এফবিআইয়ের ৫ হাজার কর্মীর তথ্য বেহাত, দায় স্বীকার হ্যাকারদলের
এফবিআইয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপটি ‘অর্থের জন্য নয়’, বরং শাইনিহান্টার্স সম্পর্কে আগে দেওয়া এক সরকারি বিবৃতি প্রত্যাহারের জন্য সংস্থাকে বাধ্য করতে তারা এই কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের সার্ভার হ্যাক করে বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি করেছে কুখ্যাত হ্যাকার গোষ্ঠী শাইনিহান্টার্স।
এ সাইবার হামলায় এফবিআই কর্মী ও চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
রয়টার্স লিখেছে, এই সাইবার হামলার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ডেটার একটি নমুনা তারা দেখেছে। এদিকে, ‘ফোর জিরো ফোর মিডিয়া’ বলেছে, শাইনিহান্টার্সের একজন প্রতিনিধির কাছ থেকেও তারা হামলা বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।
এ সপ্তাহের শুরুতে এফবিআইয়ের ওয়েবসাইট অননুমোদিতভাবে দখলের পেছনেও এই হ্যাকাররাই জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শাইনিহান্টার্সের সেই মুখপাত্র ফোর জিরো ফোর মিডিয়াকে বলেছেন, “আমরা এফবিআইয়ে হ্যাকিং চালিয়েছি। আমাদের কাছে সব এফবিআই কর্মী ও আবেদনকারীর ডেটা রয়েছে।”
ওই সূত্রের তথ্য অনুসারে, ওরাকলের ‘পিপলসফট’ প্রোগ্রামে থাকা ‘জিরো-ডে এক্সপ্লয়েট’ ব্যবহার করে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের ‘গভক্লাউড’ সার্ভারে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল শাইনিহান্টার্স।
রয়টার্সের সঙ্গে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে এফবিআই বলেছে, ‘এফবিআইজবস ডটগভ’ পোর্টালের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের দাবি ও এফবিআই কর্মীদের ব্যক্তিগত শনাক্তকরণ তথ্যের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, তারা ‘বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় ও জোরালোভাবে’ তদন্ত করছে।
হ্যাকার গোষ্ঠী শাইনিহান্টার্সের কাছে ২ থেকে ৩ টেরাবাইট ডেটা রয়েছে বলে দাবি করা হলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করা নমুনায় এফবিআইয়ের ৫ হাজার কর্মীর নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, জন্মতারিখ, সোশাল সিকিউরিটি নম্বর ও জরুরি যোগাযোগের বিবরণ রয়েছে।
এ ছাড়া, চীন ও রাশিয়া বিরোধী অপারেশনসহ গোয়েন্দা, নিরাপত্তা এবং পাল্টা গুপ্তচরবৃত্তির কাজে নিয়োজিত কিছু এফবিআই ইউনিটের কাজের অ্যাসাইনমেন্ট বা বিবরণও হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে।
শাইনিহান্টার্সের অতীতের অনেক হ্যাকিংয়ের মূল উদ্দেশ্যই ছিল চাঁদাবাজি। বিগত বছরগুলোতে টিকটক থেকে শুরু করে রকস্টার গেইমস পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।
তবে, ফোর জিরো ফোর মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা হ্যাকার প্রতিনিধির দাবি, এফবিআইয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপটি ‘অর্থের জন্য নয়’, বরং শাইনিহান্টার্স সম্পর্কে আগে দেওয়া এক সরকারি বিবৃতি প্রত্যাহারের জন্য সংস্থাকে বাধ্য করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
গেল মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এফবিআই দাবি করেছিল, হ্যাকার গোষ্ঠীটি ‘ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়ার বিষয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করে থাকে’।
