১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাইন্যান্স প্রতিষ্ঠাতাকে ‘ক্ষমা’ করে ট্রাম্প বললেন, ‘কোনো অপরাধ সে করেনি’

ট্রাম্প প্রশাসন যে ক্রিপ্টো শিল্পের ওপর নজরদারি ও চাপ কমানোর দিকে ঝুঁকছে, এ ঘটনায় তারই ইঙ্গিত মিলছে।

বাইন্যান্স প্রতিষ্ঠাতাকে ‘ক্ষমা’ করে ট্রাম্প বললেন, ‘কোনো অপরাধ সে করেনি’
ক্রিপ্টোকারেন্সি দুনিয়ায় সবচেয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের একজন ঝাও। নামের অদ্যক্ষর অনুযায়ী অনেকে তাকে চেনেন ‘সিজেড’ নামে। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Oct 2025, 04:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:32 PM

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাওকে ‘ক্ষমা’ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, “নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে ঝাওকে ক্ষমা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বাইডেন প্রশাসন ক্রিপ্টোকারেন্সির বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধের অংশ হিসেবে ঝাওকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।”

এখন ট্রাম্পের আমেরিকায় সেই যুদ্ধের ‘অবসান’ হওয়ার কথা বলা হয়েছে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সালের শেষ দিকে অপরাধ স্বীকার করে নেন ঝাও। বাইন্যান্সের সিইও পদ থেকেও তিনি সরে দাঁড়ান। 

ওই অভিযোগের মীমাংসায় ৪৩০ কোটি ডলার জরিমানা দিয়েছিল বাইন্যান্স। মার্কিন আদালতে ঝাওয়ের চার মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল।

ক্রিপ্টোকারেন্সি দুনিয়ায় সবচেয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের একজন ঝাও। নামের অদ্যক্ষর অনুযায়ী অনেকে তাকে চেনেন ‘সিজেড’ নামে।পাশাপাশি তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী।

বাইন্যান্সকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ হিসেবে গড়ে তুলেছেন ঝাও। তবে ২০২৩ সালে দোষ স্বীকারের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাইন্যান্স নিষিদ্ধ।

কয়েক মাসের জল্পনা আর তদবিরের পর ট্রাম্পের এই ক্ষমার ঘোষণা ঝাও ও বাইন্যান্সের জন্য বড় এক জয় হয়ে এল। ট্রাম্প প্রশাসন যে ক্রিপ্টো শিল্পের ওপর নজরদারি ও চাপ কমানোর দিকে ঝুঁকছে, এ ঘটনায় তারই ইঙ্গিত মিলছে।  

আর এমন এক সময় ঝাওকে ক্ষমা করেলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যখন তিনি এবং তার পরিবার নিজেরাই শত কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন।

বাইন্যান্সের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, “সিজেডকে ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়টি সত্যিই দারুণ খবর। আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার নেতৃত্বের জন্য এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী বানানোর প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানাই।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে এই ক্ষমার প্রসঙ্গও আসে। বিষয়টিকে অতটা গুরুত্ব না দেওয়ার ভাব দেখিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ঝাওকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আপনি কি সেই ক্রিপ্টো লোকটার কথা বলছেন? অনেকেই আমাকে বলেছে, সে কোনো অপরাধ করেনি। অনেকে আমাকে বলছে, সে যা করেছে সেটা কোনো অপরাধ ছিল না। এটা কোনো অপরাধই নয়। তারা বলেছে, বাইডেন প্রশাসন তার (ঝাও) ওপর নির্যাতন করেছে। তাই অনেক ভালো মানুষদের অনুরোধে আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।”

মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ বছরের শুরুর দিকে এক প্রতিবেদনে লিখেছিল, বাইন্যান্সের যুক্তরাষ্ট্রে শাখায় শেয়ার কেনার বিষয়ে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসার প্রতিনিধিরা।

তবে ঝাও দাবি করেছেন, ক্ষমার বিনিময়ে কোনো চুক্তি করার চেষ্টা তিনি করেননি। 

ট্রাম্প পরিবারের ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ ক্রিপ্টো ব্যবসার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে বাইন্যান্স।

এ বছরের শুরুতে বাইন্যান্স আমিরাতের এক বিনিয়োগ তহবিল থেকে ২০০ কোটি ডলারের একটি লেনদেন অনুমোদন করে। আর ওই লেনদেন হয়েছিল ট্রাম্প পরিবারের ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’-এর তৈরি ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে। 

বাইন্যান্সের ওই পদক্ষেপ ট্রাম্প পরিবারের ডিজিটাল মুদ্রাকে বৈধতা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্যও অনেক লাভজনক প্রমাণিত হয়।

বাইন্যান্সের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, তার অভিযোগ ছিল, এই ক্রিপ্টো কোম্পানি এক লাখের বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দেয়নি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আল-কায়দা ও হামাসের সঙ্গে জড়িত লেনদেনও ছিল।

মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও ২০২৩ সালে বাইন্যান্সের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করেছিল। তবে এ বছরের শুরুতে ট্রাম্প দ্বিতীয়ে মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সেই মামলা দ্রুত তুলে নেওয়া হয়।