১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

স্পেসএক্সের সামরিক সেবায় ৪ কোটি ডলার ব্যয় যুক্তরাজ্যের

স্টারলিংক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই স্টারশিল্ড গড়ে তোলা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্পেসএক্স মার্কিন সরকারি গ্রাহকদের জন্য পুরোপুরি ডেডিকেটেড স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কও তৈরি করে।

স্পেসএক্সের সামরিক সেবায় ৪ কোটি ডলার ব্যয় যুক্তরাজ্যের
স্পেসএক্স বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘স্টারলিংক’ ও সরকারি বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘স্টারশিল্ড’ সেবা দেয়। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Sep 2026, 07:13 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের সামরিক ও গোয়েন্দা সেবা স্টারশিল্ড ব্যবহারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাজ্য।

রয়টার্স লিখেছে, ইউরোপের অন্যান্য দেশ যখন মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই সামরিক যোগাযোগের জন্য স্পেসএক্সের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়িয়ে প্রায় চার কোটি ডলার ব্যয় করল ব্রিটিশ সরকার।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় রয়টার্সকে দেওয়া এক তথ্যে এ ব্যয়ের হিসাব সামনে এসেছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের বহরে বর্তমানে প্রায় এক হাজারটি স্টারশিল্ড টার্মিনাল ও পাঁচটি স্টারলিংক টার্মিনাল রয়েছে। যার মধ্যে টার্মিনাল ও এয়ারটাইম বাবদ স্টারশিল্ডের পেছনে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড ও স্টারলিংকের পেছনে ১ কোটি ৬৫ লাখ পাউন্ড ব্যয় করেছে দেশটি।

স্পেসএক্স বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘স্টারলিংক’ ও সরকারি বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘স্টারশিল্ড’ সেবা দেয়।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, স্পেসএক্স স্টারলিংককে যখন কেবল বিনোদন, কল্যাণ ও প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে তখনই তারা স্টারশিল্ডে যুক্ত হয়।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, স্টারশিল্ড ব্যবহারে ‘উন্নত এনক্রিপশন, সামরিক বাহিনীভিত্তিক সেবা শর্ত, সর্বোচ্চ স্তরের নেটওয়ার্ক অগ্রাধিকার, নমনীয় লাইসেন্সিং ব্যবস্থা ও বাড়তি কভারেজ’ নিশ্চিত করা যায়।

যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে স্টারশিল্ড একই স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন ও গ্রাউন্ড স্টেশন ব্যবহার করলেও তা আলাদা টার্মিনাল ও ডেডিকেটেড নেটওয়ার্ক গেটওয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

দেশটির নিজস্ব ‘স্কাইনেট’ সামরিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও ফ্রান্সভিত্তিক ‘ইউটেলস্যাট’-এর পার্টনারশিপের পরও এই সেবা গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্য।

স্টারলিংকের তুলনায় স্টারশিল্ডের খরচ বহুগুণ বেশি। ব্রিটিশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দেশটিতে ৫ টেরাবাইট ডেটার জন্য মাসিক ৫ হাজার ৫০০ পাউন্ড ও আনলিমিটেড ডেটার জন্য মাসিক ২৫ হাজার পাউন্ড খরচ হয় স্টারশিল্ডে।

অন্যদিকে, স্টারশিল্ডের প্রতিটি টার্মিনালের দাম চার হাজার থেকে সাত হাজার পাউন্ডের মধ্যে, যা ব্যবসায়িক স্টারলিংক টার্মিনালের দ্বিগুণ।

মাস্ক চান সেনাবাহিনী ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহার করুক

স্টারলিংকের তুলনায় সামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি স্পেসএক্সের ‘স্টারশিল্ড’ সেবার খরচ বেশি বলে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত দাম তালিকায় প্রকাশ পেয়েছে।

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে স্টারশিল্ডের দুটি প্রধান মাসিক পরিকল্পনা চালু রয়েছে, যেখানে ৫ টেরাবাইট ডেটার জন্য ৫ হাজার ৫০০ পাউন্ড ও আনলিমিটেড ডেটা প্ল্যানের জন্য মাসিক ২৫ হাজার পাউন্ড।

এর বিপরীতে, যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক স্টারলিংক গ্রাহকরা মাসিক ১ হাজার ৮৩০ পাউন্ডের বিনিময়ে ২ টেরাবাইট গ্লোবাল ডেটা ব্যবহারের সুযোগ পান।

এ ছাড়া, স্টারশিল্ডের প্রতিটি টার্মিনালের দাম চার হাজার থেকে সাত হাজার পাউন্ডের মধ্যে নির্ধারণ হয়েছে, যা ব্যবসায়িক স্টারলিংক টার্মিনালের দামের দ্বিগুণ।

এ বছরের শুরুতে প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন বলেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে কামিকাজি ড্রোন পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত স্টারলিংক সেবার দাম পেন্টাগনের জন্য পাঁচ গুণ করেছিল স্পেসএক্স, যা মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল।

এ বিষয়ে ইলন মাস্ক বলেছিলেন, ওই বিশেষ কার্যক্রমে স্টারলিংকের বদলে ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহার করা উচিত ছিল এবং দাম বাড়ানো বলার ফলে ভুল সেবার ব্যবহারের বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি আমেরিকার অন্যান্য অংশীদার দেশগুলোও এখন এ সামরিক সেবার মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে।

সামরিক অপারেশন পরিচালনায় এ প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে নিউ জিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা বর্তমানে স্টারশিল্ড ‘পরীক্ষামূলকভাবে’ ব্যবহার করে দেখছেন।

স্টারলিংক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই স্টারশিল্ড গড়ে তোলা হয়েছে। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে স্পেসএক্স মার্কিন সরকারি গ্রাহকদের জন্য পুরোপুরি ডেডিকেটেড স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন নেটওয়ার্কও তৈরি করে।

কোম্পানির সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন অনুসারে, প্রধানত দুটি বড় মার্কিন স্পেস ফোর্স কর্মসূচির আওতায় মার্কিন সরকার বহু বছর মেয়াদী স্টারশিল্ড চুক্তিতে ৬০০ কোটি ডলারেরও বেশি বরাদ্দ দিয়েছে।

২০২০ সালে স্টারলিংক সেবা চালুর পর থেকে স্পেসএক্স বিশ্বের বৃহত্তম ‘লো-আর্থ-অরবিট’ স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন তৈরি করতে পেরেছে।

এ স্যাটেলাইট ব্যবসাটি বর্তমানে ইলন মাস্কের কোম্পানির আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে এবং শেয়ারবাজারে তাদের সাম্প্রতিক আত্মপ্রকাশ বা আইপিওতে রেকর্ড গড়ার পেছনেও মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।