৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের
উইন্ডোজ নির্মাতা ৫১ বছরের পুরনো কোম্পানিটি নিশ্চিত করতে চাইছে, যেন তাদের সবচেয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতগুলো ধরতে উপযুক্ত জনবল প্রস্তুত থাকে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো খাতের ব্যয়বহুল বিনিয়োগের সঙ্গে মূলধনী দক্ষতার ভারসাম্য ধরে রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাইক্রোসফট।
বিশালসংখ্যক কর্মীর জন্য স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব ঘোষণা করেছে মার্কিন এই সফটওয়্যার জায়ান্টটি।
সোমবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মাইক্রোসফট বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত ও যুক্তরাজ্যে ‘লেভেল ৭০’ বা তার নিচে কর্মরত নির্দিষ্ট কিছু কর্মীদের জন্য ‘স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগের প্রস্তাব’ চালু করেছে তারা।
মাইক্রোসফটের এক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কোম্পানিটির মোট ২ লাখ ২৩ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার কর্মী এর আওতায় পড়বেন, যা কোম্পানিটির সার্বিক জনবলের প্রায় ২৭ শতাংশ।
অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই তথ্য আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে নিশ্চিত করেছেন সূত্রটি।
বর্তমানে অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআইসহ বেশ কয়েকটি শীর্ষ কোম্পানির ক্লাউড সেবার চাহিদা মেটাতে ও এআই-সংক্রান্ত উচ্চ কম্পিউটিংয়ের বাজার সামলাতে ডেটা সেন্টারগুলোতে বড় অংকের অর্থ ঢালছে মাইক্রোসফট।
জুলাইয়ে কোম্পানিটি বলেছিল, কেবল সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেই তাদের মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার।
এআই খাতে এমন আগ্রাসী বিনিয়োগের ফলে কোম্পানিটির নিজস্ব অর্থসংস্থানের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। আর এই আর্থিক চাপ সামলাতেই এমন পদক্ষেপ নিল মাইক্রোসফট।
এর আগে, এপ্রিলে মাইক্রোসফট প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ৭ শতাংশ কর্মী যোগ হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে জুলাইয়ে এসে আরও ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রকাশ করে কোম্পানিটি।
কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ স্মারকে মাইক্রোসফটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার এমি কোলম্যান লিখেছেন, “আমাদের কর্মপদ্ধতিতে যে ধারাবাহিক পরিবর্তন আনছি, তার একটি বড় অংশ এই স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগের প্রস্তাব।
“এটা কর্মীদের কাজের নমনীয়তা যেমন বাড়াবে, তেমনই নিজেদের ভবিষ্যতের পথ নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। বছরের শুরুতে স্বেচ্ছায় অবসর কর্মসূচির অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা এ সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়েছি।”
মাইক্রোসফট বর্তমানে তাদের ব্যবসায়িক মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে এআই ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বিল নেওয়ার প্রবণতা বাড়াচ্ছে কোম্পানিটি।
এরইমধ্যে কোম্পানির প্রোগ্রামার, বিক্রয়কর্মী ও সাপ্লাই চেইন কর্মীদের এআই টুলে সাফল্যও দেখা গেছে। উইন্ডোজ নির্মাতা ৫১ বছরের পুরনো কোম্পানিটি নিশ্চিত করতে চাইছে, যেন তাদের সবচেয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতগুলো ধরতে উপযুক্ত জনবল প্রস্তুত থাকে।
কোম্পানিটির মূল লক্ষ্য আর্থিক কাঠামোকে দুর্বল না করেই এই রূপান্তর ঘটানো।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্লাউড খাতের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যালফাবেট ও অ্যামাজন উভয় কোম্পানি থেকেই স্বল্পমেয়াদি তহবিল কমেছে বলে রিপোর্ট করেছিল।
তবে সেই একই সময়ে মাইক্রোসফটে ১ হাজার ৯৬৪ কোটি ডলারের স্বল্পমেয়াদি তহবিল যোগ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম।
সূত্র বলেছে, কোম্পানির কিছু মার্কেটিং, সেলস ও ইঞ্জিনিয়ারিং টিম এবারের স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগ কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কর্মীদের আগামী ডিসেম্বরের শুরুর মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না। আর যারা এতে রাজি হবেন, আসছে ৩১ ডিসেম্বর হবে কোম্পানিতে তাদের শেষ কর্মদিবস।
জুলাইয়ে মাইক্রোসফট বলেছিল, তাদের পূর্ববর্তী স্বেচ্ছায় অবসর কর্মসূচির আওতায় আসার যোগ্য কর্মীদের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি সেই সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন।
তবে সেবার কেবল ‘সিনিয়র ডিরেক্টর’ লেভেল ৬৭ বা তার নিচের কর্মীরাই এই সুবিধার আওতায় ছিলেন।
সূত্র বলেছে, নতুন উদ্যোগে পদমর্যাদার পরিধি বাড়িয়ে একেবারে ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যায় পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এবার কতজন কর্মীকে বিদায় দেওয়া হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করেনি মাইক্রোসফট।
বুধবার মাইক্রোসফট তাদের তৃতীয় প্রান্তিকের চূড়ান্ত আর্থিক প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে যাচ্ছে।
