৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

চীন, যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বিশ্বের বৃহত্তম লিথিয়াম খনি অস্ট্রেলিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ার এ খনির ইতিহাস কেবল সাম্প্রতিক লিথিয়াম উত্তোলনের মধ্যেই সীমিত নয়, বরং প্রায় দেড়শ শতাব্দীর খনিজ উৎপাদনের এক ধারাবাহিক রূপ।

চীন, যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বিশ্বের বৃহত্তম লিথিয়াম খনি অস্ট্রেলিয়ায়

২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়া রেকর্ড ৯২ হাজার মেট্রিক টন লিথিয়াম উৎপাদন করেছে। ছবি: উইকিপিডিয়া কমন্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 31 Oct 2026, 12:09 PM

Updated : 31 Oct 2026, 12:08 PM

বিশ্বের সবচেয়ে বড় লিথিয়াম খনি যুক্তরাষ্ট্র বা চীনে নয়, বরং উচ্চমানের আকরিক নিয়ে খনিজ লিথিয়াম উৎপাদনে বিশ্বজুড়ে একক আধিপত্য ধরে রেখেছে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার এক খনি।

প্রযুক্তি সংবাদের সাইট স্ল্যাশগিয়ার প্রতিবেদনে লিখেছে, দেড়শ শতাব্দীর পুরনো খনন ইতিহাস ও আধুনিক ব্যাটারি রিসাইক্লিং প্রযুক্তির উত্থানের মাঝেও বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইভি বিপ্লবের মূল জোগানদার হিসেবে কাজ করছে খনিটি।

‘গ্রিনবুশেস লিথিয়াম অপারেশনস’ নামের এই লিথিয়াম খনিটি ‘টেলিসন লিথিয়াম’ কোম্পানি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই স্থানটির খনিজ উত্তোলনের ইতিহাস বেশ পুরনো।

১৮৮৮ সালে টিন উত্তোলনের মাধ্যমে এখানে খননকাজ শুরু হয়, যা একে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘতম ধারাবাহিক খনন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। তবে স্থানটিতে ১৯৮৩ সাল থেকে লিথিয়াম উত্তোলন ও উৎপাদন শুরু হয়।

বর্তমানে খনিজ লিথিয়াম উৎপাদনে বিশ্বজুড়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০২৫ সালে দেশটি রেকর্ড ৯২ হাজার মেট্রিক টন লিথিয়াম উৎপাদন করেছে।

এ তালিকায় ৬২ হাজার মেট্রিক টন নিয়ে চীন দ্বিতীয় ও ৫৬ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে চিলি তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এদিকে, ১৯৬০-এর দশকের পর এবারই প্রথম নতুন লিথিয়াম প্রকল্প নিয়ে বাজারে জোরকদমে নামছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বের যে কোনো খনির তুলনায় গ্রিনবুশেসের লিথিয়াম আকরিক সবচেয়ে উচ্চমানের বলে বিবেচিত। এ গুণগত মানের কারণেই কম খরচে এখান থেকে আকরিকভিত্তিক লিথিয়াম উৎপাদন করা সম্ভব।

বড় উন্মুক্ত খনি ও চারটি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট নিয়ে এই গ্রিনবুশেস সাইটটি গঠিত। যার মধ্যে রয়েছে দুটি কেমিক্যাল-গ্রেড প্ল্যান্ট, একটি টেকনিক্যাল-গ্রেড প্ল্যান্ট ও একটি টেইলিংস রিট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট।

প্ল্যান্টগুলোর বর্তমানে বার্ষিক সর্বোচ্চ ১৫ লাখ মেট্রিক টন ঘনীভূত লিথিয়াম উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া নতুন আরেকটি প্ল্যান্ট পুরোদমে চালু হলে এর সঙ্গে বার্ষিক আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতা যোগ হবে।

এই লিথিয়াম খনির প্রাচীন ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনবুশেস খনির ইতিহাস কেবল সাম্প্রতিক লিথিয়াম উত্তোলনের মধ্যেই সীমিত নয়, বরং প্রায় দেড়শ শতাব্দীর বহুভিত্তিক খনিজ উৎপাদনের এক ধারাবাহিক রূপ।

১৮৮৮ সালে টিন উত্তোলনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে খনিটি ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সেই ধারায় চলে। এরপর স্লুইসিং পদ্ধতি ও ভারী সরঞ্জামের ড্রেজিং পার হয়ে ১৯৬৪ সালে শিলা থেকে টিন নিষ্কাশনের আধুনিক পর্ব শুরু হয়।

১৯৯২ সালে ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য অপরিহার্য ধাতু ‘ট্যান্টালম’ উত্তোলন শুরু হলে বিশ্ববাজারে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। ২০০২ সালে বাজার ধসে সাময়িক স্থবিরতা এলেও ২০১১ সালে পুনরায় ট্যান্টালম খনন চালু হয়।

অন্যদিকে, ১৯৮৩ সালে প্রথম লিথিয়াম মিনারেল কনসেনট্রেটর বসানোর মাধ্যমে স্থানটি তার লিথিয়াম বিপ্লবের সূচনা করে।

বর্তমানে খনিটির সবকটি প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট পুরোদমে চালু হলে বছরে ৮৯ লাখ মেট্রিক টন উচ্চমানের আকরিক প্রক্রিয়া করে বার্ষিক ২০ লাখ মেট্রিক টন ঘনীভূত লিথিয়াম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

তবে উচ্চ চাহিদার এই বিশ্ববাজার পরিবর্তনশীল, বিশেষ করে জার্মানির বড় লিথিয়াম খনি আবিষ্কার ভবিষ্যৎ ইভি বাজারকে নতুন রূপ দিতে পারে।

এরপরও সর্বোচ্চ মানের আকরিকের কারণে গ্রিনবুশেসের অবস্থান মজবুত হলেও প্রযুক্তির নতুন আবিষ্কার বড় প্রশ্ন তুলেছে।

সম্প্রতি পুরনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ লিথিয়াম ব্যাটারির কার্যসক্ষমতা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত ফিরিয়ে আনার নতুন প্রযুক্তি উন্মোচিত হয়েছে।

এ রিসাইক্লিং প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে ভবিষ্যতে হয়ত নতুন করে প্রকৃতি থেকে লিথিয়াম আকরিক খননের প্রয়োজনীয়তাই আর থাকবে না।