৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টো মুদ্রায় অর্থায়ন করছে ইরান: মার্কিন সেনেট

ইরানের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার প্রবণতা ও দেশটির অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে সরব হয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টো মুদ্রায় অর্থায়ন করছে ইরান: মার্কিন সেনেট

এ ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচাও করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 07:09 PM

Updated : 30 Sep 2026, 07:08 PM

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের সঙ্গে যুক্ত জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি টিথারের ইউএসডিটি ব্যবহার করছে ইরান।

ইরানের ‘ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক’-এর জন্য বিষয়টা এখন ‘গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লাইফলাইন’-এ পরিণত হয়েছে বলে উঠে এসেছে মার্কিন সেনেটের এক প্রতিবেদনে।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে ও সন্ত্রাসী প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়নের মাধ্যম হিসেবে তেহরান এ ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, এ প্রতিবেদনটি তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন সেনেটের ‘পার্মানেন্ট সাবকমিটি অন ইনভেস্টিগেশনস’-এর র‍্যাঙ্কিং সদস্য সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল।

ইরানের সঙ্গে জড়িত ও আগে অবরুদ্ধ করা হয়েছে এমন ৮৪৬টি ক্রিপ্টোওয়ালেট নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখেছে সাবকমিটি।

সাবকমিটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এর মধ্যে ৮৪ শতাংশ ওয়ালেটই (যেগুলো মার্কিন ডলারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ‘ইউএসডিটি’ ব্যবহার করে) অর্থ লেনদেন করতে ও ইরানের স্থানীয় মুদ্রাকে চাঙ্গা রাখতে একচেটিয়াভাবে এ ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করেছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে প্রত্যক্ষ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এ গোপন ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামও যে কেনাবেচা হচ্ছে, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

২০২৪ সালের আগে সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন সংস্থার চিহ্নিত করা ক্রিপ্টো ওয়ালেটগুলোকে ‘সার্বিক ও ধারাবাহিকভাবে জব্দ করতে ব্যর্থ হয়েছে’ টিথার কর্তৃপক্ষ এবং এখনও ‘সুস্পষ্টভাবে অবৈধ ওয়ালেটগুলো বন্ধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে’ কোম্পানিটি।

ইরানের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার প্রবণতা ও দেশটির অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে সরব হয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

বিবৃতিতে সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেছেন, “আমার নতুন পিএসআই প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে কীভাবে টিথার ও এর মূল টোকেনটি ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

“এটা ইরানি সরকারকে তাদের আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোকে অর্থায়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আমাদের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।”

পাশাপাশি তিনি বিচার বিভাগ ও ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টকে ‘অবিলম্বে টিথার নিয়ে তদন্ত করার ও সম্ভাব্য এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার’ আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, এ অভিযোগের জবাবে টিথার বলেছে, তারা ‘অবৈধ অর্থায়নের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। এ পর্যন্ত তারা ইরান সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ কোটি ডলারের ইউএসডিটি জব্দ করতে সহায়তা করেছে।

টিথারের প্রধান নির্বাহী পাওলো আরডুইনো বলেছেন, “টিথার ধারাবাহিকভাবে প্রমাণ করেছে যে ইউএসডিটি কোনোভাবেই নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ব্যক্তি, সন্ত্রাসী সংগঠন বা অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল নয়।

“পাবলিক ব্লকচেইনগুলো কর্তৃপক্ষকে তহবিলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার এমন এক স্বচ্ছতা দেয়, যা নগদ অর্থের ক্ষেত্রে কখনই সম্ভব নয়। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে টিথার তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারে।”

এদিকে, নির্দিষ্ট কিছু ক্রিপ্টো লেনদেন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে বাইন্যান্স ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে কি না তা নিয়ে এ মাসের শুরুতে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

এর আগে, বিচার বিভাগ একাধিক কোম্পানির বিরুদ্ধে কালোবাজারের তেল বিক্রির বিনিময়ে ওই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশটিতে ১৫০ কোটি ডলার পাচার করার অভিযোগ এনেছিল।