাতে প্রয়োজন বিপুল বিদ্যুৎ ও কম্পিউটিং অবকাঠামো।
এক্ষেত্রে টেক্সাসের নবনির্বাচিত সেনেটর জেমস তালারিকোর সঙ্গে মাস্কের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেটিও দেখার বিষয়।
নির্বাচনের আগে তালারিকোকে হারাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন মাস্ক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ী হন তালারিকোই।
নির্বাচনের পর দেওয়া বক্তব্যে মাস্কের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তালারিকো বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমরা নিজেদের গলিয়াথদের মোকাবেলা করেছি। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং পুরো ওয়াশিংটন ডিসির প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়েছি।’
পরে তিনি আরও বলেন, ‘আজ রাতে আমরা ওপরের সারির মানুষদের কাছে একেবারে স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছি: আমরা কারও কাছে পরাজিত হব না।’
তবে নির্বাচনি প্রচারের উত্তাপ কমলে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তালারিকো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি পুরো টেক্সাসের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন, প্রতিবেশীদের ভালোবাসবেন এবং বিভেদ বাড়ানোর বদলে সবার মধ্যে সেতুবন্ধ গড়বেন।
মাস্ক অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে ধনী ও পরিচিত বাসিন্দা। আগামী কয়েক দশকে টেক্সাসের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখার সামর্থ্যও তার রয়েছে। ফলে নির্বাচনের আগে একে অন্যের বিরুদ্ধে যত কথাই বলুন, শেষ পর্যন্ত দুজনকে একই অঙ্গরাজ্যে প্রতিবেশী হিসেবেই থাকতে হবে।
প্রশ্ন হলো, রাজনীতির মাঠের এই দুই প্রতিপক্ষ ব্যবসা ও উন্নয়নের প্রশ্নে কখনো এক টেবিলে বসতে পারবেন কি না।
টেক্সাস ছাড়ছে না স্পেসএক্স, তবে বিকল্প ঠিকানা আছে
স্পেসএক্সের বড় কার্যক্রম রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও ফ্লোরিডায়। ক্যালিফোর্নিয়া ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি। টেক্সাসেও এবার ডেমোক্র্যাটরা বড় জয় পেয়েছেন। আর ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটিক সোশালিস্টস অফ আমেরিকার একজন প্রার্থী সেনেট নির্বাচনে তিন শতাংশ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।
অর্থাৎ মাস্কের বড় ব্যবসায়িক কার্যক্রম থাকা তিন অঙ্গরাজ্যেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি তার পছন্দের মতো নেই।
তবে আর্স টেকনিকা এ বিষয়ে যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের কেউই মনে করছেন না যে স্পেসএক্স শিগগিরই টেক্সাস থেকে সদর দপ্তর গুটিয়ে নেবে।
অঙ্গরাজ্যটিতে কোম্পানিটির কার্যক্রম অনেক গভীরভাবে বিস্তৃত। স্টারশিপ, স্টারলিংক এবং কক্ষপথে ডেটা সেন্টার স্থাপনের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সদর দপ্তর সরিয়ে নেওয়া বড় বাধা তৈরি করতে পারে।
তবে মাস্কের প্রথম নির্বাচনি প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনায় তিনি আরও মনোযোগ দিতে পারেন।
তার আশঙ্কা, টেক্সাসের নবনির্বাচিত গভর্নর জিনা হিনোজোসাসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা স্থলভাগে ডেটা সেন্টার নির্মাণের গতি কমাতে পারেন। নির্বাচনে গ্রামীণ এলাকার এমন অনেক ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন হিনোজোসা, যারা নিজেদের বসতবাড়ির আশপাশে বিশাল ডেটা সেন্টার চান না।
এমনকি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও নির্বাচনের ফল থেকে একই ধরনের বার্তা নিতে পারেন। তারাও ডেটা সেন্টার নির্মাণ সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন।
অর্থাৎ ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে রাজনৈতিক আপত্তি শুধু ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে আসছে না। আর এই পরিস্থিতিই মাস্কের মহাকাশ পরিকল্পনাকে নতুন গুরুত্ব দিতে পারে।
আর্স টেকনিকা আগের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে জনমত মহাকাশে এমন অবকাঠামো স্থাপনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়ানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।
এ কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য কম্পিউটিং ক্ষমতা সরবরাহে পৃথিবীর কক্ষপথে কয়েক লাখ স্যাটেলাইট স্থাপনের পরিকল্পনায় মাস্ক আরও জোর দিতে পারেন।
তবে টেক্সাসের নির্বাচনি ফলাফল স্পেসএক্সের জন্য সব দরজা বন্ধ করে দেয়নি। অন্তত আগামী দুই বছর উৎক্ষেপণ ও স্যাটেলাইট ব্যবসার ক্ষেত্রে কোম্পানিটি অনুকূল নিয়ন্ত্রক পরিবেশ পাবে।
লুইজিয়ানায় নতুন স্টারবেইস?
টেক্সাসে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর লুইজিয়ানায় স্পেসএক্সের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মঙ্গলবারের সেনেট নির্বাচনে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন হলেও অঙ্গরাজ্যটি এখনো রিপাবলিকানদের নির্ভরযোগ্য ঘাঁটি।
আগামী বছর থেকেই সেখানে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে স্পেসএক্সের। লুইজিয়ানার দক্ষিণাঞ্চলকে বছরে কয়েকশ কিংবা হাজারখানেক স্টারশিপ উৎক্ষেপণের দীর্ঘমেয়াদি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এমনকি ভবিষ্যতে সেখানে ‘স্টারবেইস লুইজিয়ানা’ গড়ে তুলে স্পেসএক্সের নতুন সদর দপ্তর করার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
টেক্সাসে রাজনৈতিক মিত্র হারানোর পর মাস্কের জন্য লুইজিয়ানা যে একটি বিকল্প ঠিকানা হয়ে উঠতে পারে, সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে কোম্পানির সম্প্রসারণ পরিকল্পনা।
এক্ষেত্রে স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। মাস্কের রাজনৈতিক ঝুঁকি এখন কোম্পানির শেয়ারের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে। সোমবার বৃহত্তর শেয়ারবাজারে দর বাড়লেও স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় পাঁচ শতাংশ কম ছিল।
ডেমোক্র্যাটরা যদি এবার মাস্কের পেছনে লাগেন?
এবার আসা যাক আরও অস্বস্তিকর একটি সম্ভাবনায়।
ডেমোক্র্যাটরা যদি ঠিক করেন, মাস্কের সঙ্গে আর কোনো সমঝোতা নয়? সরকারি দক্ষতা বিভাগ বা ডজের কার্যক্রমের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি, তার একের পর এক কটাক্ষ ও অপমানজনক মন্তব্য, নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং রিপাবলিকানদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের জবাব দিতে যদি তারা তাকে চাপে ফেলতে চান?
তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
আর্স টেকনিকার প্রতিবেদনে এখানেই তদন্তের সম্ভাবনার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। যদিও কী ধরনের তদন্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনের এই অংশে বিস্তারিত আলোচনা নেই।
এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই, টেক্সাসের রাজনৈতিক পালাবদল মাস্কের ব্যবসায় কতটা প্রভাব ফেলবে। স্পেসএক্সের বিশাল বিনিয়োগ, উৎপাদন অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ পরিকল্পনার কারণে অঙ্গরাজ্যটি ছেড়ে যাওয়া সহজ সিদ্ধান্ত হবে না।
তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, টেক্সাসকে নিজের পছন্দের রাজনৈতিক পরিবেশ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মাস্ক। এবার সেই পরিবেশই বদলে যাচ্ছে। আর তার প্রথম প্রতিক্রিয়া যদি কোনো ইঙ্গিত দেয়, তাহলে মাটিতে রাজনৈতিক হিসাব মেলানোর পাশাপাশি মহাকাশে নতুন সম্ভাবনা খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে উঠতে পারেন তিনি।
রাজনীতির ময়দানে হারলে অন্তত মহাকাশে যাওয়ার পরিকল্পনা তো আছেই!
