১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভূমিকম্পে উদ্ধারকাজ চালাবে রোবট-আরশোলা ‘প্যারাবর্গ’

ভেঙে পড়া ভবন বা উদ্ধারকারীদের পৌঁছানোর জন্য বিপজ্জনক এমন স্থানে আটকে পড়া মানুষদের কাছে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে এসব আরশোলা।

ভূমিকম্পে উদ্ধারকাজ চালাবে রোবট-আরশোলা ‘প্যারাবর্গ’
লক্ষ্যবস্তুর ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থেকে ইনজেকশন দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব প্যারাবর্গ ৯৫ শতাংশ সফলতা পেয়েছে। ছবি: ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ড

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2026, 03:45 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

ভূমিকম্প বা এ ধরনের কোনো বড় দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জন্য একঝাঁক আরশোলার আগমনই হতে পারে জীবন-মরণের তফাৎ।

অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য সম্প্রতি ক্যামেরা ও অতি ক্ষুদ্রাকৃতির মেডিকেল ইনজেক্টর সংযোগওয়ালা ছয় পায়ের ‘সাইবর্গ পতঙ্গ’ বা ‘প্যারাবর্গ’ তৈরি করছেন একদল বায়োরোবোটিক্স প্রকৌশলী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, ভেঙে পড়া ভবন, গুহা বা উদ্ধারকারীদের জন্য বিপজ্জনক এমন স্থানে আটকে পড়া মানুষদের কাছে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই নকশা করা হয়েছে এসব আরশোলাকে।

‘ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ড’-এর বায়োরোবোটিক্স গবেষকরা ‘নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির’ বা ইউএনএসডব্লিউ-এর বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে যৌথভাবে এ উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছেন।

‘ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ড’-এর বায়োরোবোটিক্স প্রকৌশলী থাং ভো-ডোয়ান বলেছেন, তাদের এ গবেষণা সাইবর্গ পতঙ্গকে কেবল চলমান সেন্সর বা তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে না রেখে ক্ষুদ্র এক ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ বা জরুরি উদ্ধারকারী হিসেবে রূপান্তর করছে। এক্ষেত্রে জটিল বা গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সম্পর্কিত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

“গলে কয়েক দশক ধরে সাইবর্গ পতঙ্গগুলোকে কেবল অনুসন্ধান ও অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমরা এর পরবর্তী ধাপে যেতে চেয়েছিলাম। একবার যদি এরা কোনো আটকে পড়া মানুষকে খুঁজে পায় তবে কি এরা বাস্তবেও তাদের সাহায্য করতে পারে?”

এ গবেষণার অংশ হিসেবে ফার নর্থ কুইন্সল্যান্ডের বিশেষ প্রজাতির গর্ত খোঁড়া আরশোলার দেহে হালকা ওজনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও ক্যামেরা যোগ করা হয়েছে।

সাইবর্গ আরশোলাগুলোর দেহে এ প্রজাতিটির উপযোগী করে বিশেষভাবে তৈরি ও দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ‘অটো-ইনজেকশন’ ব্যবস্থা যোগ করেছেন গবেষকরা।

গবেষক থাং ভো-ডোয়ান বলেছেন, “প্রাকৃতিক বায়োমেকানিকসের এমন সংযোজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের কাছে উদ্ধারকারীদের সরাসরি পৌঁছানো অসম্ভব হলে সময়মতো জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিতে সাহায্য করবে।”

প্রাথমিক ধারণাগত পরীক্ষায় উঠে এসেছে, লক্ষ্যবস্তুর ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থেকে ইনজেকশন দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব প্যারাবর্গ ৯৫ শতাংশ সফলতা পেয়েছে। অন্যদিকে, সম্পূর্ণ নেভিগেশন ও ইনজেকশন দেওয়ার যৌথ কার্যক্রমে সাফল্যের হার ছিল ৭২ শতাংশ।

পিএইচডি গবেষক হাই নান লে বলেছেন, প্যারাবর্গগুলোকে সঠিক অবস্থানে স্থির রাখাই ছিল এই প্রকৌশলের মূল চ্যালেঞ্জ।

“সাইবর্গ আরশোলাটিকে লক্ষ্যবস্তুর কাছে গিয়ে সঠিকভাবে নিজের অবস্থান ঠিক করতে ও ইনজেকশন দেওয়ার সময় নিজেকে স্থির রাখতে হয়। প্রকাণ্ড আকারের আরশোলা সামনে দ্রুত হেঁটে আসছে দেখলে অনেকে অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। তবে আপনি যদি ধ্বংসস্তূপে বা গুহায় আটকে থাকেন তবে এই প্রযুক্তি জীবন বাঁচাতে পারে।”

দলটির আগের বিভিন্ন সাইবর্গ পতঙ্গ মডেলের মতোই ইলেকট্রোড ও মাইক্রোচিপ বসানোর সময় আরশোলাগুলোকে অচেতন করে নেওয়া হয়। কাজ শেষে এসব ডিভাইস সরিয়ে নিলে সাধারণ আরশোলার মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করে এরা।

‘নিউ সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ’-এর প্রধান টিম হাসিওটিস বলেছেন, এ প্রযুক্তি উদ্ধারকারী দলের সক্ষমতা অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।

“এসব সাইবর্গ পতঙ্গ যদি আমাদের পৌঁছাতে না পারা সংকীর্ণ স্থানে নিরাপদে প্রবেশ করে আহতদের অবস্থান শনাক্ত এবং জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারে তবে শহরের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠবে এসব আরশোলা।”

ভো-ডোয়ান বলেছেন, তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বিশেষায়িত সাইবর্গ পতঙ্গের পুরো ঝাঁক নামানো, যেখানে প্রতিটি পতঙ্গ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

“আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আমরা বাস্তব জরুরি পরিস্থিতিতে সাইবর্গ পতঙ্গের উদ্ধারকারী দল মোতায়েন হতে দেখব।”