সাইবর্গের ধারণাটি পপ কালচার ও সাইফাই ঘরানায় এরইমধ্যে বেশ পরিচিত। একাধিক টিভি সিরিজের পাশাপাশি ‘টার্মিনেটর’ ও ‘রোবকপ’-এর মতো সিনেমাতেও এর দেখা মিলেছে।
Published : 21 Sep 2024, 03:19 PM
অস্ত্রোপচার করে চোখে বসানো এক অ্যান্টেনার মাধ্যমে সাইবর্গ বিকাশের ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন স্বঘোষিত এক ‘সাইবর্গ শিল্পী’।
সাইবর্গ বলতে এমন জীবন্ত প্রাণীকে বোঝায়, যার শরীরের অংশবিশেষ কৃত্রিম যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি। আর কম্পিউটারের মাধ্যমে এগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি হয়।
গত ২০ বছর ধরে নিজের ‘আইবোর্গ’ নিয়ে চলমান এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে চলেছেন বার্সেলোনায় জন্ম নেওয়া নিল হার্বিসন। তিনি একজন ‘কালার ব্লাইন্ড’ ব্যক্তি, যিনি জন্ম নিয়েছিলেন ‘অ্যাক্রোমাটোপসিয়া’ নামের বিরল এক রোগে আক্রান্ত হয়ে। সাধারণত প্রতি ৩৩ হাজার মানুষের মধ্যে একজন এ রোগে আক্রান্ত হন।
এর মানে, তিনি সবকিছুই দেখেন সাদা-কালো আর এর মাঝামাঝি নানা শেড-এ।
এর আগে ২০০৪ সালে অস্ত্রোপচার করে নিজের জীবন বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হার্বিসন। এতে তার ইন্দ্রীয়র সঙ্গে মাথার পেছনে থাকা একটি অ্যান্টেনার সংযোগ দেওয়া হয়, যা আলোক তরঙ্গকে শব্দে রূপান্তর করে।
এমনকি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসও তাকে প্রথম স্বীকৃত সাইবর্গ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এদিকে, তার সঙ্গে সাক্ষাতকে ‘খুবই বিস্ময়কর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্যারি বর্ন।
বর্নের পরবর্তী ধাপ ছিল হার্বিসনের সঙ্গে দেখা করা ও তাকে নিয়ে ‘সাইবর্গ: এ ডকুমেন্টারি’ শীর্ষক তথ্যচিত্র বানানো।
এই তথ্যচিত্রে হার্বিসন কীভাবে জীবনযাপন করেন ও তার শরীরে করা বিরল অস্ত্রোপচারের কেমন প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়গুলো তুলে এনেছেন নির্মাতা।
“তিনি নিজের ইন্দ্রীয়ের বিভিন্ন ঘাটতি পূরণের জন্য এ কাজ করেননি। বরং এর সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এমনটি করেছেন, ” বিবিসিকে বলেন বর্ন। “আর সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় মনে হয়েছে।”
শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যের প্লেমথ ইউনিভার্সিটি’র ‘সাইবারনেটিক্স’ বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম মন্টাডনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন হার্বিসন, যিনি তাকে হেডফোন, ওয়েবক্যাম ও ল্যাপটপ ব্যবহার করে বিভিন্ন রং ‘শোনার’ সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আলোক তরঙ্গকে শব্দে রূপান্তরের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াটি কাজ করে।
এ অভিজ্ঞতা সাদরেই গ্রহণ করেন হার্বিসন। শুধু তাই নয়, এ প্রযুক্তিকে নিজের শরীরের সঙ্গেও সমন্বিত করেন তিনি, যা এর আগে বেশ কয়েকবার নাকচ করে দিয়েছিল স্পেনের বিভিন্ন বায়োএথিকাল কমিটি।
পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের জন্য অপরিচিত কয়েকজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন তিনি, যেখানে তার মাথার খুলির পেছনের অংশ সরিয়ে এমনভাবে অ্যান্টেনা বসানো হয় যাতে সে অংশে আবারও হাড় গজাতে পারে।
নিজেকে ‘সাইবর্গ শিল্পী’ পরিচয় দেওয়া হার্বিসন বলেছেন, “আমার মনে হয় না আমি প্রযুক্তি ব্যবহার করছি।”
“বরং মনে হয় আমি নিজেই প্রযুক্তি।”
সাইবর্গের ধারণাটি পপ কালচার ও সাইফাই ঘরানায় এরইমধ্যে বেশ পরিচিত, যেখানে ‘ডক্টর হু’, ‘সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান’ ও ‘বায়োনিক ওম্যান’-এর মতো টিভি সিরিজের পাশাপাশি ‘টার্মিনেটর’ ও ‘রোবকপ’-এর মতো সিনেমাতেও এর দেখা মিলেছে।
এ তথ্যচিত্রে হার্বিসন ব্যাখ্যা করেন, অস্ত্রোপচারের পর টানা পাঁচ সপ্তাহ মাথা ব্যাথায় ভুগেছেন তিনি। আর ওই অ্যান্টেনার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সময় লেগে গিয়েছিল প্রায় পাঁচ মাস।
বর্ন বলছেন, এ প্রক্রিয়ার পর তিনি বিষণ্ণ হয়ে পড়েছিলেন। কারণ, এতে তার মাথার খুলিতে ছিদ্র করতে ৬০ ও ৭০’র দশকের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ‘ট্রেপ্যানিং’ নামে পরিচিত।
এ তথ্যচিত্রে আরও দেখা গেছে, তার এমন রূপ নিয়ে অন্যরা জিজ্ঞেস করলে তিনি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখান। এ ছাড়া, নিজের রঙের ধারণার ওপর ভিত্তি করে তাকে বিভিন্ন শিল্পকর্ম তৈরি করতেও দেখা যায় এতে।