Published : 17 Aug 2026, 11:26 AM
একই প্রজেক্টে ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনা পেয়ে মানুষের মতো সক্ষমতার লড়াইয়ে নেমেছে অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল। কাজ বাঁচাতে প্রতিপক্ষ এআই মডেলের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধ্বংসাত্মক ম্যালওয়্যার তৈরি করে সাইবার হামলাও চালিয়েছে এরা।
অ্যানথ্রপিকের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এআই এজেন্টদের এমনই উদ্বেগজনক রূপ সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
গবেষণায় অ্যানথ্রপিকের প্রকৌশলীরা এক ঝাঁক এআই এজেন্ট বা সোয়ার্মকে কিছু সুনির্দিষ্ট কাজ দেন। এআই এজেন্ট হচ্ছে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এমন স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেম।
পরীক্ষায় তিনটি ক্লড এজেন্টকে একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যার প্রজেক্টে কাজ করার অনুমতি এবং এদের পরস্পরবিরোধী নির্দেশনা দিয়েছেন গবেষকরা।
তবে অন্য কোনো এআই সিস্টেম যে একই প্রজেক্টে কাজ করছে সে বিষয়ে এদের কাউকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। এরপর টানা চার ঘণ্টা ধরে এসব ভিন্ন ভিন্ন সিস্টেমের আচরণ ও পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকরা।
এ গবেষণার ফলাফলে রক্তপাতহীন কিন্তু ভয়াবহ এক ‘মাল্টি-এজেন্ট সক্ষমতার লড়াই’ প্রত্যক্ষ করেছেন গবেষকরা।
পরীক্ষার সার্বিক পর্যালোচনায় অ্যানথ্রপিক বলেছে, “আমরা যে কয়টি মডেল নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছি তার প্রতিটিই দ্রুত ধরে নিয়েছে অন্যান্য সিস্টেম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এদের কাজে বাধা তৈরি করছে। ফলে এরা নিজেদের কাজ করার পাশাপাশি অন্যদের কাজ বানচাল করতে শুরু করে।
“সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের রূপ বদলাতে পারে এমন ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার তৈরি করে প্রতিপক্ষের ওপর আরও আগ্রাসী হামলা চালাচ্ছিল।”
সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এআই এজেন্টের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তার মধ্যেই নতুন এ গবেষণার তথ্য সামনে এল।
গেল মাসে ওপেনএআইয়ের একটি পরীক্ষামূলক সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য এক এআই কোম্পানির ওপর সাইবার হামলা চালালে বিষয়টি ব্যপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর জেরে পরবর্তীতে অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য কোম্পানিও নিজেদের একই রকম অভিজ্ঞতার কথা বলেছে।
সর্বশেষ এ পরীক্ষাটিতে কিছুটা ভিন্ন ধরনের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হলেও অ্যানথ্রপিক বলেছে, এ ধরনের স্বাধীন এআই এজেন্ট ভবিষ্যতে নিরাপত্তার ভিত্তি দুর্বল করে বড় ধরনের ঝুঁকি ও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
গবেষকেরা লিখেছেন, “মানুষের তুলনায় এআই এজেন্টদের কাজের ধরন অনেক আলাদা। এরা দীর্ঘ সময় ধরে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করতে, মুহূর্তের মধ্যে বড় তথ্যের ভাণ্ডার বুঝে নিতে ও যে কোনো সাধারণ মানুষের চেয়েও বহুগুণ বিস্তৃত জ্ঞান পেতে পারে।
“তবুও এরা কাল্পনিক বা ভুল তথ্য তৈরি এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিয়ম ভাঙার মেকানিজম বা রিওয়ার্ড হ্যাকিংয়ের মতো ত্রুটির মুখে পড়তে পারে। এআইয়ের লক্ষ্য ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হওয়ার পরও জটিল ও বাস্তবধর্মী বহুমুখী পরিবেশে এগুলো কীভাবে আচরণ করবে সে বিষয়ে আমাদের জ্ঞান এখনও খুবই সীমিত।
“এর বাইরে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ছোটখাটো আচরণের বিভিন্ন ত্রুটি পরবর্তীতে সম্মিলিতভাবে এক বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি তৈরি করতে পারে।”
অ্যানথ্রপিক বলেছে, তাদের সাম্প্রতিক এই গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, কীভাবে এসব স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ‘হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত ও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পদ্ধতিগত ব্যর্থতা তৈরি করতে পারে’। ‘এ ধরনের ঝুঁকিগুলো কমানোর উপায় নিয়ে খোলা আলোচনা শুরুর’ আশায় তারা এই গবেষণার তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করেছে।
এ পরীক্ষার মাধ্যমে উঠে এসেছে, সংকট সমাধানের সক্ষমতাও এসব এআই সিস্টেমের মধ্যে রয়েছে। কোম্পানিটির তথ্য অনুসারে, কিছু ক্ষেত্রে এসব এআই এজেন্ট ‘নিজেদের উদ্দেশ্য প্রকাশ ও সমন্বয় রক্ষা করতে পেরেছে’। এরা বুঝতে পেরেছিল, একত্রে কাজ করা এবং সংঘাত এড়িয়ে ‘পরিস্থিতির যেন অবনতি না ঘটে তা থামানো সম্ভব’।
এমন পরিস্থিতিতে এজেন্টগুলো একে অপরকে বার্তা পাঠিয়ে ‘এদের ক্ষতিকর বা আক্রমণাত্মক আচরণের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে এবং যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়’।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, “এরা নিজেদের তৈরি করা ক্ষতিকর কোড মুছে ফেলে ও বিরোধের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে বিষয়টি সমাধানের জন্য কোনো মানুষের হস্তক্ষেপ বা সহায়তা চেয়েছে।”
তবে এআই মডেলগুলো যত বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক হচ্ছে এদের এমন অপরাধমূলক আচরণ তত কমছে বিষয়টি কিন্তু তেমন নয়।
যেমন, অ্যানথ্রপিকের শক্তিশালী এআই মডেল ‘ক্লড মিথোস’ মডেলটি সংঘাত গঠনমূলকভাবে সমাধানের বদলে অন্য এজেন্টদের সফলভাবে সিস্টেম থেকে সম্পূর্ণ বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।
এ বিষয়ে সতর্ক করে কোম্পানিটি বলেছে, “কাজের সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা বিভিন্ন মডেল যে পারস্পরিক সমন্বয়েও ভালো হবে এমনটা বলা যায় না, বরং এগুলো অনেক সময় আরও দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।”