১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মানুষের মুখের ভাষা পড়তে পারে কুকুর, বলছে গবেষণা

কুকুর মানুষের মুখের বিভিন্ন নেতিবাচক অভিব্যক্তিগুলোর মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যও স্পষ্টভাবে আলাদা করতে পারে।

মানুষের মুখের ভাষা পড়তে পারে কুকুর, বলছে গবেষণা
কুকুরের মস্তিষ্কে এই ধরনের সক্ষমতার উপস্থিতি পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। ছবি:  ম্যাগনিফিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2026, 02:19 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

মানুষের মুখের হাসি, রাগ বা কষ্টের অভিব্যক্তি আলাদা করতে পারে দীর্ঘদিনের অনুগত সঙ্গী কুকুর। মানুষের ভাবভঙ্গি ও আবেগ আলাদাভাবে চিনে নেওয়ার বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে কুকুরের মস্তিষ্কে– এমনই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

অস্ট্রিয়ার ‘ইউনিভার্সিটি অফ ভিয়েনা’র এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের দাবি, কুকুরের মস্তিষ্কে এই ধরনের সক্ষমতার উপস্থিতি পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

সোমবার গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সেল প্রেস’-এর ‘আইসাইন্স’ সাময়িকী।

মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘ইউনিভার্সিটি অফ ভিয়েনা’ বলেছে, গবেষণায় ১২টি কুকুরের মস্তিষ্কের স্ক্যান পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। স্ক্যান চলাকালে কুকুরগুলোর সামনে মানুষের বিভিন্ন অনুভূতির ছবি দেখানো হয়েছিল।

গবেষণায় উঠে এসেছে, অপরিচিত কোনো মানুষের হাসিমুখ বা আনন্দের ছবি দেখার সময় কুকুরের মস্তিষ্কের উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তিক অনুভূতি ও পুরস্কার পাওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যোগ নির্দিষ্ট অংশ, যেমন ‘টেম্পোরাল কর্টেক্স’ ও ‘কডেট নিউক্লিয়াস’ সক্রিয় হয়ে ওঠে।

তবে রাগ, ভয় বা বিষাদের ছবি দেখানোর সময় মস্তিষ্কের ওইসব অংশ সক্রিয় হয়নি। অবশ্য কুকুরের পুরো মস্তিষ্কের স্নায়বিক বিন্যাস পর্যবেক্ষণের পর গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, রাগ, ভয় ও বিষাদের ছবির ক্ষেত্রে কুকুরের মস্তিষ্কে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সংকেত তৈরি হচ্ছে।

গবেষণার এসব ফলাফলে ইঙ্গিত মিলেছে, কুকুর মানুষের মুখের বিভিন্ন নেতিবাচক অভিব্যক্তিগুলোর মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যও স্পষ্টভাবে আলাদা করতে পারে।

এ গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক লরা কুয়ায়া বলেছেন, “আমাদের মুখের অভিব্যক্তি বোঝা ও আমাদের সঙ্গে সহযোগিতার সক্ষমতা নিয়েই কুকুরদের বিবর্তন ঘটেছে। তাদের এ সক্ষমতার কথা অনুধাবন করতে পারলে তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও পরিচর্যার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।”

গবেষকদের পরবর্তী পরিকল্পনা হচ্ছে, আশপাশের মানুষকে বোঝার জন্য কুকুর কীভাবে মুখের অভিব্যক্তির পাশাপাশি দেহের ভাষা, কণ্ঠস্বরের সূক্ষ্ম তারতম্য ও গন্ধের মতো অন্যান্য উপাদানকে কাজে লাগায় তা বোঝা।

সেইসঙ্গে মানুষ ও কুকুরের মস্তিষ্ক কীভাবে একই ধরনের আবেগের সংকেতগুলো প্রক্রিয়া করে তার একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণের কথাও বলেছেন তারা।

গবেষকরা বলছেন, এ গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি কুকুরই ছিল ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা পোষা প্রাণী। ফলে এমন ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশের বাইরে থাকা অন্য কুকুরের ক্ষেত্রে মানুষের আবেগ বা সংকেত বোঝার প্রতিক্রিয়া কিছুটা ভিন্নও হতে পারে।