২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্ন্যাপড্রাগন চিপ ও প্রাইভেসি স্ক্রিনসহ এল শাওমির ১৮ প্রো সিরিজ

কোয়ালকমের আধুনিক মোবাইল চিপসেট ‘স্নাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৬’ ব্যবহার করা প্রথম হ্যান্ডসেটগুলোর মধ্যে এটা একটা।

স্ন্যাপড্রাগন চিপ ও প্রাইভেসি স্ক্রিনসহ এল শাওমির ১৮ প্রো সিরিজ

হাওয়াইতে অনুষ্ঠিত স্ন্যাপড্রাগন সামিটেই এসব ফোন দেখিয়েছিল শাওমি। ছবি: শাওমি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Sep 2026, 09:11 AM

Updated : 26 Sep 2026, 09:11 AM

স্মার্টফোন বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস হিসেবে প্রো ১৮ সিরিজ উন্মোচন করেছে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি শাওমি।

গ্রাহক চীনের বাইরে থাকলে ফোনটি হাতে পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে ডিভাইসগুলোর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ‘নজর কাড়ার মতো’ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

কোয়ালকমের আধুনিক মোবাইল চিপসেট ‘স্নাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৬’ ব্যবহার করা প্রথম হ্যান্ডসেটগুলোর মধ্যে এটা একটা, যার মধ্যে ‘শাওমি ১৮ প্রো ম্যাক্স’ মডেলে ব্যবহৃত হয়েছে চিপটির আরও উন্নত সংস্করণ।

হাওয়াইতে অনুষ্ঠিত স্ন্যাপড্রাগন সামিটেই এসব ফোন দেখিয়েছিল শাওমি।

এসব ফোনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এতে রয়েছে ‘প্রাইভেসি-ফোকাসড’ স্ক্রিন, যা অনেকটা ‘স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা’য় ব্যবহৃত প্রযুক্তির মতোই।

এর উদ্দেশ্য পাশ থেকে কেউ যাতে স্ক্রিনের দিকে উঁকি দিয়ে দেখতে না পারে ও ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বা স্ক্রিনের কনটেন্ট অন্যদের দৃষ্টি থেকে সুরক্ষিত থাকে।

বর্তমান বাজারে স্যামসাংয়ের তুলনায় শাওমির এ প্রাইভেসি স্ক্রিনে আরও নিখুঁত ও সূক্ষ্ম সেটিং যোগ করা হয়েছে।

কেউ যদি ব্যাংকিং অ্যাপের মতো কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপের জন্য ফিচারটি চালু করেন তবে কেবল অ্যাপ খুললেই নয়; বরং কোনো পার্শ্ববর্তী কোণ থেকে যাতে ওই অ্যাপের নোটিফিকেশন, স্প্লিট-স্ক্রিন বা ফ্লোটিং উইন্ডো কেউ দেখতে না পারে ফোনটি তা নিশ্চিত করবে।

এ ছাড়া, প্রাইভেসি মোডের জন্য লোকেশনভিত্তিক নির্দিষ্ট সুবিধা রয়েছে। সামনের ক্যামেরার সাহায্যে ফোনের আশপাশে কোনো উৎসুক ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেলে ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিচারটি চালু করার পরামর্শ দেবে।

ব্যবহারকারী চাইলে পাশের বোতাম টিপেও ম্যানুয়ালি এটা অন করতে পারবেন।

ডিসপ্লে ও আধুনিক প্রযুক্তির ক্যামেরা সম্বলিত এসব ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়েছে এলটিপিও অ্যামোলেড প্যানেল, যা ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত ভেরিয়েবল রিফ্রেশ রেট, টু-কে রেজুলিউশন ও সর্বোচ্চ চার হাজার নিট পিক ব্রাইটনেস দেবে।

এ সিরিজে ‘১৮ প্রো’ সংস্করণের ডিসপ্লে ৬ দশমিক ৪ ইঞ্চি ও বড় আকৃতির ‘১৮ প্রো ম্যাক্স’ সংস্করণের ডিসপ্লে ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চি।

এ ছাড়া, আগের ১৭ প্রো সিরিজের মতো ফোনগুলোর পেছনের অংশে ছোট ডিসপ্লে বা সেকেন্ডারি স্ক্রিন রাখার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে শাওমি।

এসব ছোট স্ক্রিনের মাধ্যমে নোটিফিকেশন দেখার পাশাপাশি শাওমির ‘শাও এআই’ অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করে মিনি অ্যাপ জেনারেট করা সম্ভব।

ক্যামেরা বিভাগে উভয় ফোনেই আছে একই ধরনের প্রিমিয়াম ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ। যার মধ্যে রয়েছে ২৩ মিলিমিটার ফোকাল দৈর্ঘ্যের ২০০ মেগাপিক্সেলের মূল লেন্স, ৭৫ মিলিমিটারের ২০০ মেগাপিক্সেল টেলিফটো লেন্স ও একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রওয়াইড লেন্স।

দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ নিশ্চিত করতে ব্যাটারির ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। ‘১৮ প্রো’ মডেলে রয়েছে সাত হাজার ও ‘১৮ প্রো ম্যাক্স’ মডেলে রয়েছে সাড়ে আট হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের বড় ব্যাটারি।

এসব ডিভাইস ১০০ ওয়াট ওয়্যার্ড চার্জিং, ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং ও ২৭ ওয়াট রিভার্স ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করে। এর বেইস সংস্করণে রয়েছে ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ।

রং ও দামের ক্ষেত্রে কালো, সাদা, গোলাপি ও নীল রঙের পাশাপাশি পেছনে কিছুটা ট্রান্সপারেন্সিওয়ালা বিশেষ লাল রঙের রেড এডিশন এনেছে শাওমি।

এসব ফোনের প্রারম্ভিক দাম যথাক্রমে ৮৯৪ ডলার ও ১ হাজার ৪৩ ডলার। এ বছরের শেষদিকেই শাওমি ‘প্রো ১৮’ সিরিজটি বিশ্ববাজারে চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।