মেমরি চিপ উৎপাদনে স্যামসাং আর শীর্ষ আয়ের কোম্পানি নয়
উচ্চ-ব্যান্ডউইথ মেমোরির অন্যতম বড় ক্রেতা মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া’র সঙ্গে প্রত্যাশিত সফলতা পায়নি স্যামসাংয়ের বিভিন্ন এইচবিএম চিপ।
বছরের পর বছর ধরে রাজস্বের দিক থেকে শীর্ষ মেমোরি নির্মাতার স্থান ধরে রেখেছিল স্যামসাং। উচ্চ-ব্যান্ডউইডথ মেমোরি নিয়ে সমস্যা ও চীনে লিগ্যাসি পণ্যের বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে এবার নিজের সিংহাসন হারাল দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিটি।
প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট স্যামমোবাইল প্রতিবেদনে লিখেছে, স্যামসাংয়ের স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ‘এসকে হাইনিক্স’ নিজেদের ‘হাই ব্যান্ডউইডথ মেমরি’ বা এইচবিএম বিক্রির মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উত্থানকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে। ফলে স্যামসাংয়ের সিংহাসন দখল করে প্রথমবারের মতো আয় অনুসারে বিশ্বের শীর্ষ মেমোরি উৎপাদক হয়েছে উঠেছে ‘এসকে হাইনিক্স’।
এদিকে, নিজেদের অবস্থান ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পরবর্তী প্রজন্মের নতুন প্রযুক্তির দিকে মনোযোগ দিয়েছে স্যামসাং।
২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শীর্ষ স্থান দখল করেছে এসকে হাইনিক্স। মেমোরি বিক্রি থেকে নয়শ ৬৬ কোটি ডলার আয়ের পাশাপাশি বাজারের ৩৬ দশমিক দুই শতাংশ দখল করেছে কোম্পানিটি। অন্যদিকে আটশ ৯৪ কোটি ডলার আয় ও ৩৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ বাজার শেয়ার নিয়ে খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না স্যামসাং।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্যামসাংয়ের শাসনকাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে এই আয়ের হিসাব। কারণ স্যামসাংয়ের মেমোরি ব্যবসার সামনে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো এ সূচকে স্যামসাংকে ছাড়িয়ে গেল এসকে হাইনিক্স।
উচ্চ-ব্যান্ডউইথ মেমোরির অন্যতম বড় ক্রেতা মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া’র সঙ্গে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি স্যামসাংয়ের বিভিন্ন এইচবিএম চিপ। অন্যদিকে এ খাতে আগ্রাসীভাবে প্রবেশ করে শেষ পর্যন্ত এনভিডিয়ার প্রধান সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে এসকে হাইনিক্স।
শুরুর দিকে এনভিডিয়া নিজেদের ‘আরটিএক্স৫০’ গ্রাফিক্স কার্ডে স্যামসাংয়ের ‘জিডিডিআর৭’ চিপ ব্যবহার করলেও পরে এসকে হাইনিক্স’কে তাদের সরবরাহ চেইনে যোগ করে মার্কিন কোম্পানিটি।
ধারণা করা হচ্ছে, আগ্রাসীভাবে নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মের ‘এইচবিএম৪’ নামের মেমোরি চিপের উন্নয়নে কাজ করছে স্যামসাং। যাতে হারানো অবস্থান ফেরাতে পারে কোম্পানিটি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ খাতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এসকে হাইনিক্সও।
ভবিষ্যতে এ দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাবে এবং এতে করে বৈশ্বিক মেমোরি বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার নেতৃত্ব বজায় থাকবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে স্যামমোবাইল।
