১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এআইয়ের স্বার্থে নোবেলজয়ী প্রযুক্তি বিভাগ ভেঙে দিল গুগল

আলফাফোল্ড প্রকল্পে অবদানের জন্য ২০২৪ সালে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল জেতেন ডিপমাইন্ডের সিইও ডেমিস হাসাবিস ও কোম্পানিটির গবেষক জন জাম্পার।

এআইয়ের স্বার্থে নোবেলজয়ী প্রযুক্তি বিভাগ ভেঙে দিল গুগল
২০১৮ সালে আলফাফোল্ড তৈরির কাজ শুরু করেছিল গুগল ডিপমাইন্ড। ছবি: গুগল

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2026, 11:26 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

এআই মডেল জেমিনাই উন্নয়নে পুরো শক্তি ঢেলে দিতে রসায়নে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত গুগল ডিপমাইন্ডের প্রোটিন গবেষণা প্রকল্প আলফাফোল্ড-এর দল ভেঙে দিয়েছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল।

এ দলটির মূল গবেষকদের একটি অংশকে নতুন প্রকল্পে সরানো হয়েছে এবং অনেকেই এরইমধ্যে কোম্পানিটি ছেড়েছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

এ খবর প্রথম প্রকাশ করেছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

এফটি প্রতিবেদনে লিখেছে, এআইচালিত প্রোগ্রাম আলফাফোল্ড প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিড সিকোয়েন্স বা বিন্যাস থেকে কেবল কয়েক মিনিটের মধ্যে থ্রিডি গঠন নিখুঁতভাবে পূর্বাভাস দিতে পারে, যা প্রচলিত উপায়ে নির্ধারণ করতে বছরের পর বছর লেগে যেত।

বর্তমানে ওষুধ উদ্ভাবনের গতি বাড়াতে, টিকা তৈরিতে ও অ্যালঝেইমার ও পারকিনসন্সের মতো নিউরোডিজেনারেটিভ রোগে প্রোটিনের গাঠনিক পরিবর্তন বুঝতে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে আলফাফোল্ড।

২০১৮ সালে আলফাফোল্ড তৈরির কাজ শুরু করেছিল গুগল ডিপমাইন্ড। পরবর্তীতে ২০২০ সালে আলফাফোল্ড মানবজাতির ৫০ বছরের পুরানো ‘প্রোটিন ফোল্ডিং সমস্যা’র চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

অ্যামিনো অ্যাসিড কীভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিল থ্রিডি আকার ধারণ করে এবং সেই আকৃতি কীভাবে প্রোটিনের জৈবিক ভূমিকা নির্ধারণ করে তা বের করাই ছিল এ গবেষণার মূল লক্ষ্য।

এক্স-রে ও নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্সের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা গত ৫০ বছরে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার প্রোটিনের গঠন শনাক্ত করতে পেরেছিলেন।

আলফাফোল্ডের দল সেই আগের সব তথ্য সংগ্রহ করে তা নিজেদের এআই মডেলে ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করে এবং আলফাফোল্ডকে প্রশিক্ষিত করে তোলে।

২০২১ সালে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ আলফাফোল্ডের কার্যপদ্ধতি ও মানবদেহের সম্পূর্ণ প্রোটিন সেট বা ‘হিউম্যান প্রোটিওম’-এর থ্রিডি গঠন সম্পর্কিত গবেষণাপত্র প্রকাশিত পায়।

এরপর ডিপমাইন্ড ‘আলফাফোল্ড প্রোটিন স্ট্রাকচার ডেটাবেইস’ চালু করে, যার মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো গবেষক ফ্রিতে প্রায় ২০ কোটি প্রোটিনের কাঠামোগত পূর্বাভাস ব্যবহারের সুযোগ পান।

পরবর্তীতে আলফাফোল্ড প্রকল্পে যুগান্তকারী অবদানের জন্য ২০২৪ সালে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জেতেন ডিপমাইন্ডের সিইও ডেমিস হাসাবিস ও কোম্পানিটির গবেষক জন জাম্পার, যিনি কোম্পানিটিতে প্রাথমিক পর্যায়ে স্টাফ রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে ভিপি পদে উন্নীত হয়েছিলেন।

এ বছরের জুনে জন জাম্পার ডিপমাইন্ড ছেড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার পথ ধরে আরও কয়েকজন সহকর্মী অ্যানথ্রপিকে পাড়ি জমিয়েছেন।

অন্যদিকে গুগল ডিপমাইন্ড বলেছে, তারা দলের অনেক সদস্যকে অভ্যন্তরীণভাবে নিজস্ব এআই মডেল ‘জেমিনাইকেন্দ্রিক’ প্রকল্পে স্থানান্তরিত করেছে। কিছু সদস্যকে অ্যালফাবেটের ওষুধ উদ্ভাবনী কোম্পানি ‘আইসোমরফিক ল্যাবস’-এ পাঠানো হয়েছে, যা ডিপমাইন্ডেরই সহযোগী কোম্পানি।

এফটি প্রতিবেদনে বলেছে, এ পদক্ষেপ গুগলের জেমিনাই এআই মডেল উন্নয়নে সব শক্তি ও সম্পদ কেন্দ্রীয়ভাবে ঢেলে দেওয়ার কৌশলেরই অংশ।

গুগল ডিপমাইন্ডের গবেষণা বিভাগের ভিপি পুশমিত কোহলি বলেছেন, “গেল নয় বছর ধরে আমাদের কৌশল ছিল বড় বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ ঠেকানো... যেখানে প্রতিটি প্রজেক্ট নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করত। তবে এখন সেই কৌশলে পরিবর্তন এসেছে।”